আমাদের কিছু কিছু ছোটখাটো শারীরিক ও মানসিক সমস্যা সব সময়ই মোকাবিলা করতে হয়। সব সময় তার জন্য আমরা চিকিৎসকের কাছে যেতে চাই না। এসব সমস্যা কখনো অবজ্ঞা করতে চাই। আবার কখনো তাও পারি না। এসব সমস্যা দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করে জিইয়ে রাখলে বড় ধরনের স্বাস্হ্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারি আমরা। এরুপ কিছু সমস্যার সহজসাধ্য ও বৈজ্ঞানিক/স্বাস্হ্যসম্মত সমাধান এখানে আলোচনা করছি। এখানে খাদ্য উপাদানই প্রধান হাতিয়ার।

স্মৃতি যখন প্রতারণা
 
করতে চায়ঃ এক মুঠো বাদাম খান। বাদামসহ এ-জাতীয় খাদ্যদ্রব্য স্মৃতি বিভ্রাট (আলঝেইমারস রোগ) প্রতিরোধ করে বা হওয়ার গতিকে মন্হর করে। বাদামে ভিটামিন ‘ই’ আছে যা মস্তিষ্ককে রক্ষা করে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্হ্য বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, ভিটামিন ‘ই’ বয়সজনিত মস্তিষ্ক কোষ ধ্বংস প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে। তবে ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ বড়ি/ক্যাপসুল খাওয়ার জন্য খুব একটা পরামর্শ দেয়া হয়নি। খাদ্যের ভিটামিন ‘ই’-ই শ্রেষ্ঠ।

বুক ভরে দম নিতে বাধছেঃ প্রতি সপ্তাহে কয়েক টুকরো মাছ খান। ম্যাগনেসিয়াম ফুসফুসের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং হাঁপানির আক্রমণের হার কমায়। হাঁপানির তীব্রতা প্রশমনের জন্য জরুরি চিকিৎসা কক্ষেও ম্যাগনেসিয়াম রাখা হয়। মৎস্য, সামুদ্রিক খাদ্য, বাঁধাকপি ইত্যাদি ম্যাগনেসিয়ামের উত্তম উৎস। ফুসফুস ও হাঁপানি বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন কিছু পরিমাণে মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

হাঁটুতে সামান্য সামান্য ব্যথা করেঃ দিনে তিনবার এক বাটি সিদ্ধ মিশ্র সবজি খান। যত বেশি পরিমাণে রান্না করা সবজি খাওয়া যাবে, আর্থাইটিসের ঝুঁকি তত কমবে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন কয়েক রকম রান্না করা সবজি খান, তাদের আর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকি ৭৫% কম, যারা সবজি সচরাচর খান না, তাদের চেয়ে।

দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়েঃ প্রতিদিন কমপক্ষে একটি আমলকী খান। দাঁত ব্রাশ করার সময় প্রদাহ হওয়া মাড়ি থেকে আঘাতের কারণে রক্ত পড়ে। এ রোগটি ভিটামিন ‘সি’র অভাবের একটি সহজ উপসর্গ। ভিটামিন ‘সি’র অভাব হলে দেহের কোলাজেন কলা ভাঙতে থাকে। আর এটি মাড়ি থেকেই শুরু হয়। আমলকীতে সর্বোচ্চ পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ আছে।

নিঃশ্বাসে গন্ধ বেরোয়ঃ দিনে নিদেনপক্ষে আট গ্লাস পানি পান করুন। নিঃশ্বাস সুগন্ধিময় করার মিন্ট চোষার চেয়ে প্রচুর পরিমাণে পানি পান অনেক বেশি উপকারী। কাছাকাছি সব সময় এক বোতল পানীয় রাখুন। মুখে সালফার জাতীয় পদার্থের উপস্হিতির কারণে নিঃশ্বাস দুর্গন্ধময় হয়। পানি পান করলে এসব ধুয়ে যায় এবং মুখ গন্ধহীন রাখার লালা মুখ গহ্বর দখল করে নেয়।

উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেনঃ প্রতিদিন ১ গ্লাস কমলার রস ও ১ গ্লাস দুধ পান করুন। খাদ্য থেকে বেশি পরিমাণে পটাসিয়াস ও ক্যালসিয়াম পেলে তা রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। এরা কিডনিকেও বেশি কাজ করার অবস্হায় রাখে। কমলার রসে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াস থাকে। আর দুধে আছে ক্যালসিয়াম। কমলার রসে উপস্হিত ভিটামিন ‘সি’ হৃৎপিন্ডকে রক্ষা করে।

রক্তে কোলেষ্টেরল (এলডিএল) খুব বেশিঃ প্রতিদিন ১টি করে আপেল খান। আপেলে উপস্হিত প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃৎপিন্ডকে রক্ষা করবে। দীর্ঘদিন যাবত আপেল খেলে দেহের অধিকাংশ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মুক্তমৌলের (ফ্রি র‌্যাডিকেল) ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত থাকতে পারে।

মাথার চুল দ্রুত পড়ে যাচ্ছেঃ চর্বিবর্জিত মাংস খান। অষ্ট্রেলিয়ার অধিবাসীদের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, যারা চর্বিযুক্ত মাংস বিশেষ করে চর্বিসহ খাসির মাংস খায় নিয়মিত, তাদের মাথা দ্রুত চুলহারা হতে থাকে। এর সঙ্গে জিংকও খেতে পারেন।

অন্যদের চেয়ে বেশি শীত বোধ হচ্ছেঃ রসুন খান। যদি মনে হয় যে, জ্বর নেই কিন্তু আশপাশের মানুষদের চেয়ে বেশি শীত লাগছে, তৎক্ষণাৎ কয়েক কোয়া রসুন খেয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে গোলমরিচও খাওয়া যেতে পারে।
 
************************
ডাঃ শাহজাদা সেলিম 
আমার দেশ, ১৭ মার্চ ২০০৯।