হার্ট স্মার্ট জীবনযাপন। তেমন কঠিন নয়। প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুণ সুস্থ হৃদপিণ্ডের জন্য। এ জন্য যে বাড়তি কাজ অনেক বাড়বে তাও নয়, খরচও তেমন বাড়বে, তাও নয়। কেমন হতে পারে হার্টস্মার্ট জীবন? বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন? প্রচন্ড না রেগে হেসে উড়িয়ে দিন। আরও আছে। রাতে আহারের পর একটু হাটাহাটি করুণ। গেমশো সে সময় না দেখে হাঁটুন। স্মার্টনেসের মানে হল খাবার শেষে পায়েস পরমান্ন বা রসগোল্লা না খেয়ে আপেল কচ্‌কচ্‌ করে চিবিয়ে খান। রাতে ১১টার খবর সোফায় বসে চিপস্‌ চিবুতে চিবুতে না দেলে হয় না? এর পরিবর্তে সোফায় আধসোয়া হয়ে জীবনসঙ্গীকে জড়িয়ে ধরে ঘরে বানানো ঘোলের শবরত বা বেলের শরবত চুমুকে চুমুকে পান করলে অনেক স্মার্ট কাজ হবে। সকালে পার্কে হাঁটতে এসে ৫ মিনিট’মত স্ট্রেংথ ট্রেনিং ব্যায়াম করা ভালো।

কম্পিউটার-এ ইমেইল এলার্টের শব্দ শুনে লাফাবেন কেন? বরং কয়েক সেকেণ্ড চোখ বুঁজে ধ্যান করুন। এরপর কম্পিউটার চাবি টিপুন।

০ পরামর্শ হলঃ দিনে মাত্র ৩০ মিনিট ব্যয়করে হৃদপিণ্ডের জন্য বড় বড় হুমকি যেমন পেটে চর্বি জমা, রক্তে কোলেস্টেরোল বাড়া, উচ্চরক্তচাপ ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ফ্রি রেডিকেলস এবং হোমোসিসটিন, এলপিত্র’র মত অনেক অনেক ঝুঁকি অতিক্রম করার জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।

০ আছে পরিকল্পনাঃ

০ ছোটখাট পরির্তনের দিকে নজর দিন বড় রকমের ফলাফলের জন্য। খাদ্যে দ্রুত ছোটখাট পরিবর্তন করলে কোলেস্টেরোল কমানো যায় ৩০% পর্যন্ত। দিনে ৫ মিনিট ব্যায়াম করলে অনেক বড় কাজ হয়।

০‘বসেথাকা’ রোগ বা উপবেশন-রোগ (Siting Disease) কে জয় করুন। আমেরিকার লোকজন নাকি দিনে ২২ ঘন্টা বসে বা শুয়ে কাটায় এমন কথা শোনা যায়। এ দেশেও উচ্চবিত্তদের মধ্যে এমন প্রবণতা আরো বেড়েছে। অনেক সময় যন্ত্রনির্ভর জীবনেঅনেকে বসে জীবন যাপন করছেন। দিন যতই ব্যস্ত হোক, যতবেশি যানজট হোক, যতবেশি সময় যানবাহনে বসে থাকতে হোক, জীবনে আবার স্বাস্থ্যকর সক্রিয় জীবন চর্চা কি করে ফিরিয়ে আনা যায় তা ভাবা উচিত।

৩। তাজা খাবার গ্রহণ করুনঃ

বলা সোজা, মানা কঠিন- এ কথা মেনেই বলছি, যতদূর সম্ভব টাটকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কাঁচা বাজারে সওদা করতে হবে, তাজা ফল, শাকসবজি, মাছ, মাংস, শস্য, দুধ কেবল যে স্বাদু তাই নয় , হৃদপিণ্ডেরও সুরক্ষা করে, রক্তের চর্বি কমাবে, রক্তের সুগার সুস্থিত রাখবে, প্রদাহ প্রশমিত করবে, বিধ্বংসী ফ্রি রেডিকেলদের দমন করবে।

৪। টেস্টের ফলাফল জানুনঃ

রক্তচাপ কত, রক্তের কোলেস্টেরোল, সুগার, ক্রিয়েটিনিন, দেহের ওজন, কোমরের মাপ-এ সব জানা উচিত।

৫। বিষ বর্জন করুনঃ

তামাক থেকে শুরু করে ট্যান্স ফ্যাট থেকে কোমল পানীয়।

৬। আনন্দ খুঁজে নিন।

মনে বিরূপ ভাব, বিদ্বেষ, হিংসা থাকলে, পরছিদ্রাম্বেষী হলে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে, গবেষকরা বলেন। ক্ষমা, বন্ধুত্ব, আশাবাদী মনোভাব সুস্থ হৃৎপিণ্ডের ভিত্তি। হৃৎপিণ্ডের জন্য হুমকি এমন ব্যক্তিত্ব নিজের আছে কি? খোজা উচিত এবং থাকলে তা বদলে আনন্দময় জীবন যাপনে প্রচেষ্টা চালানো উচিত।

**************************
অধ্যাপক সুলতান চৌধুরী
বারডেম, ঢাকা।
Subhagata @msn-com
দৈনিক ইত্তেফাক, ০১ নভেম্বর ২০০৮