স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
ধূমপায়ীদের ঘাতক ব্যাধি সিওপিডি
http://health.amardesh.com/articles/1078/1/aaaaaaaaaa-aaaa-aaaaaa-aaaaaaa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 11/14/2008
 
সিওপিডি মূলত ধূমপায়ীদের রোগ। ইহা ফুসফুসের একটি দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত রোগ যাতে শ্বাসনালীর বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং এই বাধা পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। পূর্বে এটিকে ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও এমফাইসিমা হিসাবে দেখা হত। কিন্তু বর্তমানে এটিকে সামগ্রিকভাবে ফুসফুসের বাধাজনিত রোগ বলে।

ধূমপায়ীদের ঘাতক ব্যাধি সিওপিডি

সিওপিডি মূলত ধূমপায়ীদের রোগ। ইহা ফুসফুসের একটি দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত রোগ যাতে শ্বাসনালীর বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং এই বাধা পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। পূর্বে এটিকে ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও এমফাইসিমা হিসাবে দেখা হত। কিন্তু বর্তমানে এটিকে সামগ্রিকভাবে ফুসফুসের বাধাজনিত রোগ বলে।

এই রোগের ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান সমূহঃ

১) ধূমপানঃ- ধূমপানই এই রোগের প্রধান কারণ, শতকরা ৮০ ভাগ সিওপিডি রোগীই ধূমপান জনিত কারণে ভোগে। সিগারেট, বিড়ি, পাইপ, চুরুট কিংবা হুক্কা যেভাবেই ধূমপান করা হোক না কেন তা এই রোগের জন্য সমানভাবে দায়ী। পরোক্ষ ধূমপান, অধূমপায়ীদের ও মহিলাদের মধ্যে এই রোগের উৎপত্তি ঘটায়।

২) কঠিন জ্বালানি নির্গত ধোঁয়াঃ- বাংলাদেশে গ্রাম, উপশহর বস্তি এলাকার রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহ্নত জ্বালানি যেমন, গোবর, কাঠ, খড় এর নির্গত ধোঁয়া ঘরের ভিতরে বায়ু দূষণ ঘটায় যা গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যার অন্যতম কারণ।

৩) বায়ু দূষণঃ- মোটরগাড়ী, শিল্প কারখানা নির্গত ধূলিকণা ও ধোঁয়া বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ। এই দূষিত বায়ুর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবেই দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত ফুসফুসের রোগ হয়।

৪) বিবিধঃ- ঘন-ঘন ফুসফুসে জীবাণু সংক্রমণ, অপুষ্টি ও বংশগতভাবে এ রোগের উৎপত্তি ঘটতে পারে।

রোগের লক্ষণঃ ৩৫ বছর ঊর্ধ্ব পুরুষ বা মহিলা যাদের এক বা একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান রয়েছে, তাদের নিম্নের লক্ষণ থাকলে সিওপিডি সন্দেহ করা হয়। যেমনঃ

১। দীর্ঘমেয়াদী কাশিঃ কোন কাশি পর পর দুই বছর বা ততোধিক এবং প্রতিবছর কমপক্ষে তিনমাস থাকলে তাকে রোগী সন্দেহ করা হয়। এ ধরনের রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়।

২। শেস্নষ্মাঃ রোগীর কাশিতে মিউকাসযুক্ত সাদা, আঠালো শেস্নষ্মা নির্গত হয়।

৩। শ্বাসকষ্টঃ শ্বাসকষ্ট সাধারণতঃ রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে না। রোগের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগী শ্বাসকষ্টে ভোগা শুরু করে। ফুসফুসের কার্যকারিতা রোগী শ্বাসকষ্ট বুঝার আগে প্রায় অর্ধেক নষ্ট হয়ে যায়। সাধারণতঃ পরিশ্রমে এবং হঠাৎ অবনতি হলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়।

৪। রোগের তীব্রতা বেড়ে গেলে রোগীর পা ফুলে যায়, রোগীর স্বাভাবিক নড়াচড়ায় শ্বাসকষ্টে ভোগে।

৫। রোগের হঠাৎ অবনতিঃ রোগীর কাশি, শেস্নষ্মার পরিমাণ এবং শ্বাসকষ্ট যদি হঠাৎ বেড়ে যায় তবে রোগের হঠাৎ অবনতি সন্দেহ করা হয়। সাধারণতঃ ফুসফুসে জীবাণু সংক্রমন হলে হঠাৎ অবনতি হয়ে থাকে।

