এইড্‌স (AIDS) একটি মারণব্যাধি। আজ পর্যন্ত এইড্‌স রোগের কোনো ভ্যাকসিন বা আরোগ্যকারী ঔষধ আবিষ্কৃত হয়নি। সতর্কতা এবং প্রতিরোধই এইড্‌স রোগ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায়।

এইড্‌স রোগ থেকে বাঁচতে হলে এই ঘাতক ব্যাধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা অবশ্যিই জরুরী।

এগুলো হচ্ছেঃ

একঃ এইড্‌স রোগের মূল কারণ ‘এইচআইভি’ ভাইরাস। এইড্‌স রোগ আসলে এই ভাইরাস আক্রমণের ফলে রোগীর দেহে শেষ পর্যায়ের সনাক্তকৃত বা প্রদর্শিত রোগ উপসর্গ মাত্র।

দুইঃ এইড্‌স ভাইরাস দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে ফেলে। ফলে দেহ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন সংক্রমন রোগে খুব সহজেই আক্রান্ত হয়।

তিনঃ এইড্‌স মূলত একটি যৌন রোগ। মোট আক্রান্তের তিন-চতুর্থাংশ রোগীর এইড্‌স সংক্রমণের কারণ অবাধ এবং অস্বাস্থ্যকর যৌন মিলন। এইড্‌স যৌন সংক্রমিত রোগ হওয়ায় মূলত যৌন মিলনের মাধ্যমেই এই রোগ বিস্তার লাভ করে। মানুষের বীর্যে, যোনীরসে এইড্‌স জীবাণু থাকতে পারে। ফলে অস্বাস্থ্যকর একাধিক যৌন সংসর্গ এবং সমকামীতায় যারা অভ্যস্ত্য তাদের এইড্‌স রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি অনেক বেশি।

চারঃ এইড্‌স ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও অনেকের মধ্যে এইড্‌স রোগের লক্ষণ প্রকাশ নাও হতে পারে। এমনকি ভাইরাসে আক্রান্ত হবার দশ বছর পরেও এইড্‌স রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

পাঁচঃ ইনজেকশনের সূচ, সিরিঞ্জের মাধ্যমে, রক্ত দেয়া-নেয়ার মাধ্যমে এইড্‌স জীবাণু অন্য দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

ছয়ঃ এইড্‌স আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের শরীর থেকে ভাইরাস শিশুর দেহে সংক্রমিত হতে পারে। সমীক্ষয় দেখা গেছে প্রতি চারজন এইড্‌স আক্রান্ত্য গর্ভবতী মায়ের বেলায় একজন সন্তানের এইড্‌স হবার ঝুঁকি বেশি। এইড্‌স রোগে আক্রান্ত ভূমিষ্ঠ শিশু জন্মের পাঁচ বছর পূর্তির আগেই মৃত্যুবরণ করে থাকে। এইড্‌স আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করে নবজাত শিশুও এইড্‌সে আক্রান্ত হতে পারে।

সাতঃ এইড্‌স রোগ নিয়ে অহেতুক আতঙ্কের কারণ নেই। স্কুল-কলেজে একই সাথে যাতায়াত, জনসমাবেশে ভ্রমণ, একই টয়লেট ব্যবহার, একই গ্লাস থেকে পানি অথবা একই থালা থেকে খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এইড্‌স সংক্রমনের সম্ভাবনা নেই। ‘চুমু’ খাওয়ার মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয় বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আটঃ মশা বা অন্য কোন পতঙ্গের মাধ্যমে এইড্‌স রোগ ছড়ায় না। মশার দেহে এইড্‌স ভাইরাস বাঁচে না ফলে মশা কামড়ালেও এইড্‌স রোগ সংক্রমণের ভয় নেই।

নয়ঃ এইড্‌স আক্রান্ত রোগীর সাথে যৌন সংসর্গ না রাখা, অনিরাপদ যৌন সংসর্গ ত্যাগ করা, কনডম ব্যবহার করা, অন্যের ব্যবহ্নত রেজর, ব্লেড, সূচ যেগুলো রক্ত দ্বারা দূষিত হতে পারে তা ব্যবহার না করা ইত্যাদি বিষয়ে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন এইড্‌সের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।

দশঃ এইড্‌স ভাইরাসে আক্রান্তের সন্দেহ হলে জরুরীভিত্তিতে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এইড্‌স রোগ সনাক্ত সম্ভব। বিশেষ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নতিকরণ এবং সর্বোপরি চিকিৎসকের যথাযথ নির্দেশনাবলী পালনের মাধ্যমে এইডস রোগীর চিকিৎসা করা যায়।

*******************************
লেখকঃ কায়েদ-উয-জামান
সহকারী অধ্যাপক, জীববিজ্ঞান বিভাগ
শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ, জামালপুর।
উৎসঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ নভেম্বর ২০০৭