ডায়াবেটিসের সমস্যা
পরামর্শ দিয়েছেন
ডা· মো· ফরিদউদ্দিন
সহযোগী অধ্যাপক, অ্যান্ডোক্রাইন মেডিসিন
বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা
সমস্যাঃ  আমার বয়স ২৮ বছর। আমার সমস্যা হলো, কিছুদিন ধরে জিভ বারবার শুকিয়ে যেত, মেরুদণ্ডে ব্যথা হতো। আমি একটু পরিশ্রম করলেই হাঁপিয়ে উঠি। চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেন। রিপোর্ট এল, ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি আমি। ওষুধ ও নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করার পর রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু আমি চোখে স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাই না। আমি খাবার, ব্যায়াম করাসহ সব রকম নিয়ম নিয়মিত মেনে চলি। আমি খুব টেনশন করছি, কারণ আমার বাবারও ডায়াবেটিস ছিল। পরামর্শ পেলে খুব উপকৃত হব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
বাগমারা, কুষ্টিয়া।

পরামর্শঃ ডায়াবেটিস বেশি হলে অথবা রক্তের বেশি শর্করাকে ইনসুলিন দিয়ে কমালে চোখ কিছুটা ঝাপসা হয়ে আসে। রোগী চোখে কম দেখে। ধীরে ধীরে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এলে চোখের এই সমস্যাটি চলে যায়। ডায়াবেটিস রোগীর চোখ নিয়েমিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে দেখানো প্রয়োজন। এতে প্রাথমিকভাবে অনেক সমস্যা সহজে সমাধান করা যায়। ইনসুলিন প্রতিদিন দিতে হবে কি না তা নির্ভর করবে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে কী পরিমাণ ইসনুলিন লাগছে তার ওপর। প্রয়োজন না হলে আপনার চিকিৎসকই ইনসুলিন বন্ধ করে দেবেন।

সমস্যাঃ  আমার বাবার বয়স ৫৬ বছর। ২০০০ সাল থেকে তিনি ডায়াবেটিসে ভুগছেন। সকালে ও রাতে ইনসুলিন নেন। এখন সমস্যা হলো, তাঁর পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির পরের আঙ্গুলটি অবশ হয়ে থাকে। এ নিয়ে তিনি ভীষণ উদ্বিগ্ন। তাঁর উচ্চ রক্তচাপ আছে। তিনি দুটি ওষুধ সেবন করেন। তিনি সারাক্ষণই নানা রকম দুশ্চিন্তা করেন। সব সময় বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিয়ে রাখতে হয় তাঁকে। আঙ্গুলের সমস্যার জন্য কী করতে হবে জানালে খুশি হব।
মালিহা তাহসিন রুমি, চট্টগ্রাম।

পরামর্শঃ  আপনার বাবার শারীরিক অসুস্থতার বিবরণ থেকে মনে হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে নেই। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। একজন অভিজ্ঞ ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞকে পা দেখিয়ে পরামর্শ নিলে ভালো হয়। ডায়াবেটিসের গাইড-বইয়ে পায়ের যত্ন ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দেওয়া রয়েছে। সেগুলো ভালো করে জানতে হবে এবং অবশ্যই যতটুকু সম্ভব মেনে চলতে হবে।


কানের সমস্যা
পরামর্শ দিয়েছেন
অধ্যাপক ডা· আবুল হাসনাত জোয়ারদার
নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
সমস্যাঃ আমার বয়স ১৯ বছর। আমার মাথাব্যথা হয় প্রায় তিন-চার বছর ধরে। প্রথমত, পড়তে গেলে এ মাথাব্যথা দেখা দেয়। আমি নাক, কান ও গলারোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাই। তিনি আমাকে দেখে বলেন, কানের পর্দা ছিদ্র হওয়ার জন্য মাথাব্যথা হচ্ছে। কিন্তু আমার কানে তেমন সমস্যা নেই। তবে মাঝেমধ্যে চুলকায়, কাঠি দিলে দেখা যায়, পানির মতো কষ বের হয়। এক্স-রে করার পর একটু সমস্যা বের হয়। তারপর চিকিৎসক মাথা ওয়াশ করেন। এতেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তিনি আমাকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে পরামর্শ দেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসায়ও আমার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এদিকে দিনে দিনে মাথাব্যথা বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় আমাকে পরামর্শ দিলে উপকৃত হব।
আহমেদ ফজল দুলু
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম

পরামর্শঃ মাথাব্যথার অনেক কারণ রয়েছে। আপনার যেহেতু পড়াশোনা করার সময় মাথাব্যথা হচ্ছে, তাই প্রথমেই আপনি একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করুন। তবে কানপাকা রোগ এবং এর জটিলতায় মাথাব্যথা হতে পারে। থাকলে সেটাকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে নাক, কান ও গলারোগ বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটিস্ক্যান পরীক্ষা করে দেখতে হবে। রোগ নির্ণয়ের পর কানের অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে। আপনার সাইনাসে কোনো সমস্যা আছে কি না, সেটাও পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া মাইগ্রেন, টেনশনজনিত রোগ ইত্যাদি কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্মায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হতে পারে। আপনার আগের ব্যবস্থাপত্র ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করুন।

**************************
প্রথম আলো, ১২ নভেম্বর ২০০৮।