জন্মগত বধিরতা অথবা হঠাৎ সম্পূর্ণ বধির হওয়া রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট এখন বাংলাদেশেই হচ্ছে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সরকারী পর্যায়ে দেশে প্রথম সফল কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি করা হয় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে। সম্পূর্ণ শ্রবণ শক্তি হারিয়ে ফেলা সেই রোগী এখন কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট করার পর স্বাভাবিকভাবে শুনতে পাচ্ছেন, এমনকি টেলিফোনেও কথা বলতে পারছেন। এরপর ২০০৭ সালে ২য় বারের মত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে শ্রবণশক্তিহীন ৪জন রোগীর কানে সফলভাবে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট করা হয়। উল্লেখ্য কক্লিয়া হচ্ছে অন্তকর্ণের একটি অংশ যা কানে শোনার কাজটি করে থাকে এবং কক্লিয়া সম্পূর্ণ অকার্যকর হওয়ার ফলেই পূর্ণ বধিরতার সৃষ্টি হয়। জন্মগতভাবে বধির শিশুরা মূলত কক্লিয়ায় ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে বলেই শুনতে পায় না। এই জন্মগত বধিরতার কারণেই শিশুরা কথা বলতে শেখে না। এর এ কারণে জন্ম বধির শিশুকে অপারেশন করলে সে শুনতে পায় ও কথা বলতে পারে।

কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট করতে উন্নত বিশ্বে খরচ পড়ে ২০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা। আমাদের দেশে শুধুমাত্র কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ও ওষুধপত্রের খরচ দিয়েই এই অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে। আগামী নবেম্বর মাসে প্রস্তাবিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটি, ঢাকা বাস্তবায়ন প্রকল্প এবং হাইকেয়ার হিয়ারিং সেন্টারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ৩য়বারের মত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ও ১মবারের মত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অপারেশন করাতে রোগীদের আগ্রহী অভিভাবকদের রোগী বাছাই পর্বে অংশগ্রহণের জন্য অতিসত্বর ঢাকা মেডিক্যালের নাক-কান-গলা বিভাগে অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কাদির ( ফোন-৮৬১১৮২৫); সহকারী অধ্যাপক ডা. জোনায়েদ রহিম, ফোন-০১৭১১১৪৪১৮৫; আরএস ডা. ডিজিএম আকাইদুজ্জামান, ফোন-০১৭১১৫৪৬৭৫১ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগে অধ্যাপক ডা. মনোয়ার হোসেন, ফোন-৭৩১২৩৯৮; সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু হানিফ, ফোন-০১৮১৯২৩৯৫১৮; আরএস ডা. মোঃ মনজুর রহিম, ফোনঃ ০১৭২০১৭৩৪৫০।

**************************
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ০২ নভেম্বর ২০০৮।
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ
প্রকল্প পরিচালক, এস্টাবলিশমেন্ট অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটি ইন ঢাকা প্রকল্প ও অধ্যাপক (ইএনটি), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।