সাধারণত রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করে হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ণয় করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা রক্তের তিনটি প্রোটিন পরীক্ষা বা পরিমাপের মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে হৃদরোগ নির্ণয় করা সম্ভব বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় গবেষক ডা: আর্থার জেমস একে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলে স্বীকার করলেও হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন, প্রোটিন পরীক্ষার পরামর্শ দেয়ার আগে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। মোট ১৩টি হাসপাতালের ১ হাজার ৪৫ জন রোগীর রক্তের প্রোটিন এপো-এ, এপো-বি এবং ডি-ডিমার পেঁপে গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে এসেছেন। যেসব রোগীর রক্তে এপো-বি’র পরিমাণ বেশি, তাদের দ্বিতীয় দফা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ। আর যেসব রোগীর রক্তে তিন প্রকার প্রোটিনের পরিমাণই অস্বাভাবিকভাবে বেশি, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮ গুণ। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, যেসব রোগীর দেহে কোলেস্টেরলের পরিমাণ স্বাভাবিক এবং রক্তে এপো-বি প্রোটিনের পরিমাণ বেশি, তাদের দ্বিতীয়বার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। রক্তে এপো-বি’র পরিমাণ বেশি হলে রক্তবাহী শিরার দেয়ালের কোলেস্টেরল ও অন্যান্য চর্বির আস্তরণ পড়ে এবং রক্তে এপো-এ থাকলে ধমনীর কোলেস্টেরল হ্রাস পায়।
ডিমে ক্ষতি নেই
অতিরিক্ত ডিম খাওয়া ভালো নয়­ এমন ধারণা ঝেরে ফেলুন। অনেকেই মনে করেন ডিমের কারণে হৃদরোগ বা রক্তে অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে পারে। তবে এ ধারণাকে ভুল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আমেরিকার ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনের গবেষকরা। তারা ২১ হাজার পুরুষের ওপর জরিপ করে দেখেছেন ডিমের কারণে তারা কেউ মারা যায়নি। গত ২০ বছরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মাত্রাতিরিক্ত ডিম খাওয়ার ফলে মাত্র শতকরা ২৩ ভাগের মৃত্যুঝুঁকি থেকে যায়। তবে গবেষকরা আরো জানিয়েছেন, সপ্তাহে প্রতিদিন খাদ্য তালিকা থেকে ডিম বাদ গেলে তা ক্ষতির কারণ হবে। ডিমের কুসুমে যে ২০০ মিলিগ্রাম চর্বি আছে তা যেন কোনোভাবেই বাদ না পড়ে। এতে করে বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগ থেকে মুক্ত থাকা যাবে।

*************************
ডাঃ কাজী মাহবুবা আক্তার
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৫ মার্চ ২০০৯।