ডায়েট নিয়ে নানা ধারণা রয়েছে। এসব ধারণার মধ্যে রয়েছে, একই খাবার একেকজন একেকভাবে আহার করেন। অনেকের কিছু কিছু খাবার সহ্য হয় না যেমনঃ আইবিএস-এর রোগীদের দুধও দুগ্ধজাত খাবার খেতে মানা, আলসারের, রোগীদের ঝাল কেতে মানা, ব্লড প্রেসারের রোগীদের লবণ খেতে মানা, ডায়াবেটিস-এর রোগীদের চিনি-মিষ্টি খেতে মানা ইত্যাদি। এখানে কিন্তু মিথস তুলে ধরা হলোঃ

ডায়েট হচ্ছে পরিধেয় বস্ত্রের মত। একই পোশাক যেমন সকলে পরিধান করতে পারেন না, তেমনই সব খাবার সকলে খেতে পারেন না।

ফুড পিরামিড অনুসরন করতে হবে এবং খাদ্যের পরিমাণ সঠিক মাত্রায় খাওয়া উচিৎ।

মুখের স্বাস্থ্য শরীরের অন্যান্য অংশের রোগাক্রান্ত হবার সাথে সম্পৃক্ত নয়। কিন্তু মাড়ির রোগ করণারী ডিজিজের সৃষ্টি করতে পারে। ফ্লোসিং করলে হার্ট এ্যাটাক রোধ করা যায়।

মানসিক চাপ থেকে শরীরে ওজন কমে। স্ট্রেস হরমোন তর্টিসোল শর্করা কমায়। এটার ফলে শরীরে ওজন বাড়ে এবং পেটে চর্বি জমে।

রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ডায়েটের সম্পর্ক নেই। কিছু কিছু খাবার আছে যা রক্তের গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত। যেমনঃ যাদের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভি তাদের দুগ্ধজাত খাবারে সেনসিটিভ।

ম সুষম খাদ্য শরীরের সব উপাদান যোগায়। সুষম খাদ্য আহার সত্বেও শরীরের সব উপাদান পাওয়া যায় না। তবুও সুষম খাদ্য আহারে একজন ব্যক্তি পরিপূরক খাবার সাপ্লিমেন্ট ছাড়াও সুস্থ থাকতে পারে।

শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম অন্যের মত। একেকজনের শরীরের বিপাকীয় ক্রিয়া একেক ধরনের। সঠিক বিপাক বা মেটাবালজিম-এর জন্য সঠিক খাবার প্রয়োজন।

ডা· উলন মালাকার

বিদেশী পত্রিকা থেকে


মূত্রনালীর সংক্রমণ কেন হয়


কিছু লোকের মূত্রপথের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। এ রকম একটি গোষ্ঠী হচ্ছে মহিলারা। ২০ শতাংশ মহিলা সারাজীবন মূত্রপথের সংক্রমণে ভুগবেই। এর প্রধান কারণ হলো তাদের শারীরিক গঠন। মহিলাদের মূত্রনালি পুরুষদের মূত্রনালির চেয়ে ছোট, যার কারণে ব্যাকটেরিয়া দ্রম্নত মূত্রথলিতে প্রবেশ করতে পারে। যে সব মহিলা যৌনভাবে সক্রিয়, তাদের মূত্রপথের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। কারণ যৌনসঙ্গমের ফলে মূত্রনালিতে ব্যাকটেরিয়া সরে আসতে পারে। জরিপে দেখা গেছে, যে সব মহিলা জন্মনিরোধক হিসেবে ডায়াফ্রাম ব্যবহার করেন, তারা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। মেনোপজের পরে মূত্রনালি ও মূত্রথলির তলদেশ পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে রয়েছে যে কোনো কারণে প্রস্রাবের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া যেমন প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি অথবা কিডনির পাথর। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরিবর্তন হলে এবং একই সাথে ডায়াবেটিস থাকলে মূত্রপথের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহিলাদের রক্তের ধরন বার বার মূত্রপথের সংক্রমণে ভূমিকা রাখে। এসব মহিলার মূত্রপথের কোষে ব্যাকটেরিয়া সহজে সংযুক্ত হতে পারে।

উপসর্গঃ

মূত্রপথের সংক্রমণের সব রোগীর উপসর্গ দেখা দেয় না। তবে অধিকাংশ রোগীর উপসর্গ দেখা দেয়। এসব উপসর্গের মধ্যে রয়েছে-

