স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
হাড়ের যক্ষ্মা
http://health.amardesh.com/articles/1467/1/aaaaa-aaaaaaa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 05/8/2009
 
যক্ষ্মা রোগ এ দেশে মারাত্মক রোগ হিসেবে পরিগণিত ছিল। কথায় আছে, ‘যার হয় যক্ষ্মা তার নাই রক্ষা’। সময়ের ব্যবধানে মানুষ এই রোগ জয় করতে পেরেছে। যক্ষ্মা রোগ বলতে মানুষ সাধারণত ফুসফুসের রোগকেই বুঝে থাকে। কিন্তু যক্ষ্মা ফুসফুস ছাড়াও শরীরের অন্যান্য স্থানেও হতে পারে। তন্মধ্যে অস্থি ও অস্থিসন্ধি অন্যতম। অস্থির মধ্যে কশেরুকা ও অস্থিসন্ধিতে যক্ষ্মা বেশি দেখা যায়। লম্বা অস্থি কিংবা হাত ও পায়ের অস্থিতে যক্ষ্মা দেখা দিতে পারে। প্রথমে অস্থিসন্ধি আক্রান্ত হয়। তারপর অস্থিতে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং সেখান থেকে পুঁজ জাতীয় পদার্থ বের হতে পারে।

হাড়ের যক্ষ্মা

যক্ষ্মা রোগ এ দেশে মারাত্মক রোগ হিসেবে পরিগণিত ছিল। কথায় আছে, ‘যার হয় যক্ষ্মা তার নাই রক্ষা’। সময়ের ব্যবধানে মানুষ এই রোগ জয় করতে পেরেছে। যক্ষ্মা রোগ বলতে মানুষ সাধারণত ফুসফুসের রোগকেই বুঝে থাকে। কিন্তু যক্ষ্মা ফুসফুস ছাড়াও শরীরের অন্যান্য স্থানেও হতে পারে। তন্মধ্যে অস্থি ও অস্থিসন্ধি অন্যতম। অস্থির মধ্যে কশেরুকা ও অস্থিসন্ধিতে যক্ষ্মা বেশি দেখা যায়। লম্বা অস্থি কিংবা হাত ও পায়ের অস্থিতে যক্ষ্মা দেখা দিতে পারে। প্রথমে অস্থিসন্ধি আক্রান্ত হয়। তারপর অস্থিতে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং সেখান থেকে পুঁজ জাতীয় পদার্থ বের হতে পারে। কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক বা চাকতি প্রথমে আক্রান্ত হয় তারপর কশেরুকার দেহে তা ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে যক্ষ্মা মেরুদণ্ডের চার দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং মেরুরজ্জুও আক্রান্ত হতে পারে। হাত ও পায়ের ছোট অস্থিগুলো আক্রান্ত হলে মোটা হয়ে ফুলে যায় এবং ভেতরের হাড় ক্ষয়ে যায়। অস্থিসন্ধির মধ্যে বক্ষদেশীয় ও কটিদেশীয় কশেরুকার অস্থিসন্ধি, কোমর ও হাঁটু আক্রান্ত হয়। রক্তের মাধ্যমেও শরীরের অন্যান্য স্থান থেকে যক্ষ্মার জীবাণু এসব স্থানে আক্রমণ করে। আক্রান্ত অংশে হাড় ও নরম কলাগুলো পচে যায়।

লক্ষণগুলো
১. রোগীর যক্ষ্মা রোগীর সাহচর্যে বাস করার ইতিহাস থাকবে।
২. যক্ষ্মার সাধারণ যে লক্ষণ তা দেখা দেবে যেমন­ সন্ধ্যায় জ্বর আসা, ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া, ওজন কমে যাওয়া, খাওয়ার অরুচি দেখা দেয়, দুর্বল হয়ে পড়া এবং কাশি বা কফ থাকতে পারে।
৩. আক্রান্ত অস্থি ফুলে যায়, ব্যথা হয়, অনেক সময় পুঁজ বের হয়।
৪. আক্রান্ত অস্থি বা অস্থিসন্ধি নড়াচড়া কষ্টকর হয় এবং বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

এই রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা
অস্থির যক্ষ্মা নির্ণয় করার জন্য নিুলিখিত পরীক্ষাগুলো করা হয়। যেমন­
১. এক্সরেঃ বুক ও অস্থির এক্সরে করে একে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা যায়। এতে অস্থি খেয়ে ফেলছে বলে মনে হয়।
২. রক্তের পরীক্ষাঃ এ ক্ষেত্রে ইএসআর বেশি থাকবে।
৩. মনটুক্স টেস্টঃ এটা তিন দিনের মধ্যে পজিটিভ হবে। একে মনটুক্স টেস্ট বলে।
৪. পুঁজ কালচার কিংবা বায়োপসি ও হিস্টোপ্যাথলজি করেও এটা জানা যেতে পারে।
৫. রেডিও আইসোটোপ বোন স্ক্যানিং করেও যক্ষ্মা রোগের আলামত পাওয়া যায়।

চিকিৎসা
অস্থির যক্ষ্মা নির্ণয় করা গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ মতে ছয় মাস, নয় মাস বা বারো মাসের ওষুধ সেবন করলে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে। যক্ষ্মার ওষুধ গ্রহণ করার সময় নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। মাঝখানে বিরতি দেয়া চলবে না।
মেডিসিন ছাড়াও অস্থি যক্ষ্মার জন্য অন্যান্য ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। যেমন হিপ বা হাঁটুর যক্ষ্মা হলে এক মাসের পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হয়। হাত বা পায়ের গিড়ায় যক্ষ্মা হলে প্লাস্টার অথবা স্প্লিন্ট ব্যবহার করলে ব্যথা কম থাকে। ফোঁড়া হলে তা পরিষ্কার করে দিতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে সর্বশেষ চিকিৎসা হিসেবে অস্থিসন্ধির সংযুক্তি দরকার পড়ে।
রোগ নির্ণয়ের পর ঠিকমতো চিকিৎসা করা হলে এই রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু অনিয়মিত ওষুধ সেবনে মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্রান্স তৈরি হয় এবং ওষুধ আর কার্যকরী হয় না। এসব রোগীর চিকিৎসা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।
 
*************************
অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আমজাদ হোসেন 
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৫ মার্চ ২০০৯।