যেসব ওষুধ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কেনাবেচা করা যায়, সেগুলোকে ব্যবস্থাপত্রহীন বা ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) ওষুধ বলে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে ওষুধ ব্যবস্থাপত্রসহ, নাকি সেটা ছাড়া হবে, তা নির্ধারণ করে থাকে।

ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার পর্যাপ্ত নিরাপদ কি না-এটাই বিশেষভাবে বিবেচ্য। সাধারণত জ্বর, সর্দি, ব্যথা, কফের ওষুধগুলো ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত। যদিও এসব ওষুধের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্রের দরকার নেই, তবু মনে রাখতে হবে, এগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন বা ঝুঁকির বাইরে নয়।

ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে ওষুধের প্যাকেটের গায়ে এবং ভেতরে ওষুধনির্দেশিকা ভালোভাবে জানা উচিত। যেখানে ওষুধ খাওয়ার নিয়ম, অন্য ওষুধের সঙ্গে আন্তক্রিয়া, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ব্যবহার-সংক্রান্ত সতর্কতা এবং অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ তৈরির নিয়ম দেওয়া থাকে।

অ্যান্টিহিসটামিন, ব্যথানাশক, কফ সিরাপ, অ্যান্টাসিড, বমি ও ডায়রিয়ার ওষুধ ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধের মধ্যে অন্যতম। মনে রাখা জরুরি, দীর্ঘদিন ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে নির্ধারিত ওষুধ সেবন করতে হবে।

অনেক অ্যান্টিহিসটামিন-জাতীয় ওষুধ সেবনের ফলে ঝিমুনি বা ঘুম ঘুম ভাব হয় এবং এ-জাতীয় ওষুধ গ্রহণের পর গাড়ি বা মেশিন চালানো উচিত নয়। এতে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। অ্যান্টাসিড একটি বহুল ব্যবহৃত ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধ, যা এসিডজনিত পেটব্যথা ও বুক জ্বালাপোড়ায় ব্যবহৃত হয়।

অ্যান্টাসিড সাধারণত এসিডজনিত পেটব্যথা অনুভব হওয়ার সময়ই অথবা খাবার খাওয়ার ঘণ্টাখানেক পর খাওয়া উচিত। অনেক ব্যথানাশক ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধ, বিশেষ করে নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টিইনফ্লামেটরি ওষুধ খালিপেটে গ্রহণ করা উচিত নয়।

এ-জাতীয় ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ও সহায়তাকারী ওষুধ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবহারে গ্যাস্ট্রিক আলসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া হাঁপানি ও হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে এ-জাতীয় ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এ ছাড়া ওটিসি ওষুধের সঙ্গে অন্য ওষুধের আন্তক্রিয়ায় ঘটতে পারে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

সে জন্য যাঁরা চিকিৎসকের পারামর্শে ওষুধ গ্রহণ করছেন, তাঁদের ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা উচিত।

আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখা উচিত, একই কার্যকর উপাদানসমৃদ্ধ দুটি ওষুধ যেন একই সঙ্গে গ্রহণ করা না হয়। ব্যবস্থাপত্রহীন ও ব্যবস্থাপত্র আছে, এমন ওষুধে কখনো কখনো একই কার্যকর উপাদান থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
তাই ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধ গ্রহণ সম্পর্কেও চিকিৎসককে আগেভাগেই জানানো উচিত। গর্ভস্থ সন্তানের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানোর জন্য ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধসহ যেকোনো ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধও মায়ের দুধের সঙ্গে বের হয়।

সামান্য হলেও এটি নবজাতকের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ সময় ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধ গ্রহণে সতর্ক থাকুন। এ ধরনের ওষুধও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিত। সংরক্ষণের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখা উচিত, আলো থেকে দূরে, ঠান্ডা ও শুকনো স্থানে থাকছে কি না। ব্যবস্থাপত্রহীন ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক হোন, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলুন।
 
**************************
শামীম আলম খান
ফার্মাসিস্ট
প্রথম আলো, ১২ নভেম্বর ২০০৮।