ইদানীং বেশ ফলাও করে হাঁটার সুফলের কথা বলা হয়। কিন্তু যে বিষয়টা সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ যা প্রায়ই অনুল্লেখ থাকে- তা হলো ব্যক্তি প্রতি কার্যকরী হাঁটার পরিমাণ নির্ধারণ, যদিও বর্তমানে আঙ্গুলের ভেনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নবউদ্ভাবিত জিম মেশিন ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যের উপযোগী ব্যায়াম করতে সহায়তা করবে, তবে তা সহজলভ্য নয় এবং শতভাগ কার্যকরী কিনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই ব্যক্তির নিজেকেই বুঝে কার্যকরী হাঁটার পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে, হাঁটা কখন শেষ করতে হবে তা জানতে হবে। বেশি ক্লান্ত হওয়া উচিত নয়। মাঝারি থেকে বেশি কষ্ট অনুভূত হলে হাঁটা বন্ধ করা উচিত। প্রত্যেকদিন পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য নিয়ে হাঁটতে হবে এমন কোনো কথা নেই। শরীরের অবস্থা অনুযায়ী কখনো তা বাড়ানো বা কমানো যেতে পারে। প্রতিদিন আয়াসলব্ধভাবে যে পরিমাণ হাঁটা সম্ভব ততটুকু হাঁটাই বাঞ্ছনীয়। তবে তাই হবে শরীরের জন্য কার্যকরী ব্যায়াম। তবে সাধারণভাবে প্রতিদিন অন্তত আধা ঘন্টা হাঁটা উচিত। হাঁটা শুরু বা বন্ধ করার আগে নিদেনপক্ষে ৫ মিনিট হাঁটার গতি কমিয়ে ফেলা উচিত তাতে হার্ট সবল হয় পালপিটিশন হয় না এবং শরীরের বিশেষত পায়ের পেশীতে টান পড়ে না। সকালে বিশুদ্ধ বায়ু সেবন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি তবে ব্যায়াম বিকালের দিকে করাই ভাল। হাঁটা হচ্ছে সবচেয়ে সহজ অথচ সর্বাধিক কার্যকরী ব্যায়াম যা যে কোনো বয়সের যে কোনো শারীরিক অবস্থায় করা যেতে পারে। এমনকি Open heart surgery -এর পরেও হাঁটা যায় তবে তা অবশ্যই ডাক্তারের অনুমতি সাপেক্ষে। তাই হাঁটাকে বৃদ্ধ বয়সের ব্যায়ামও বলা চলে। কারণ যখন শরীরের সক্ষমতা কমে আসে তখন অন্যান্য ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী না থাকলেও হাঁটা অবশ্যই উপযোগী থাকে। কাজেই সকল ঔষধের মহাঔষধ হলো এই কার্যকরী হাঁটা- যা সাধনাসম। পরিমিত সুষম আহার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও দৈনিক কার্যকরী হাঁটা সুস্থ সবল নিরোগ জীবনের জন্য একান্ত অপরিহার্য। কাজেই আজ থেকে শুরু হয়ে যাক এই মহাঔষধের প্রয়োগ, যা দেবে নিশ্চিতভাবে পূর্বেকার চেয়ে সুস্বাস্থ্য।

**************************
দৈনিক ইত্তেফাক, ০১ নভেম্বর ২০০৮