দাঁত বের করে যে হাসি, সেই হাসি মনকে প্রফুল্ল করে। দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য আমরা দাঁত ব্রাশ করি, ফ্লশ করি, ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেই, কিন্তু মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্যকে মনে রেখে খাওয়ার দিকে নজর দিই কমই।

একাডেমি অব জেনারেল ডেন্টিস্ট্রির মুখপাত্র পলা শ্যানন জোনস্‌ ডিডিএস বলেন, সুন্দর, সুস্থ-সবল দেহ গঠনের জন্য পুষ্টি সম্বন্ধে আমরা জানি। তাই এভাবে যা আমরা খাই তা দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য বজায় রাখবে, তাই তো।

চিনি দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, সবাই জানেন। বিস্ময়ের ব্যাপার, এই অনেক সময় স্বাস্থ্যকর অনেক খাবার দাঁতে কোটর সৃষ্টি করতে পারে, আবার অনেক খাবার দাঁত ও মুখকে রক্ষা করে ক্ষয়, মাড়িরোগ এমন মুখে দুর্গন্ধ থেকে। তাই দাঁতের সুস্বাস্থ্য, দাঁতের পরিচর্যা ও সুস্থ দাঁতের জন্য খাওয়া কেমন হওয়া উচিত সে সম্বন্ধে কিছু আলোচনা।

শ্বেতসার ও শর্করা খেতে হবে কেবল বেলার খাবারে অন্য সময় নয়ঃ

একমুঠ পটেটো চিপস এমনকি আটার রুটির রোল দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, ক্ষতিকর হতে পারে মাড়ির জন্য, চকোলেট চিপ্‌কুকি যেরকম ক্ষতিকর সেরকমই। সব শর্করাই ভেঙ্গে সরল শর্করা হয়, যা পরিশেষে মুখগহ্বরে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে আঠালো খাদ্যাবশেষ বা প্লাক তৈরি করে যা মাড়ির রোগ ও দাঁতে গহ্বরের জন্য দায়ী।

‘শ্বেতসার খাবার যেমন রুটি ও বিস্কিট এগুলো একটি চর্বণযোগ্য, আঠালো পদার্থে পরিণত হয়। ফলে সহজেই দাঁতের ফাঁকে ও মাড়ি রেখায় আটকে যায়, সেখানে জীবাণু জমা হতে থাকে।’ বলেন, আমেরিকান ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনের মুখপাত্র ডক্টর ক্রিস্টিন গার্বস্টাট। তাই শ্বেতসার কেবল খাবেন বেলার খাবারে, স্ন্যাকসের সময় নয়, বেশি পরিমাণ খাওয়ার যে বেলায় খাওয়া হয় সে সময় লালা বের হয় বেশি, এতে খাদ্যকণাও সহজে ধৌত হয়ে যায়।

চা পান করুনঃ কালো ও সবুজ চায়ে রয়েছে পলিফেনোল, এই এন্টিঅক্সিডেন্ট উদ্ভিজ যৌগটি দাঁতে প্লাক জমতে বাধা দেয় এবং দাঁত গহ্বর ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করে। শিকাগো কলেজ অব ডেনটিস্ট্রিতে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এসোসিয়েট ডিন ডক্টর ক্রিস্টিন ডি ইউ যিনি চা ও মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ও দাঁতের পরিচর্যা সম্বন্ধে অনেক গবেষণা করেছেন, তার ব্যাখ্যা হলো, ‘মুখে দুর্গন্ধ দূরীকরণে চা-এর বেশ অবদান রয়েছে কারণ যে ব্যাকটেরিয়া এই দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে চা এর বাড়ন ব্যাহত করে।’

স্ট্র দিয়ে তরল পান করুনঃ কোমল পানীয় খাওয়া বারণ তবু কদাচিৎ পান করতে হলে নির্দেশ আছে। বেশিরভাগ সোডা, স্পোর্টস ড্রিংকস এবং জুসে রয়েছে এসিড যেমন সাইট্রিক ও ফসফোরিক, এসব পানীয় ডায়েট বা সুগারমুক্ত হলেও দাঁতের এনামেলের ক্ষয় ঘটাতে পারে। তাই একটি স্ট্রর সাহায্যে স্ট্রয়ের ডগা জিবের পেছনে রেখে এসব অম্স্ন পানীয় ছোট ছোট চুমুকে পান করলে দাঁতের এনামেলের সঙ্গে সংস্পর্শ ঘটে না, সুরক্ষা হয় এনামেলের, গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ ডেন্টাল জার্নালে।

বাড়ান ভিটামিন সি গ্রহণঃ জোনস বলেন, ভিটামিন সি হলো সিমেন্ট যা দেহের কোষগুলো একত্রে ধরে রাখে, ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মাড়ির জন্য হিতকরী। যেসব লোক দিনে ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি’র কম গ্রহণ করেন (৮ আউন্স কমলার রস/একটি কমলায় রয়েছে ৮০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন-সি) তাদের মাড়ির রোগ হবার সম্ভাবনা যারা ১৮০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি গ্রহণ করেন এদের তুলনায় ২৫% বেশি। ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি এট্‌ বাফেলোতে ১২০০০ লোকের উপর পরিচালিত একটি গবেষণা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

দিনে গ্রহণ করুন ৮০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামঃ বাফেলো গবেষকদের ভাষ্য যারা ৮০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করেন এদের মাড়ির রোগ হবার সম্ভাবনা কম। কারণ হল দেহের ৯৯% ক্যালসিয়াম রয়েছে হাড়ে ও দাঁতে। খাদ্যে ক্যালসিয়াম যা রয়েছে পনির, দুধ ও পনিরে- এগুলো চোয়ালের হাড়কে মজবুত করে, এতে দাঁত থাকে যথাস্থানে। ৫০ বছরের নিচে নারীদের জন্য পরামর্শ হলো ১০০০ মিলিগ্রাম দিনে ও এর চেয়ে বয়স বেশিদের জন্য ১২০০ মিলিগ্রাম।

**************************
অধ্যাপক ডাঃ শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস,
বারডেম, ঢাকা।
Email: subhagata@msn.com
দৈনিক ইত্তেফাক, ১৪ মার্চ ২০০৯।