মাউথওয়াশ হলো ওষুধসমৃদ্ধ একটি এন্টিসেপটিক দ্রবণ, যা মুখে কুলকুচি বা কুলি করার জন্য ব্যবহার করা হয়। আমেরিকান ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিষ্ট্রেশন বা এফডিএ কর্তৃক মাউথওয়াশকে প্রধানত তিন ভাগে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়েছে।
-- কসমেটিক মাউথওয়াশ।
-- থেরাপিউটিক মাউথওয়াশ।
-- উপরোক্ত দুটির সমন্বয়ে প্রস্তুত মাউথওয়াশ।
থেরাপিউটিক মাউথওয়াশকে দুইভাগে ভাগ করা যায়-
-- এন্টি প্ল্যাক বা মাড়ির প্রদাহবিরোধী মাউথওয়াশ।
-- এন্টি ক্যাভিটি বা দন্ত ক্ষয়বিরোধী ফ্লোরাইড মাউথওয়াশ।
মাউথওয়াশের উপাদানগুলোঃ বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত মাউথওয়াশে যেসব উপাদান ব্যবহৃত হয়ে থাকে সেগুলো হলো থাইমল, ইউক্যালিপ্টল, হেক্সিটিডিন, মিথাইল স্যালিসাইলেট, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট, ফ্লোরাইড, পোভিডন আয়োডিন ইত্যাদি।

মাউথওয়াশ কীভাবে ব্যবহার করবেন?
মাউথওয়াশ ব্যবহারের আগে দাঁত ব্রাশ এবং ডেন্টাল ফ্লসিং করে নেয়া ভালো। মাউথওয়াশ ২ চামচ পরিমাণ সমপরিমাণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে অথবা চিকিৎসক কতৃêক নির্ধারিত পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে। মাউথওয়াশ ৩০ সেকেন্ডের জন্য মুখের অভ্যন্তরে রেখে কুলকুচি করতে হবে। তবে ফ্লোরাইডযুক্ত মাউথওয়াশের ক্ষেত্রে ১ মিনিট কুলকুচি করতে হবে। মাউথওয়াশ ব্যবহারের ৩০ মিনিটের মধ্যে কিছু খাওয়া বা ধুমপান করা ঠিক নয়। অন্যথায় মাউথওয়াশের কার্যকারিতা অনেকাংশে হ্রাস পায় অথবা নষ্ট হয়ে যায়।
অতিরিক্ত বা যথাযথ মাউথওয়াশ ব্যবহার না করলে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে সেগুলো হলো-
-- মুখের স্বাদের পরিবর্তন আসতে পারে। মুখের স্বাদের এ পরিবর্তন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার জন্য হতে পারে আবার ক্ষেত্রবিশেষে ১ সপ্তাহ পর্যন্ত স্হায়ী হতে পারে।
-- দাঁতে দাগ পড়তে পারে।
-- মুখের অভ্যন্তরে শুষ্কভাব বিরাজ করতে পারে।
-- মুখের অভ্যন্তরে জ্বালাপোড়া বা প্রদাহজনিত অনুভুতির সৃষ্টি হতে পারে। * অতিরিক্ত ব্যবহারে মুখে ঘা বা আলসার দেখা যেতে পারে।

************************
ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন  
আমার দেশ, ১৭ মার্চ ২০০৯।