প্রথম আলোর এবারের ্লোগানটি আমার বেশ পছন্দ হয়েছে-চলুন, বদলে যাই। এটা আজ আমাদের শিশুস্বাস্থ্যের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ বলছি, শিশুকে জ্নের পর ছয় মাস পর্যন্ত অবশ্যই মায়ের দুধ দিন। এর কোনো বিকল্প নেই। ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে স্বাভাবিক খাবার দিতে হবে। কিন্তু অনেকেই এ কথা শোনেননি। তাঁরা শুরু থেকেই শিশুকে বাজারের কৌটার দুধে অভ্যস্ত করে তোলেন। এখন বাজারের অনেক দুধেই ক্ষতিকারক মেলামিন পাওয়া গেছে। এটা শিশুস্বাস্থ্যের জন্য পুরোপুরি হুমকি। তাই মায়েদের এখনই বদলাতে হবে। অনেক মায়ের সাধারণ অভিযোগ, তাঁর সন্তান দুধ খায় না। যদি কোনো শিশু ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ছয়বার প্রশ্রাব করে, তাহলে বুঝতে হবে তার কোনো অসুবিধা নেই। সে তার পরিমাণমতো খাবার ঠিকই খাচ্ছে। দুই বছর পর শিশুকে গরুর দুধ খাওয়াতে হবে। গরুর দুধ পাওয়া না গেলে শিশুকে সয়াদুধ খাওয়ানো যেতে পারে। দেশের অনেক জেলাতেই এখন সয়াবিনের চাষ হচ্ছে। সয়াবিন থেকে যেমন তেল হয়, তেমনি দুধও পাওয়া যায়। যদিও এর স্বাদ একটু ভিন্ন, কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য এটি বেশ উপকারী হতে পারে। কারণ এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত প্রোটিনসহ সব খাদ্যমান।

অনেক শিশুরই ফাস্ট ফুডের দিকে বেশ আগ্রহ। এটা বদলাতে হবে। দেখা গেছে, যেসব শিশু ফাস্ট ফুড গ্রহণ করে, তারা অল্পদিনেই মোটা হয়ে যায়। এরপর তাদের দেহে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। পাশাপাশি এসব শিশুর অল্পবয়সেই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দেয়।

শিশুকে ভাত, মাছ, ডাল ও মুরগির মাংসে অভ্যস্ত করতে হবে। গরু কিংবা খাসির মাংস পরিহার করতে হবে।

আরও একটি দিক খেয়াল করতে হবে। শহরে কিন্তু হাঁটা-চলাফেরা কিংবা খেলাধুলা করার মতো জায়গা পাওয়াই যায় না। তার পরও আমি বলব, সবাইকে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। দৌড়ঝাঁপ করার জন্য একটু জায়গা খুঁজে নিতে হবে। আর এটা যত অল্পবয়সেই শুরু করা যায়, ততই ভালো।

আর প্রথম আলোর ১০ বছর পূর্তি হলো। আমি বলব, প্রথম আলো শিশু থেকে কৈশোরের দিকে এগোচ্ছে। শিশু যেমন স্কুলে গিয়ে নিজের জগৎ ক্রমশই বাড়াতে থাকে, প্রথম আলোও আজ এই অল্পবয়সেই নিজের শ্রী চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রথম আলোতে আলোয় আলোকিত হচ্ছে নানা দিক। আর এখন বদলানোর সময়, প্রথম আলোর আহ্বানে আমাদেরও নিজেদের বদলাতে হবে।

**************************
অধ্যাপক এম আর খান
প্রথম আলো, ০৫ নভেম্বর ২০০৮।