স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
সিফিলিসের উৎস: পুরুষের স্বাস্থ্য
http://health.amardesh.com/articles/1468/1/aaaaaaaaa-aaa-aaaaaaa-aaaaaaaaa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 05/8/2009
 
সিফিলিস একটি জটিল যৌন সংক্রামক রোগ। নামটি এসেছে ফ্রাক্যাসটেরো নামক একজন চিকিৎসক, জ্যোতির্বিদ ও কবির (১৪৮৩-১৫৫৩) লেখা একটি কবিতা থেকে। কবিতার নায়কের নাম সিফিলাস। সে ছিল একজন মেষ পালক। ঈশ্বর ও ধর্ম নিন্দা করার জন্য তাকে একটি নতুন রোগ দিয়ে শাস্তি দেয়া হয়।

সিফিলিসের উৎস: পুরুষের স্বাস্থ্য সমস্যা-৬৭

সিফিলিস একটি জটিল যৌন সংক্রামক রোগ। নামটি এসেছে ফ্রাক্যাসটেরো নামক একজন চিকিৎসক, জ্যোতির্বিদ ও কবির (১৪৮৩-১৫৫৩) লেখা একটি কবিতা থেকে। কবিতার নায়কের নাম সিফিলাস। সে ছিল একজন মেষ পালক। ঈশ্বর ও ধর্ম নিন্দা করার জন্য তাকে একটি নতুন রোগ দিয়ে শাস্তি দেয়া হয়।

বলা হয়ে থাকে, আমেরিকা আবিষ্কারের পর (১৪৯২) কলম্বাসের নাবিকদের মাধ্যমে সিফিলিস রোগটি ইউরোপে আসে। সংক্রমিত নাবিকরা নেপলস অবরোধে অংশ নেয়ার সময় (১৪৯৫) ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মার্সিনারিদের সাথে একত্রে থাকে। সৈনিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে পড়ার ফলে সারা ইউরোপে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে­ ষোলো শতকের মাঝামাঝি রোগটি জাপানে পৌঁছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সিফিলিসের প্রাদুর্ভাব নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রভাব ব্যাপক, শহর এলাকায় বেশি পরিলক্ষিত হয়। বন্দরনগরীতে এবং শিল্প এলাকায় এই রোগের সংক্রমণ বেশি।
ট্রেপোনেমা প্যালিডাম নামের জীবাণুর সংক্রমণে সিফিলিস রোগ ঘটে। জীবাণুটি ১৯০৫ সালে আবিষ্কার করেন প্রাণিবিজ্ঞানী এফ শাওডিন ও চর্মবিশেষজ্ঞ ই হফম্যান।
শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আগে রোগটি ধরা পড়লে সহজে চিকিৎসা করা যায়।

সংক্রমণের উৎস
­ আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক ও শ্লেষাঝিল্লির ক্ষত
­ লালা
­ বীর্য
­ যোনি থেকে নিঃসৃত রস
­ রক্ত।

যেভাবে রোগটি ছড়ায়
­ আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে সরাসরি যৌনসঙ্গম করলে।
­ আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে পায়ুপথে সঙ্গম কিংবা মুখমৈথুন করলে অথবা চুম্বন বিনিময় করলে।
­ রক্ত সঞ্চালন কিংবা ইনজেকশনের মাধ্যমে।
­ গর্ভাবস্থায় আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে।

প্রাথমিক গোটা
অধিকাংশ ক্ষেত্রে সিফিলিস আক্রান্ত পুরুষের লিঙ্গমুণ্ডুতে কিংবা লিঙ্গমুণ্ডুর ত্বকে গোটা ওঠে; নারীর ক্ষেত্রে গোটা ওঠে যোনির ঠোঁট কিংবা ক্লাইটরিসে। গোটাটি প্রথমে একটি ছোট লাল দানার মতো শুরু হয়, তারপর তা ভেজা ও ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। গোড়ার দিকে তা বোতামের মতো শক্ত অনুভূত হয়। এটা দেখতে খুব ছোট কিংবা আঙুলের নখের মতো হতে পারে। অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে চিকিৎসা অর্থহীন, কারণ জীবাণু শরীরের গভীরে প্রবেশ করে।


*************************
ডাঃ মিজানুর রহমান কল্লোল
লেখকঃ জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন। চেম্বারঃ কমপ্যাথ লিমিটেড, ১৩৬ এলিফ্যান্ট রোড (বাটা সিগনাল ও হাতিরপুল বাজারের সংযোগ সড়কের মাঝামাঝি), ঢাকা।
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৫ মার্চ ২০০৯।