স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস থেকে সাবধান
http://health.amardesh.com/articles/1477/1/aaaaaaaaaa-aaaa-aaaaaa-aaaa-aaaaaa--/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 05/8/2009
 
ভাইরাল হেপাটাইটিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক ভাইরাস হচ্ছে হেপাটাইটিস ‘সি’। সাধারণত রক্তের মাধ্যমে এ প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে। ১৯৮৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। হেপাটাইটিস সি লিভারের একটি মারাত্মক শত্রু। হেপাটাইটিস সি নামক ভাইরাসটি লিভার কোষ ধ্বংস করে ফেলে লিভার প্রদাহের সৃষ্টি হয় ও লিভারের কোষ ধ্বংস অব্যাহত থাকে। হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের ৫-৮ বছরের মধ্যে এর কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না, ফলে ১০/১২ বছরের মধ্যে রোগী লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যাসারে আক্রান্ত হয়। অধিকাংশ রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে বুঝতেই পারে না যে তার মধ্যে ঘাতক ভাইরাস লুকিয়ে আছে। এ জন্যই সি ভাইরাসকে বলা হয় নীরব ঘাতক।

হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসথেকে সাবধান

ভাইরাল হেপাটাইটিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক ভাইরাস হচ্ছে হেপাটাইটিস ‘সি’। সাধারণত রক্তের মাধ্যমে এ প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে। ১৯৮৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। হেপাটাইটিস সি লিভারের একটি মারাত্মক শত্রু। হেপাটাইটিস সি নামক ভাইরাসটি লিভার কোষ ধ্বংস করে ফেলে লিভার প্রদাহের সৃষ্টি হয় ও লিভারের কোষ ধ্বংস অব্যাহত থাকে। হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের ৫-৮ বছরের মধ্যে এর কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না, ফলে ১০/১২ বছরের মধ্যে রোগী লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যাসারে আক্রান্ত হয়। অধিকাংশ রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে বুঝতেই পারে না যে তার মধ্যে ঘাতক ভাইরাস লুকিয়ে আছে। এ জন্যই সি ভাইরাসকে বলা হয় নীরব ঘাতক।

বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার (ডঐঙ) হিসাব মতে, বিশ্বের প্রায় ১৭ কোটি মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রতি বছর ৩০-৪০ লাখ মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের দেশে শতকরা ৩/৬ ভাগ লোক হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের বাহক। বর্তমানে বিশ্বের হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এইডস আক্রান্ত রোগীর চেয়ে চার গুণ বেশি।

হেপাটাইটিস সি কীভাবে ছড়ায়?

হেপাটাইটিস সি প্রধানত রক্ত পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই সেভিং রেজার, ক্ষুর, ব্লেড, টুথব্রাশ ও ইনজেকশনের সিরিঞ্জ একাধিক ব্যবহার করলেও হেপাটাইটিস সি ভাইরাস ছড়াতে পারে।

হেপাটাইটিস সি কীভাবে ছড়ায় না?

যৌনমিলনের মাধ্যমে এবং মা থেকে গর্ভস্হ সন্তানের হেপাটাইটিস সি সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অপরদিকে সামাজিক মেলামেশায় যেমন হ্যান্ডশেক, কোলাকুলিতে এই ভাইরাস ছড়ায় না। এমনকি রোগীর ব্যবহৃত দ্রব্যাদি যেমন-গ্লাস, থালা, কাপ, জামা-কাপড় ইত্যাদির মাধ্যমেও এই ভাইরাস ছড়ায় না।

হেপাটাইটিস সি ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কী ব্যবস্হা নেয়া উচিত?

সেলুনে সেভ করা পরিহার করতে হবে এবং প্রতিজনের জন্য আলাদা আলাদা ব্লেড ব্যবহার বাধ্যতামুলক করা উচিত।

-- সর্বক্ষেত্রে ডিসপোজিবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।
-- রক্তদাতাদের বাধ্যতামুলক হেপাটাইটিস সি পরীক্ষা করতে হবে।
রক্ত নেয়া বা রক্ত জাতীয় পদার্থ (প্লাটিলেট, প্লাজমা) তৈরির ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস মুক্ত রক্ত ব্যবহার করতে হবে।
-- অঙ্গ সংস্হাপনের ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস সি পরীক্ষা বাধ্যতামুলক করা উচিত।
-- উপরে উল্লিখিত কারণগুলো সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
হেপাটাইটিস সি এর নির্ণয় বা পরীক্ষাঃ
প্রাথমিক অবস্হায় অহঃর-ঐঈঠ-এর উপস্হিতি নির্ণয় করতে হবে। সঙ্গে এইচসিভি এন্টি আইজিএম (ঐঈঠ অহঃর ওমস) পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে এবং পেটের উপরিভাগের আলট্রাসনোগ্রাফি করতে হবে।
হেপাটাইটিস সি আক্রান্তদের করণীয়ঃ
-- নিয়মিত চিকিৎসা নেবেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করবেন।
-- মনকে প্রফুল্ল রাখবেন ও ভাইরাস নিয়ে চিন্তা করবেন না।
-- বাইরের সেলুনে সেভ করবেন না, এমনকি বাসায় আপনার রেজার অত্যন্ত নিরাপদ স্হানে রাখবেন।
-- কাউকে রক্ত বা কিডনি দেবেন না।
হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের লক্ষণগুলোঃ
সাধারণত এ ভাইরাসে আক্রান্তদের ৫/১০ বছরের মধ্যে কোনো লক্ষণ থাকে না। অধিকাংশ ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর শরীর ম্যাজম্যাজ করে, অনেকের হাত-পায়ের পাতা গরম থাকে এবং চোখ জ্বালা করে। আহারে রুচি কম থাকে এবং পেটের পীড়ায় ভুগতে থাকে। অনেকে সাদা আমযুক্ত মলত্যাগও করে।
হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের জটিলতাঃ
এ ভাইরাসে আক্রান্তরা ১০/১২ বছর পর লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যাসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে।
এ ভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত না হওয়ায় এর প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ। প্রাথমিক অবস্হায় এ ভাইরাস শনাক্ত করা গেলে এর চিকিৎসা সম্ভব।
 
************************
আমার দেশ, ১৭ মার্চ ২০০৯।