তরুণদের কেন এই বিয়ে ভীতি
বেশ কিছুদিন ধরে ভাবছি হেল্প লাইন কলামে অন্য কিছু বিষয় নিয়ে লিখবো। লেখার বিষয় ব‘ও অনেকাংশে ঠিক আছে। কিন্তু নারী-পরুষের শারীরিক সমস্যা নিয়ে লেখা মাঝে রমযানে বন্ধ রাখি। তাতেই প্রায় শতাধিক চিঠি, অনেক ফোন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা এ কলামটির পাঠক। আমি সব সময় হালকাভাবে লিখতে চেষ্টা করি। হালকা বিষয়ের ওপর লিখি। পাঠক পড়বে না এমন সিরিয়াস ইস্যু কখনও লিখেছি বলে মনে পড়ে না । যাহোক, আজ একটা ভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখতে চাই। ইদানিং অনেক অবিবাহিত তরুণ-যুবকরা জানতে চান কেমন ধরণের পাত্রী চাই। বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াসলি কখনও জবাব দেইনি। তবে ইদানিং কয়েকটা ঘটনা বিশেস্নষণ করতে গিয়ে সামাজিক কিছু রীতি অনুসরণের গুরুত্ব অনুধাবন করার প্রয়োজনীতা এখনও আছে বলে মনে হয়। এখনও অনেক পরিবার ছেলে-মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে উভয় পরিবারের অবস্থান, সামাজিক অবস্থা, শিক্ষা, বয়স, সৌন্দর্য, আচার-ব্যবহার, শ্রদ্ধাবোধ নানা বিষয়ের পর্যলোচনা করেন। আজকাল ছেলে-মেয়েদের পছন্দ-অপছন্দ বাবা-মারা মেনে নেন। এমনকি ছেলে-মেয়ের মতের মিল হচ্ছে না এ জন্য অনেক সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। বাব-মা ও এসব ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব বা ভূমিকা রাখতে পারছেন না। ইদানিং অনেক যুবক-তরুণ, এমনকি কিছু কিছু তরুণীরাও আসেন, জানতে চান কেমন পাত্র-পাত্রী তারা নির্বাচন করবেন। নিঃসন্দেহে এ ধরণের প্রশ্নের উত্তর দেয়া বা সমাধান করা কোন ডাক্তারের কাজ নয়। তবে আমার পেশায় সাব স্পেশালিটির কারণে অনেক সময় বলতে হয় পাত্র-পাত্রী কেমন হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে আমি সাধারণতঃ প্রথমে যেটা বুঝাতে চেষ্টা করি পিতা-মাতা, মূরুব্বিগণের ওপর পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে এ যুগের তরুণ-তরুণীরা বলতে শিখেছেন আমি যার সঙ্গে ঘর সংসার করবো তাকে নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্য কারও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তা মানার জন্য তারা প্রস্তুত নয়। যাই হোক অবস্থা বুঝে কথা বলতে হয। আমিও বেশি ঘাটাঘাটি করি না। ছেলে হোক আর মেয়ে হোক উভয়ের সঙ্গে কথা বলে তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থান নিরূপণের চেষ্টা করি। তার পর কেমন-পাত্রী নির্বাচন করা উচিত সাইন্টিফিকালি বা বৈজ্ঞনিক যুক্তির ভিত্তিতে যতটুক বলা যায় তাই বলার চেষ্টা করি। আজকাল অনেক তরুণ-তরুণী নিজেরাই বলতে শুরু করেছেন ডাক্তার সাহেব একটু হরমোন পরীক্ষা করে দেখেন। অনেকে আবার আরও কিছু পরীক্ষার কথা বলেন। যাই হোক একটা উদাহরণ দিয়ে লিখাটা সমাপ্ত করবো।

গত সপ্তাহের কথা। যুবকের বয়স ৪০-এর কম হবেনা। দুলাভাইকে নিয়ে এসেছেন। গত ১৫ বছরে প্রায় শতাধিক পাত্রী দেখেছেন। কোন পাত্রীই পছন্দ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ডাক্তারের কাছে আসা পাত্রী নির্বাচনের পরামর্শ নিতে। তাও যুবকের ইচ্ছায় নয়, পরিবারের চাপে দুলাইভাই তাকে নিয়ে এসেছেন।

প্রায় ১৫ বছর ধরে শতাধিক পাত্রী দেখেছেন অথচ পছন্দ হচ্ছে না। বিষয়টি খানিকটা অস্বাভাবিক মনে হয় কেন পাত্রী পছন্দ হচ্ছে না এর কোন করণ অবশ্য যুবকের দুলাভাই বলতে পারলেন না। তার কথা অনেক সুন্দরী, রুচিশীল, মার্জিত পাত্রী দেখানো হয়েছে। কিন্তু গত ১৫ বছরেও পাত্রী পছন্দ হয়নি। সব শেষে মধ্য বয়স্ক যুবকের সঙ্গে একান্তে কথা বলি। শিক্ষিত, মার্জিত অতিশয় লাজুক যুবকের সঙ্গে প্রায় ২০/২৫ মিনিট আলাপ করে বুঝা যায় তার পাত্রী অপছন্দের আসল রহস্য। যুবক একাধিকবার ঠিকই পাত্রী পছন্দ করেছেন। দু’একজন পাত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে, দেখাও হয়েছে। পাত্রী অপছন্দ-পছন্দ কোন বিষয় নয়। আসলে যুবকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ভীতি। ব্যর্থতার ভয়। যাকে সেক্সোলজির ভাষায় বলা হয় সাইকোসেক্সুয়াল সমস্যা। যথারীতি যুবকের সব পরীক্ষায় কোন ক্রটি ছিলোনা। এ ধরণের সমস্যা শুধু উপযুক্ত কাউন্সিলিং করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়। তবুও যুবকের চাকরির ধরণ, বয়স শিক্ষা ও আচার-ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একজন জীবন সঙ্গী বেছে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে আসতে বলি। তবে যুবকিটির বিয়ে ভীতি শুধু নিজের অজ্ঞতা থেকে তৈরি হয়েছে তা নয়, পছন্দমত পাত্রী নির্বাচন করতে গিয়ে দু’একজন অতি আধুনিকা পাত্রী যুবকের কাছে যে সব প্রসঙ্গে খোলামেলা জানতে চেয়েছেন তাতে যুবক পাত্রটির ভয় আরও বেড়ে গেছে। যুবককে পরিবারের পছন্দ অনুযায়ী মার্জিত শান্ত-শিষ্ট কোন পাত্রী নির্বাচন শ্রেয় হবে, এখন একটা আভাস দিয়ে বিদায় করলাম ইদানিং বহু ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর এ্যাডজাস্টমেন্ট প্রবলেম নিয়েও রেগিী আসছে। এটা কোন যৌন সমস্যা না হলেও এ ধরণের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র মানসিক অবসাদ থাকে। ফলে এ সমস্যা শারিরীক সমস্যায় রূপ নেয়। সুন্দর দাম্পত্য-জীবনের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পারিক সমঝোতা ও সৌহার্দø থাকা উচিত।

**************************
ডাঃ মোড়ল নজরুল ইসলাম
চুলপড়া, যৌন সমস্যা ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ
এবং লেজার এন্ড কসমেটিক্স সার্জন
বাংলাদেশ লেজার স্কিন সেন্টার, বাড়ী নং-৩৯, রোড-২,
আম্বালা কমপ্লেক্স, ধানমন্ডি, ঢাকা। ০১৯১১৩০৩০৯৯
দৈনিক ইত্তেফাক, ০১ নভেম্বর ২০০৮