দ্রম্নত প্রস্রাব করার ইচ্ছা।

প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া করা।

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, অল্প পরিমাণ প্রস্রাব হওয়া।

তলপেটে ব্যথা করা অথবা পিঠের নিচের অংশে ব্যথা করা।

প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া অথবা ঘোলা, দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব হওয়া।

মূত্র বা প্রস্রাবের পথের সংক্রমণের রোগীদের পুরুষাঙ্গ থেকে নিঃসরণ হতে পারে। কিডনির সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। এর উপসর্গের মধ্যে রয়েছে প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া অনুভূতি, পেটব্যথা, পিঠের নিচের অংশ ব্যথা, জ্বর, কাঁপুনি, বমি বমি ভাব, ঘন ঘন প্রস্রাব এবং প্রস্রাবে ঘোলা হওয়া অথবা রক্ত যাওয়া । কিছু যৌন সংক্রমক রোগ মূত্রপথের সংক্রমণের মতো উপসর্গ তৈরি করতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, ক্লামাইডিয়া জীবাণু মূত্রনালির প্রদাহ ঘটাতে পারে। এ কারণে যদি আপনার মূত্রপথের সংক্রমণের যে কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে রোগ নির্ণয়ের জন্য ডাক্তার দেখানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে উপসর্গগুলো মারাত্মক পর্যায়ে যাবে। মূত্রপথের সংক্রমণের চিকিৎসা করা না হলে সংক্রমণ রক্তে ছড়াতে পারে এবং মারাত্মক সংক্রমণ ঘটতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।

প্রত্যেক ধরনের মূত্রপথের সংক্রমণের জন্য বিশেষ কিছু উপসর্গ রয়েছে। যেমন-

অ্যাকিউট পাইলো নেফ্রাইটিসের ক্ষেত্রে পেটব্যথা, উচ্চমাত্রার জ্বর, কাঁপুনি ও বমি বমি ভাব বা বমি হয়।

সিস্টাইটিসের ক্ষেত্রে তলপেটে চাপ ও দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব হয়।

ইউরোথ্রাইটিসের ক্ষেত্রে প্রস্রাবে পুঁজ যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গ দিয়ে নিঃসরণ হতে পারে।

ডাঃ মিজানুর রহমান কল্লোল

চেম্বারঃ কমপ্যাথ লিমিটেড, ১৩৬, এলিফেন্ট রোড, ঢাকা।


প্রেসক্রিপশন উত্তর দিয়েছেন


ডাঃ নাসরিন জাহান

চট্টগ্রাম থেকে সুমি (২০) লিখেছেন, দীর্ঘদিন ধরে আপনার মাসিকের আগে প্রচন্ড ব্যথা হয়। ব্যথা সহ্য করতে পারেন না, অনেক সময় পেইন কিলার সেবনেও ফল পাওয়া যায় না।

উত্তরঃ অনেকের মাসিকের আগে তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে। এটা কোন রোগ নয়, বা স্থায়ী কোন সমস্যা নয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অথবা বিয়ের পর অনেক ক্ষেত্রে পিরিডের এসব ব্যথা কমে যায়। এছাড়া বিয়ের পর সন্তান ধারণের পরও এসব ব্যথা থাকে না। তবে স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের ক্ষেত্রে বা অবিবাহিত তরুণীদের পিরিয়ডের ব্যথায় স্বল্পমাত্রার হরমোন থেরাপিতেও পিরিয়ডের ব্যথা কমতে পারে। মাসিকের ব্যথায় কমতে পারে। মাসিকের ব্যথায় সব সময় পেইন কিলার সেবন বাঞ্চনীয় নয়।

এছাড়া আপনি আপনার নিকটস্থ কোন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞও পরামর্শ নিতে পারেন। অনেক সময় তলপেটে গরম সেক xিদতে পারেন। পিরিয়ডের ব্যথায় সাধারণ প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাবারের পর ভরাপেটে খাবেন দিনে ৩ বার ২/৩ দিন অথবা ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম (ভল্টালিন, ক্লোফেনাক ইত্যাদি) ট্যাবলেট ৫০ মিলিগ্রাম খাবার পর ভরাপেটে দিনে ২ বার খাবেন ২/৩ দিন। এতে উপকার পেতে পারেন।

**************************
বিদেশী পত্রিকা থেকে
উৎসঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ০৯ ডিসেম্বর ২০০৭