ফ্রোজেন সোল্ডার বা কাঁধে ব্যথা একটি জটিল শারীরিক সমস্যা। ৩৫ থেকে ৭০ বয়সীদের মধ্যে এই সমস্যার বেশি দেখা যায়। পুরুষ এবং মহিলা সমানভাবে এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

ফ্রোজেন সোল্ডারের কারণঃ ফ্রোজেন সোল্ডারকে রোগ না বলে জটিলতা বলাই ভালো। কাঁধে ব্যথার কারণগুলোর মধ্যে আঘাত, সারভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস অন্যতম। বহুমূত্র রোগ এই সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। যারা কায়িক পরিশ্রম করেন না তাদের এই রোগ বেশি হয়।

কি চিকিৎসা নেবেনঃ ফ্রোজেন সোল্ডারে ব্যথার ওষুধ খুব বেশি কার্যকর নয়। এর দু’টো কার্যকর চিকিৎসা আছে-
(১) ইনট্রাআর্টিকুলার স্টেরয়েড
(২) ফিজিওথেরাপি।
স্টেরয়েড ইনজেকশনের বেশকিছু জটিলতা ও প্রতি নির্দেশ রয়েছে। এক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি সর্বোত্তম।

ফিজিওথেরাপিঃ আলট্রাসাউন্ড বা শর্টওয়েভ ডায়াথার্মি প্রয়োগ করে কাঙিক্ষত ফলাফল পাওয়া সম্ভব নয়। ফিজিওথেরাপি প্রয়োগের পূর্বে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে নেবেন রোগীর কাঁধের কোন মাংসপেশী/লিগামেন্ট/ক্যাপস্যুল আক্রান্ত। সিরিয়্যাক্র অর্থোপেডিক ম্যানিপুলেশন এক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া স্ট্রেচিং, ম্যানুয়াল ট্রাকশান ও নানা ধরনের মোবিলাইজিং এক্সারসাইজে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ ছাড়া এসব ম্যানিপুলেশন করাবেন না। এতে কাঁধের সাধারণ কাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উপদেশঃ আক্রান্ত হাতে ভারী কাজ নিষেধ। গোসলের সময় উষ্ণ পানির ধারায় ২০/৩০ মিনিট কাঁধ ভিজিয়ে রাখুন; আরাম পাবেন। আক্রান্ত কাঁধের দিকে কাত হয়ে না শোয়াই ভালো। দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ সেবন করবেন না। বহুমূত্র রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ প্রদর্শিত ব্যায়াম অব্যাহত রাখুন।

শেষকথাঃ ফ্রোজেন সোল্ডার খুবই যন্ত্রণাদায়ক। সারাদিন কাজেকর্মে খুব বেশি অসুবিধা না হলেও রাতে এই ব্যথার তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। জটিলতা বৃদ্ধি পেলে রোগীরা চুল আচড়ানো, পোশাক পরিধান, টয়লেটিং এমনকি একগস্নাস পানিও আক্রান্ত হাত দিয়ে খেতে পারেন না। তাই প্রাথমিক অবস্থায়ই ফ্রোজেন সোল্ডারের চিকিৎসা নিন।

**************************
ডাঃ মোহাম্মদ আলী
বিভাগীয় প্রধান, ফিজিওথেরাপি বিভাগ,
উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল,
চেম্বার হাসনা হেনা ফিজিওথেরাপি, বাড়ী নং১,
শায়েস্তাখান এভিনিউ, সেক্টর-৪, উত্তরা, ঢাকা।
দৈনিক ইত্তেফাক, ০৭ মার্চ ২০০৯।