সব শিশুই কমবেশি জ্বরে ভুগে থাকে। কিন্তু জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে শিশুর বাবা-মার দুশ্চিন্তার মাত্রা বেড়ে যায়। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়ঃ
-- শিশুর দাঁতে দাঁত লেগে যায়।
-- মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে পারে।
-- চোখ স্হির হয়ে থাকে।
-- হাতে-পায়ে বার বার খিঁচুনি হতে থাকে।
-- কখনো কখনো শিশু সংজ্ঞাহীন হয়ে যেতে পারে।
-- সংজ্ঞাহীন অবস্হা ৫ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত স্হায়ী হতে পারে।

জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি কেন হয়?

বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, নিম্নলিখিত কারণে এ সমস্যাটি হয়ে থাকেঃ

-- শ্বাসতন্ত্রের উপরিভাগের প্রদাহ, যেমন- টনসিলাইটিস, অটাইটিস মিডিয়া;
-- প্রস্রাবের রাস্তায় প্রদাহ;
-- নিউমোনিয়া;
-- গ্যাসট্রো এন্টেরাইটিস বা পেটের অসুখ ইত্যাদি।

জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে কী করবেন?

এক কথায় বললে এ ধরনের সমস্যায় শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসক দেখানো উচিত। তবে চিকিৎসক দেখানোর আগে ও পরে মা-বাবারও করণীয় আছে। মনে রাখতে হবে, জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা কমাতে হবে। কারণ জ্বর কমে গেলে খিঁচুনি বন্ধ হয়ে যায়। শরীরের তাপমাত্রা কমানোর জন্য পরিষ্কার তোয়ালে বা স্বাভাবিক পানি অর্থাৎ কলের পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে চিপড়ে শিশুর সমস্ত শরীর মুছে দিতে হবে। এভাবে কিছুক্ষণ পরপর স্পঞ্জ করতে হবে। জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে শরীরের ওজন এবং রোগীর অবস্হা বুঝে চিকিৎসকের নির্ধারিত ডোজে এটি দেয়া উচিত। সাধারণত ৬০ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল প্রতি কেজি ওজনে প্রতিদিন দেয়া হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকলে প্রতি ৪ বা ৬ ঘণ্টা অন্তর শিশুকে দেয়া যেতে পারে। তাপমাত্রা কমানোর জন্য প্রয়োজনবোধে পাখা ছেড়ে বাতাস দিতে হবে।

জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে শিশুর দাঁতে দাঁত লেগে যেতে পারে। কিন্তু এ অবস্হায় শিশুর মুখে চামচ বা অন্য কোনো শক্ত জিনিস দিয়ে দাঁত খোলার চেষ্টা করবেন না। কেননা এতে করে শিশুর মুখে বা চোয়ালে আঘাত লাগতে পারে। প্রয়োজনবোধে কাপড় বা এ-জাতীয় অন্য কিছু মুখে দেয়া যেতে পারে, যাতে করে দাঁত লেগে জিহ্বা কেটে না যায়। আবারো বলছি, এ অবস্হা হলে সময় নষ্ট না করে শিশুকে কাছাকাছি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নেয়াই ভালো। চিকিৎসক শিরাপথে ডায়াজিপাম ইনজেকশন ধীরগতিতে দিতে পারেন। খিঁচুনি হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অন্তর এটি দেয়া যায়। এছাড়া পায়ুপথেও ডায়াজিপাম দেয়া যায়। চিকিৎসক রোগীর অবস্হা বুঝে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও দিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, যে শিশুর একবার জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হয়েছে, তার কোনো কারণে জ্বর হলে আবার খিঁচুনি হতে পারে। এ অবস্হা থেকে রেহাই পেতে মা-বাবাকে সবসময় সচেতন থাকতে হবে। 

**************************
আমার দেশ, ১৮ নভেম্বর ২০০৮