মাথা ব্যথার অভিজ্ঞতা নেই এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শিশু থেকে বৃদ্ধদের সবারই মাথা ব্যথা হতে পারে। অনেক কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। মাইগ্রেইন মাথা ব্যথার একটি অন্যতম কারণ।

লক্ষণঃ হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয়। কপালের এক পার্শ্বে বা উভয় পার্শ্বে ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় চোখের চারিপার্শ্বেও ব্যথা হয়। চোখে দেখতে অসুবিধা হতে পারে বা চোখে ঝাপসা দেখতে পারে। চোখ দিয়ে পানি আসতে পারে। অনেক সময় মাথা ব্যথার সংগে বমিও হতে পারে।

কারণ সমূহঃ এই রোগের সাধারণত কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে মহিলাদের বেশি হয়। অনেক ক্ষেত্রে বংশগত সম্পর্কও থাকে। অনেকের জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি সেবনের ফলেও হতে পারে। অনেকের আইসক্রীম, চকলেট খেলেও মাথা ব্যথা হয়। অনেকের আবার অত্যাধিক মানসিক চাপের ফলেও মাথা ব্যথা শুরু হয়।

পরীক্ষা নিরীক্ষাঃ সুনির্দিষ্ট কোন পরীক্ষা করে এই রোগ নির্ণয় করা হয় না। রোগীর ইতিহাস এবং লক্ষণ দেখেই এই রোগ নির্ণয় করা হয়। তবে মাথা ব্যথার অন্য কারণগুলো থেকে পৃথক করার জন্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়।

চিকিৎসাঃ তীব্র মাথা ব্যথার সময় প্যারাসিটামল বা এসপিরিন জাতীয় ওষুদ খেতে হবে। বমি হলে বমির ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়ঃ কোন কারণে ব্যথা শুরু হচ্ছে সেটা খুঁজে বের করতে হবে এবং ঐ কারণটা থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনে ওষুধ খেতে হবে। মনে রাখবেন মাইগ্রেইন জনিত মাথা ব্যথা একটা বড় স্বাস্থ্য সমস্যা এবং এটাকে প্রতিরোধ করা যায়।

**************************
ডাঃ এস, আজিজুল ইসলাম
এ্যাপোলো মেডিকেল সেন্টার
জেলরোড, দড়াটানা, যশোর।
দৈনিক ইত্তেফাক, ০১ নভেম্বর ২০০৮