রোগ নির্ণয়

১। স্পাইরোমেট্রিঃ এই রোগ নির্ণয়ের জন্য ইহা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহজ পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ঈঙচউ নির্ণয় করা হয়, এ রোগের তীব্রতা পরিমাপ করা হয় এবং ঈঙচউ কে হাপাঁনী থেকে আলাদা করা যায়।

২। এছাড়া বুকের এক্সরে ও অন্যান্য পরীক্ষা যেমনঃ রক্ত পরীক্ষা, কাশিতে যক্ষ্মার জীবাণু, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফী, বস্নাড গ্যাস এনালাইসিস ও বক্ষের সিটি স্ক্যান চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী করে থাকেন।

চিকিৎসা সিওপিডির চিকিৎসায় তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

১) স্বাস্থ্য শিক্ষাঃ ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান সমূহকে কমিয়ে আনা।

২) রোগরে প্রয়োজন মাফিক ওষধ ও

৩) পুনর্বাসন।

১। স্বাস্থ্য শিক্ষাঃ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য শিক্ষার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানসমূহ বর্জন ও সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে, যা ঈঙচউ -র চিকিৎসা ও প্রতিরোধ- এই দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান বন্ধ করা এই রোগের চিকিৎসায় সর্বপ্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো ধূমপায়ী রোগীদের ধূমপান বন্ধ করা। ধূমপানের ক্ষতিকারক দিকগুলো সম্পর্কে রোগীকে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি ধূমপান ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ যেমন নিকোটিন লজেন্স, গাম বা প্যাচ সরবরাহ করতে হবে।

অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান কমাতে কিছু সাধারণ পদক্ষেপ যেমনঃ (১) খোলা জায়গায় খড় পোড়ানো বন্ধ করা, (২) পানি দিয়ে ধুলা উদগীরণ বন্ধ করা, (৩) ধুলিময় কর্ম এলাকায় বিশেষ ধরনের মাস্ক বা মুখোশ ব্যবহার করা, (৪) ধুয়ামুক্ত চুলার ব্যবহারঃ জ্বালানি কাঠের পরিবর্তে এলপি গ্যাগ অথবা বিদ্যুতের ব্যবহার। রান্নাঘর, শোয়ারঘর থেকে দূরে রাখা। রান্নাঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা করা ও বহিঃনির্গমন পাইপ বা পাখার ব্যবস্থা রাখা। ধোয়া ও গ্যাসের কাছে পাতলা কাপড় দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে জ্বালানি কাষ্ঠের ধোয়া রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। শিশুদের নিকট এবং বদ্ধ ঘরে ধূমপান থেকে বিরত থাকা।

২। রোগের প্রয়োজন মাফিক ওষুধঃ এই রোগের চিকিৎসায় পরবর্তী পদক্ষেপ হলো রোগীকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা। চিকিৎসকগণ প্রয়োজনমাফিক নিম্নোক্ত ওষুধ ব্যবহার করে থাকেনঃ

ক) ইনহেলারঃ যেমন- স্যালবিউটামল, ইপ্রাট্রপিয়াম ব্রমাইড ও স্টেরয়েড ইনহেলার।

খ) মুখে খাবার ওষুধঃ কর্টিকোস্টেরয়েড ট্যাবলেট যেমন- প্রেডনিসোলন, সালবিউটামলও থিওফাইলিন। তবে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার জন্য স্টেরয়েড জাতীয় ট্যাবলেট ব্যবহার না করাই শ্রেয়।

গ) এন্টি বায়োটিকঃ ফুসফুসে জীবাণু সংক্রমন প্রশমনের জন্য এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।

ঘ) শেস্নষ্মা নিঃসারক ওষুধঃ যেমন-এ্যামব্রকসল, ব্রমহেক্সিন, কার্বোসিস্টিন ও আয়োডিনেটেড গিসরল ইত্যাদি ঘন শেস্নষ্মাকে তরল করার জন্য ব্যবহার করা যায় যদিও এসবের ভূমিকা খুবই সীমিত। কাশি যদিও ঈঙচউ এর একটি কষ্টদায়ক উপসর্গ তবুও এর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধক ভূমিকা রয়েছে। তাই ঘনঘন কফ নিবারক ওষুধ যেমন-ডেক্সোমেথোরফেন ব্যবহার করা উচিত নয়।

ঙ) টিকাঃ COPD -এর রোগীকে প্রতি বছর একবার ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা দেওয়া উচিত।


**************************
ডাঃ একে এম মোশাররফ হোসেন
মেডিসিন, বক্ষব্যাধি ও  পি  মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
দৈনিক ইত্তেফাক, ০৮ নভেম্বর ২০০৮