কতটুকু বা কতক্ষণ ঘুম চাই তা বিভিন্ন বয়সে এবং বিভিন্ন জনে তফাত হতে পারে। তবে বয়স্কদের দৈনিক গড়ে ৮ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। সারাদিন কাজকর্মের পর আমাদের শরীর একটু বিশ্রাম চায়। ঘুমের পর শরীর পূর্ণ উদ্যম ফিরে পেতে পারে। নিদ্রাটা চাই গভীর।

গড়ে বিভিন্ন বয়সে ঘুম যেরূপ প্রয়োজনঃ

বয়স দৈনিক ঘুম (প্রায়)

প্রথম ৬ মাস ১৪-১৬ ঘন্টা

৬-১২ মাস ১৩-১৪ ঘন্টা

১-২ বছর ১২-১৩ ঘন্টা

২-৬ বছর ১০-১৩ ঘন্টা

৬-১২ বছর ৯-১১ ঘন্টা

১২-১৮ বছর ১০ ঘন্টা

১৮ বছরের উপরে ৮ ঘন্টা

লন্ডনের ওয়ারিক মেডিক্যাল স্কুলের অধ্যাপক ফ্রান্সিসকো ক্যাপুশিওর অভিমত, বয়স্কদের দৈনিক ৭ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। তিনি গবেষণায় দেখেছেন যে, ঘুমের পরিমাণ কমে দৈনিক ৫ ঘন্টার কম হলে মৃত্যু ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। নিদ্রাহীনতা হ্নদরোগজনিত মৃত্যু ঝুঁকি দ্বিগুণ করে। আর অতিনিদ্রায় এই ঝুঁকি আরো বেশি।

গবেষকরা দেখেছেন যে, দৈনিক ৬ ঘন্টার কম ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবার এও দেখা গেছে যে, দৈনিক ৯ ঘন্টার অধিক ঘুমও স্বাস্থ্যের জন্য অপকারী। নর্থ ক্যারোলিনা স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর ইপিডেমিওলজির সহকারী অধ্যাপক ডাঃ জিউ চিইয়ান চেন আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের এক জার্নালে দেখিয়েছেন যে, যে সকল পঞ্চাশোর্ধ বা পোস্ট মেনোপজাল মহিলা দৈনিক ৯ ঘন্টার অধিক ঘুমান তাদের হার্ট এটাকের সম্ভাবনা, যারা দৈনিক ৭ ঘন্টা ঘুমান তাদের চেয়ে ৬-৭০ শতাংশ বেশি। আর যারা দৈনিক ৬ ঘন্টার কম ঘুমান তাদের এই ঝুঁকি ১৪ শতাংশ বেশি। স্মৃতিশক্তি সংহত বা দৃঢ় করার জন্যও ঘুম চাই। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে পড়া বা শেখা বিষয়গুলোকে মনে রাখার জন্য দরকার। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট, অফিসে বা স্কুলে ঘুম ঘুম ভাব, কাজ গুলিয়ে ফেলা, পড়া মনে করতে না পারা, অল্পতেই চটে যাওয়া, মাথা ব্যথা, চোখ জ্বলা, সপ্তাহে একদিন ছুটির দিনে ঘুম পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

আজকালকার কাজের ধরন, টিভি, ফোনালাপ ইত্যাদির কারণে অধিকাংশ মানুষের ঘুম ১০০ বছর আগের মানুষের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কমে গিয়েছে। ফলে আজকাল প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষের দিনে একটু ঝিমুনির ভাব আসে।

ঘুমের জন্য যা করা প্রয়োজনঃ

প্রতি রাতে মোটামুটি একই সময় ঘুমাতে যান। একটু সকাল সকাল ঘুমাতে যান। ঘুমাতে যাওয়ার আগে চা, কফি বা ভুঁড়িভোজ বর্জন করুন। ঘরের আলোটা নিভিয়ে দিন। শয়নকক্ষ থেকে টিভি সরিয়ে দিন। দিনে হালকা ব্যায়াম করুন।

**************************
ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ,
সহযোগী অধ্যাপক, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ, কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজ, ময়মনসিংহ।
দৈনিক ইত্তেফাক, ১৪ মার্চ ২০০৯।