ওষুধ আমাদের জীবনধারণের একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার যেমন রোগ মুক্তিতে সহায়তা করে তেমনই না জেনে ওষুধ সেবনে আমরা হতে পারি ভয়ানক ক্ষতির সম্মুখীন। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যুক্তরাজ্যে তিনভাগের এক ভাগ মানুষ বাজারে প্রচলিত ব্যথানাশক ওষুধসমূহের ব্যবহারবিধির পার্থক্য সম্পর্কে জ্ঞাত নয়। বিশেষজ্ঞের মতে, পাকস্থলীতে সহনশীল হওয়ায় ব্যথানাশক হিসেবে প্যারাসিটামল তাদের প্রথম পছন্দ। আমাদের দেশে আমরা সাধারণত ব্র্যান্ড নামেই ওষুধ চিনে থাকি এবং ফার্মেসীর দোকান থেকে ব্র্যান্ড নামেই ওষুধ কিনি, কখনো জানতে চাই না ওষুধটির উপাদান, ব্যবহারবিধি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে। আমরা যদি ব্যথানাশক ওষুধসমূহের ব্যবহারবিধির পার্থক্য দেখি তাহলে দেখব প্যারাসিটামল ব্যথা ও তাপমাত্রা কমায়, অ্যাসপিরিন ব্যথানিরোধক, তাপমাত্রা হ্রাস ও প্রদাহনাশক হিসেবে ব্যবহ্নত হয়। একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী যে, অ্যাসপিরিন ষোল বছরের নিচে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কোনভাবেই খাওয়ানো যাবে না। আইবুপ্রোফেন অ্যাসপিরিন এর মত কাজ করে তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিছুটা কম। ইদানীং বাজারে অধিক কার্যকারিতার জন্য প্যারাসিটামল এর সাথে ক্যাফেইন যোগ করে দেয়া হয়। এ জাতীয় প্যারাসিটামল মাত্রাতিরিক্ত বা দীর্ঘদিন ব্যবহারে লিভার এর ক্ষতি হয় কারণ লিভারে ই.কলি নামক ব্যাকটেরিয়া প্যারাসিটামলকে ভেঙ্গে বিষাক্ত উৎপাদ তৈরি করে যা লিভারের ক্ষতিসাধন করে। অ্যাসপিরিন খুবই জ্বালাময়ী, দীর্ঘদিন ব্যবহারে পাকস্থলীতে রক্তপাত ঘটায় এবং আলসার তৈরি করে। অপরদিকে বাতের ব্যথায় যারা আইবুপ্রোফেন, ইনডোমিথাসিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন তাদের হ্নদরোগ ও স্ট্রোক এর ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সজাগ থাকুন, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না। জেনে, বুঝে, সঠিক নিয়মে ওষুধ খান, নিরাপদ থাকুন।

**************************
আরিফুর রহমান ফাহিম,
প্রভাষক, ফার্মেসী বিভাগ,
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
দৈনিক ইত্তেফাক, ১৪ মার্চ ২০০৯।