পেটে বেশি চর্বি হওয়া মানেই রোগের ছড়াছড়ি। রোগের জননী ডায়াবেটিস হবেই। আরও হবে উচ্চ রক্তচাপ, বাড়বে রক্তে চর্বি। বাড়বে হৃদরোগ। তেমনি বেশি মাত্রার ওজন তৈরি করে এসব কঠিন ও জটিল রোগ। এ ছাড়া দেহের ওজন বাড়া মানেই তো একটি রোগ। তা থেকে জন্ম নেয় আরও অনেক রোগ।

বিজ্ঞানীরা বলেন, একজন মানুষের বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী যতটুকু ওজন দরকার, তার চেয়ে তিন কেজি বেশি হলেই ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা ২৫-৩০ ভাগ বেড়ে যায়।

আর রক্তচাপ বাড়ার ফলে হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা শতকরা ৪০ ভাগ বেড়ে যায়। মাত্র এক কেজি ওজন বাড়াতেই অস্তিসন্ধিগুলোতে আর্থাইটিস হওয়ার ঝুঁকি শতকরা ১০ ভাগ বাড়ে। এ ধরনের গবেষণা আরও হচ্ছে। এটা সত্যি যে পেট মোটা আর অতিরিক্ত ওজন মানেই অসুস্থতার লক্ষণ।

মোটা পেট আর দেহের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে দেখুন স্বাস্থ্যে অনেক উন্নতি ঘটবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলেছেন, কেউ যদি ছয় থেকে আট শতাংশ ওজন কমাতে পারে, তাহলে তার উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা কমে যাবে। রক্তে কোলেস্টেরেল কমে যাবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এসে পড়বে। ওষুধের মাত্রা কমবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হবে, যা অতিরিক্ত ওজন ও পেট মোটার কারণে বেড়ে যায়। আর্থ্রাইটিস হ্রাস পায়। রাতে আরামে ঘুম হয়।

তাই জীবনধারায় পরিবর্তন আনুন ধীরে ধীরে। ওজন ধীরে ধীরে কমান। দৈহিক শ্রম দিন। খাবারে সতর্ক হোন। জীবনের সঙ্গে মানিয়ে চলতে শিখুন। ফলমূল, শাকসবজি খাওয়ার একদম অভ্যাস না থাকলেও কম কম খেতে চেষ্টা করুন। লিফটে না উঠে সিঁড়ি বেয়ে উঠুন।

ওজন কমাতেই হবে। প্রতি সপ্তাহে নয়, প্রয়োজনে প্রতি মাসের পরিকল্পনা নিয়ে ওজন কমান। লক্ষ্যস্থির করুন। তাড়াহুড়ো নয়। প্রতিমাসে কমপক্ষে দুই কেজি ওজন কমান। ছয় মাসে কমপক্ষে সাত থেকে দশ শতাংশ ওজন কমানোর পদক্ষেপ নিন। কম সময়ে বেশি ওজন কমানো কখনোই ঠিক নয়। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। ধীরে ধীরে ওজন কমানোর পাশাপাশি খাবারের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হবে। লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে যান। আর পেট মোটা নয়, স্থূলতা নয়। সুন্দর স্বাস্থ্য হোক সবার। 

**************************
ডা: এস কে অপু
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
মমনসিংহ চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়
প্রথম আলো, ১৯ নভেম্বর ২০০৮।