ক্যান্সার প্রতিরোধে রসুন
ইতঃপূর্বেও রসুনের এই গুণটি সম্পর্কে জানা গেছে। ল্যাবরেটরি গবেষণায় দেখা যায়, রসুনে রয়েছে এলিলিক সালফাইড। এটি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রহিত করতে এবং এই কোষকে মেরে ফেলতেও সক্ষম। রসুন কাঁচা খেলে এই কার্যকারিতার পুরোটাই পাওয়া সম্ভব হতে পারে। কিন্তু কাঁচা রসুন যেহেতু বেশ ঝাঁঝালো, তাই রান্না করে খেতেই সবাই পছন্দ করেন। রান্না করলে এর উপকারী পদার্থের অনেকটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই রান্না করার আগে একে কুচিকুচি করে কেটে অথবা ছেঁচে অন্তত ১০ মিনিট রেখে দিন। ফলে যে এনজাইমটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকত সেটা নষ্ট হবে না।

পেটের অসুখে পুঁদিনা
পুঁদিনা আজো বহুল ব্যবহৃত ঔষধি গাছের একটি। প্রাচীনকালে মিসরীয়রা এটি পেটের অসুখে ব্যবহার করতেন। আজো পেটের অসুখ যেমন­ পেটের ‘কলিক ব্যথা’, বমির ভাব, হেঁচকি এবং ডায়রিয়ার প্রতিকারে পুঁদিনা ব্যবহৃত হয়। তাইওয়ানিজ গবেষকদের একটি গবেষণা হয়েছে এ বিষয়ে। তারা ১১০ জন আইবিএস’র (ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম) রোগীকে ০.২ মিলি পুঁদিনার তেল অথবা প্লেসকো দৈনিক ৩-৪ বার খেতে দিন। এক মাস পর দেখা যায়, যারা পুঁদিনার তেল গ্রহণ করেছিল তারা পেটে ব্যথার ৭৯ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছেন।

অপর দিকে যারা প্লেসকো গ্রহণ করেছিলেন তারা মাত্র ৪৩ শতাংশ ব্যথা কমাতে সক্ষম হয়েছেন। অন্য একটি গবেষণা থেকে বেরিয়ে এসেছে, পুঁদিনার তেল অন্ত্রের মসৃণ পেশিকে প্রসারিত করে। ফলে পেটে ব্যথা, ব্লটিং এবং গ্যাসের হাত থেকে বাঁচায়। এটি পিত্তরস নিঃসরণ বাড়ায় বলে পিত্তথলির সমস্যায় ভুগছেন এমন কারো এটি খাওয়া ঠিক নয়।

রোগ সারাতে ম্যাসাজের গুরুত্ব
প্রাচীনতম চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে ম্যাসাজ অন্যতম। ম্যাসাজের মাধ্যমে স্নায়ুর উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং শরীরে আরামদায়ক সুখানুভূতির সৃষ্টি হয়। তবে অধিক জোর খাটিয়ে ম্যাসাজ করা উচিত নয় তাতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে এবং ব্যথা হতে পারে। ম্যাসাজের মাধ্যমে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, মাংসপেশি শিথিল হয়ে ব্যথা আরাম হয় ফলে টেনশন, ডিপ্রেশন কমে যায়। শীতকালে ত্বক কোমল, তরতাজা এবং মসৃণ রাখতে ভিটামিন এ, ডি সমৃদ্ধ তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে আলতোভাবে ম্যাসাজ করতে হয়। ম্যাসাজের মাধ্যমে ত্বক চর্মরোগ থেকে মুক্ত থাকে। গরমকালে পাউডার দিয়ে ম্যাসাজ করলে দেহে শীতল অনুভূতি হয় এবং অস্বস্তি ভাব দূর হয়। ম্যাসাজ করার ফলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতে পারে না এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। গর্ভকালীন শেষের ২ মাস হাল্কা ম্যাসাজ করলে শরীরে ফ্লুইড রিটেনশন কম হয় এবং অবসাদ দূর হয়। এক কথায় শারীরিক এবং মানসিক রিলাক্সের জন্য ম্যাসাজ উপকারী।

গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতায় গর্ভবতীর ব্যায়াম
গর্ভস্থ শিশুর সঠিক দৈহিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন গর্ভবতীর যথাযথ শারীরিক চর্চা। ফলে এক দিকে যেমন মায়ের ফুসফুসের মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশু প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পেয়ে যায়, অপর দিকে মায়ের দেহে সুখানুভূতির আবেশ বয়ে যায় অ্যান্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসরণের ফলে। গর্ভকালীন সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ ব্যায়াম হলো দু’টি। এক. সোজা হয়ে দ্রুত হাঁটা, দুই. ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম। ব্রিদিং এক্সারসাইজের নিয়ম হলো সোজা হয়ে বসে কিংবা চিৎ হয়ে শুয়ে প্রথমে নাক দিয়ে বুকভরে শ্বাস নিয়ে যতক্ষণ সম্ভব শ্বাস আটকে রাখতে হয়। তারপর নিঃশ্বাস ছাড়তে হয় ধীরে ধীরে। এভাবে মুক্ত বায়ুতে সকাল-বিকেলে পাঁচ-ছয় বার করলেই হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের এই ব্যায়ামের প্রথম থেকে অভ্যস্থ হতে পারলে পরে প্রসবের কাজ সহজে কম ব্যথাতে সম্পন্ন হয়।

**************************
ডা. সুমাইয়া নাসরিন
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২৬ অক্টোবর ২০০৮।