রক্ত ধমনী বা রক্তনালীতে প্রবাহকালে রক্তনালীর গায়ে চাপ প্রয়োগ করে, এটাই রক্তচাপ। রক্তচাপ মাপার মেশিন দিয়ে এটা পরিমাপ করা হয়। হৃৎপিন্ড সঙ্কোচনের সময় সর্বোচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় সিসটোলিক ব্লাড প্রেসার এবং হৃৎপিন্ডের সম্প্রসারণের সময় সর্বনিম্ন রক্তচাপকে বলা হয় ডায়াসটোলিক ব্লাড প্রেসার। একজন সুস্হ মানুষের রক্তচাপ ১২০/৮০ এর কাছাকাছি থাকে। সিসটোলিক প্রেসার ১২১ থেকে ১৩৯ পর্যন্ত এবং ডায়াসটোলি ৮১ থেকে ৮৯ পর্যন্ত প্রি হাইপারটেনশন আসন্ন উচ্চ রক্তচাপ
 
বলা হয়। এই রক্তচাপ প্রাপ্তবয়স্ক যে কোনো ব্যক্তির জন্যই প্রযোজ্য। রক্তচাপ ১৪০/৯০ অথবা এর উপরে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। উচ্চ রক্তচাপ দু’ভাবে হয়ে থাকে-রক্তনালীতে জলীয় অংশের আয়তন বেড়ে গেলে অথবা রক্তনালী সরু হয়ে গেলে। কিডনি বিকলের ক্ষেত্রে অসুস্হ কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে পারে না। তাই জলীয় অংশের আয়তন বেড়ে যায়, ফলে উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি হয়। আবার অনেক রোগে রক্তনালী সরু হয়ে রক্তচাপ বাড়ে।

কিডনি বিকল নীরব ঘাতক। কাজেই অঙ্কুরেই কিডনি রোগ রোধ করতে হলে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে তা নির্ণয় করা সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ কিডনির রক্তনালীর ক্ষতি করলে রক্তের আমিষ বা প্রোটিন প্রস্রাবে নির্গত হয়। ল্যাব টেষ্টের মাধ্যমে তা সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব। এমনকি একেবারে প্রাথমিক অবস্হায় যখন অতি সামান্য এলবুমিন বা মাইক্রোএলবুমিন যেতে থাকে, প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে তা নির্ণয় করা সম্ভব এবং এ পর্যায়ে চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনি রোগ সম্পুর্ণ নিরাময় করা যায়।

যখন কিডনি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় তখন রক্তে দুষিত পদার্থ জমতে থাকে, এর মধ্যে ক্রিয়েটিনিন একটি। রক্তে এই ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয় করে কিডনি শতকরা কতভাগ কাজ করছে তা নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা যায়।  
 
************************
অধ্যাপক ডাঃ এমএ সামাদ 
আমার দেশ, ১৭ মার্চ ২০০৯।