অন্ডকোষের সমস্যা
পরামর্শ দিয়েছেন
অধ্যাপক ডা: এম এ সালাম
অধ্যাপক, ইউরোঅনকোলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

সমস্যাঃ আমার বয়স ৬০ বছর। চার বছর আগে আমি পুরুষাঙ্গের ডান পার্শ্বে ভেরিকোসিল রোগে আক্রান্ত হই। দুই বছর আগে চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভেরিকোসিল অপারেশন করিয়ে নিই। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। অপারেশনের আগে যে অসুবিধা ছিল বর্তমানেও তা-ই। বর্তমানে ডান অণ্ডকোষ বাঁ অণ্ডকোষের চেয়ে সামান্য একটু বড় এবং এটাতে সব সময় ব্যথা করে। আলট্রাসাউন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী ডান অণ্ডকোষের মাপ প্রায় ৩.২ী১.৬ সেমি এবং বাম অণ্ডকোষের মাপ প্রায় ২.৬ী১.৫ সেমি। বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনেক ওষুধ সেবন করেও ডান অণ্ডকোষের বড়ত্ব ও ব্যথা নিরাময় হচ্ছে না। সঙ্গে পুরুষাঙ্গের ডান দিকেও ব্যথা করে। বাম পার্শ্বে কোনো ব্যথা নেই। আমার কোনো ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ নেই। আমার ডান অণ্ডকোষের বড়ত্ব ও ব্যথার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ কামনা করছি। আশা করি পরামর্শ দেবেন।
শাসসুল হুদা, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম

পরামর্শঃ আপনার সমস্যাটি হচ্ছে ক্রনিক অরকালজিয়া। আর এর উপসর্গটি হচ্ছে ক্রনিক জেনিটাল পেইন। এটা জীবনসংহারক রোগ নয়। তাই খুব বেশি দুশ্চিন্তা করবেন না। আসলে এ ধরনের সমস্যা অপারেশনের পরও খুব অল্প সময়ে ভালো হতে চায় না। তবে তার অর্থ এই নয় যে সারাজীবনই এটা বয়ে বেড়াতে হবে। সাধারণ মূত্রতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা ওষুধপত্রের একটা কনজারভেটিভ চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। যেমন ব্যথানাশক ও বিভিন্ন ধরনের ট্রাংকুলাইজার ও যেসব ওষুধ মূত্রনালি ও মূত্রথলির সংকোচন-প্রসারণ কমায়। আপনার যে অপারেশন করা হয়েছিল তা ঠিকই ছিল। তখন কনজারভেটিভ ট্রিটমেন্ট ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা করতে গেলে দেখতে হবে আপনার অন্য কোনো সেকেন্ডারি ধরনের সমস্যা আছে কি না। যেমন অণ্ডকোষে হঠাৎ পানি আসা কিংবা প্রদাহ হওয়া প্রভৃতি। আপনি অভিজ্ঞ মূত্রতন্ত্র বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসা নিন।

শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা
পরামর্শ দিয়েছেন
অধ্যাপক ডা: মো: আলী হোসেন
মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা

সমস্যাঃ আমার বয়স ২৪ বছর, ওজন ৪৮ কেজি। অবিবাহিত। ২০০১ সালে আমার যক্ষ্মা হওয়ায় তখন টানা সাত মাস ওষুধ খেয়ে আমি ভালো হই। সাত মাস পর আবার কাশি শুরু হলে চিকিৎসক আমাকে কিছু টেস্ট করিয়ে যক্ষ্মা না ধরা পড়লেও আবার যক্ষ্মার ওষুধ খেতে দেন এবং চার মাসেও কাশির কোনো পরিবর্তন না হলে আমি অন্য চিকিৎসক দেখাই। তখন কফ ভ্যারিয়েন্ট অ্যাজমা ধরা পড়ে। তখন চিকিৎমকের পরামর্শে ছয় মাস ইনহেলার ব্যবহার করে সুস্থ হই। এর দুই বছর পর আমার কাশির সঙ্গে কিছুটা রক্ত এলে আমি চিকিৎসক দেখালে তিনি এক্স-রের রিপোর্ট দেখে বলেন, যক্ষ্মা হয়নি এবং কিছু ওষুধ দিলে ভালো হই। আমি লক্ষ করছি কয়েক দিন গলাব্যথা, সর্দি-কাশি হলে আমার কাশির সঙ্গে সকালে হঠাৎ এক-দুবার সামান্য রক্ত আসে এবং অ্যান্টিহিস্টামিন ও অ্যান্টিবায়োটিক খেলে ভালো হয়ে যাই। আমার জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ নেই এবং আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করছি। আমার এটা কেন হচ্ছে এবং আমি কী করব জানালে উপকৃত হব।
সুলতানা, ময়মনসিংহ

পরামর্শঃ আপনি যক্ষ্মার চিকিৎসা করিয়েছেন কিন্তু শরীরের ওজন অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করেছেন কি না তা জানাননি। যদি সঠিক ওষুধ সঠিক মাত্রায় না হয় তবে ফুসফুসের যেখানে যক্ষ্মা হয় সেখানে পরবর্তী সময় কিছু স্থায়ী পরিবর্তন হয়। একে আমাদের ভাষায় পালমোনারি ফাইব্রোসিস বা ব্রংকিয়াকটেসিস বলে। এ রোগে আপনার বর্ণনামতো মাঝেমধ্যে কাশির সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

এ জন্য বুকের সিটিস্ক্যান করে দেখতে হয় যে ফুসফুসের ওই আক্রান্ত স্থানে এ ধরনের স্থায়ী পরিবর্তন হয়েছে কি না।

যদি এ ধরনের ব্রংকিয়াকটেসিস অথবা ফাইব্রোটিক পরিবর্তন দেখা যায় এবং সেটা যদি ফুসফুসের একটা নির্দিষ্ট স্থানে সীমিত আকারে থাকে, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বক্ষ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে অপারেশনের মাধ্যমে স্থায়ী মুক্তি পেতে পারেন।
কিন্তু যদি উভয় ফুসফুসে থাকে এবং বেশি জায়গাজুড়ে পরিবর্তন দেখা যায়, তবে কনজারভেটিভ মেডিকেল চিকিৎসায় আপনাকে ভালো থাকতে হবে।

**************************
প্রথম আলো, ২২ অক্টোবর ২০০৮