ডায়াবেটিস এবং এর জটিলতার জন্য যেসব সমস্যা হয় এসবের চিকিৎসা যথেষ্ট ব্যয়বহুল, তা অস্বীকার করেন প্রায় সব দেশের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাই। এজন্য ডায়াবেটিস প্রতিরোধই যুক্তিসঙ্গত এবং সাশ্রয়ী, তাও বলছেন বিজ্ঞানীরা। ডায়াবেটিস ক্রমেই বাড়ছে পৃথিবীতে এবং এমন অনুমান ও হচ্ছে যে ২০২০ সালে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বর্তমানে যে খরচ হয় এর ৩০% খরচ বেড়ে যাবে।

এসব খরচ অনুমান করা হয়েছে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত অসুখগুলোকে চিন্তায় রেখে। অর্থাৎ এমন সব অসুখ যেগুলোর ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসকে একটি কারণ বা উপাদান হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয় যেমন হৃদরোগ, চোখের রোগ এবং বয়স্কদের অন্ধত্ব, কিডনির রোগ, জনন অক্ষমতা এবং রক্তপ্রবাহের এমন সব সমস্যা যা বাড়লে অঙ্গচ্ছেদ প্রয়োজন হয়। যাদের ডায়াবেটিস হয় এদের মধ্যে শতকরা ৯০ জনেরই হয় টাইপ ২ ডায়াবেটিস। এ ধরনের ডায়াবেটিস প্রতিরোধযোগ্য এবং পদক্ষেপ নিলে এ রোগকে অনেক বিলম্বিত করা যায় তো বটেই। তাই ৫০ বা ৬০ বছরে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে অসুস্থ না হয়ে ৭০ বছরে হলে কেমন হলো? একটু দেরী হলো তো?

এর চাবিকাঠি হলো ডায়াবেটিসকে প্রতিরোধ করা। এজন্য বড় কোনো আয়োজন প্রয়োজন নেই, সহজ কিছু টিপসও রয়েছে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য।

০ প্রতিবেলার খাবার খেতে হবে নিয়মিত। ভোর সকালে এক কাপ কফি খেয়ে ছুটলাম অফিসে বা কাজে আর এরপর ঘন্টা পাঁচেক কিছু না খেয়ে থাকা- এরকম করলে রক্তের শর্করার টালমাটাল অবস্থা চলবেই।

০ কি পরিমাণ খাওয়া হচ্ছে, এও গুরুত্বপূর্ণ। বড় আয়তনের তৈরি খাবার না খেয়ে ছোট আয়তনের ও তো খাওয়া যায়। বলা হলো ওবেলা ভাত না খেয়ে রুটি খাবেন। এখন ভারি ভারি ছ’টা রুটি খেলে তো আর কাজ হলো না। উল্টো ফল হলো।

০ আঁশ, তুষ, গোটা শস্য বেশি বেশি খেতে হবে। ময়দার রুটি আর মিলে ছাটা চালের বদলে আটার রুটি বা ঢেঁকিছাটা চালের ভাত খেলে ভালো।

গোটা শস্য থেকে ভালো শর্করা বেরুবে ধীরে ধীরে, পরিপাক কাজ চলে ধীরে, শোষণও তাই হবে দেরিতে, শরীরে শক্তি অটুট থাকবে স্থায়ীভাবে এবং স্বাস্থ্য হিতকর সে শক্তি শরীরে আনবে বল ও সুস্থতা।

০ প্রতি হপ্তায় বাড়ান শরীর চর্চা। ব্যায়াম শুরু না করে থাকলে জীবনে যোগ হোক শরীরচর্চা। বিভিন্নভাবে ব্যায়াম শরীরের হিত করে, বিশেষ করে ওজন হ্রাসে এটি সহায়ক সুস্থ থাকাও ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত থাকা বেশি উপকারী।

০ ধূমপান বর্জন করুন।

০ ডায়াবেটিস সচেতনতা বাড়াতে হবে, বাড়ছে ডায়াবেটিস, অথচ নিয়ন্ত্রণসাধ্য অনেক উপাদান রয়েছে যেগুলো মোকাবেলা করলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়। এমন একটি উপাদান হলো স্থূলতা।

যত বয়স হবে, এই অসুখে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিও বাড়বে। তবে এখন তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ডায়াবেটিস। এমনকি ৮/৯ বছরের শিশুর মধ্যেও দেখা যাচ্ছে এ রোগ। এজন্য ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সচেতনতা ক্লাস, প্রশ্ন-উত্তর, নিয়মনীতি এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। ইব্রাহীম মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক সেন্টার, বারডেমে এ ধরনের চর্চা চলছে অনেক দিন ধরে।

০ নিয়মনীতি কিছুটা পালন করলেও অনেক লাভ হয় রোগীদের, দেখেছেন বিজ্ঞানীরা।

এরকম ক্লাসে আলোচনায় অনেক খোলাসা হয় ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার সূত্রগুলো। পশ্চিমা দেশে ডায়াবেটিক রোগীদের নিয়ে এমন আলোচনামূলক ক্লাস এখন গুরুত্ব পাচ্ছে, অথচ বারডেমে এর প্রচলন হয়েছিল অনেক আগে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস, তাই এর গুরুত্ব আরো প্রাধান্য পাবে নিশ্চয়ই।

**************************
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
দৈনিক ইত্তেফাক, ০৭ মার্চ ২০০৯।