ডায়াবেটিস রোগের জন্য দাঁতের মাড়ি এবং হাড়ে (যা দাঁতকে যথাস্থানে রাখতে সাহায্য করে) ইনফেকশন হতে পারে। অন্যান্য ইনফেকশনের মত রক্তে গস্নুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে দাঁতের মাড়িও আক্রান্ত হতে পারে। এই সমস্যাকে প্রতিরোধ করার জন্য বছরে অন্তত দু’বার ডেন্টিস্ট-এর শরণাপন্ন হওয়া উচিত এবং অবশ্যই ডাক্তারকে আপনার ডায়াবেটিস সম্পর্কে অবহিত করা প্রয়োজন। দিনে দু’বার দাঁত ব্রাশ ও ডেন্টাল ফ্লস দ্বারা পরিষ্কার করা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন। ডায়াবেটিস রোগীদের দাঁতের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার এটাই প্রধান উপায়।

পরামর্শসমূহঃ

০ ডায়াবেটিস অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন এবং যখনই ডেন্টিস্ট এর কাছে যাবার প্রয়োজন হবে তখনই আপনার ডায়াবেটিসের কথা বলা জরুরি। দাঁতের মাড়ির চিকিৎসার জন্য ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলা এবং সেই সাথে ডেন্টিস্ট-এর সাথে সার্বিক শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন।

০ দাঁত তোলা বা মুখের সার্জারির ক্ষেত্রে ইনসুলিনের মাত্রা ও নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে ভালভাবে জানা প্রয়োজন।

০ অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে ইনফেকশন ও এবসেস (এমন ফোঁড়া যেখানে পুজ থাকে) এর চিকিৎসা করা যেতে পারে তবে তা করতে হবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসার পর।

ডেন্টাল প্ল্যাকঃ

সবারই দাঁতের মাড়িতে প্ল্যাক থাকে যা আঠালো প্রকৃতির। কিন্তু যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের জন্য এই সাধারণ প্ল্যাকই মারাত্মক হতে পারে। কারণ, রক্তে গস্নুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা জীবাণুকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। ফলে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় এবং সেখান থেকে রক্ত বের হয়। অধিকতর খারাপ অবস্থা হলে ইনফেকশন দাঁতের মাড়িতে এমনকি হাড় (যা দাঁতকে যথাস্থানে রাখে) পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে এবং এভাবেই দাঁত দুর্বল হয়ে নড়ে গিয়ে পড়ে যেতে পারে বা একদিন মূল্যবান দাঁতকে হারাতে হতে পারে।

লক্ষণসমূহঃ ফ দাঁতের মাড়ি লাল হয়ে ফুলে যায়। ফ দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে। ফ দাঁতের গোড়া থেকে মাড়ি সরে যাওয়ার কারণে দাঁতকে অস্বাভাবিক অবস্থান দেখা যায়।ফ যদি দাঁত নড়ে যায় সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।ফ মুখে দুর্গন্ধ হয়।ফ দাঁতের কামড় অস্বাভাবিক অনুভূত হয়।ফ অকার্যকর ডেনচার (কৃত্রিম দাঁত) হয়।

এই ধরনের কোন সমস্যায় ডেন্টিস্টের সাথে অবশ্যই পরামর্শ করা প্রয়োজন।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পরামর্শ ও কিছু নির্দেশনাঃ

০ প্রতিবার খাবারের পর নরম ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা।

০ দিনে অন্তত একবার বিশেষত রাতে খাবার পর ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা যাতে প্ল্যাক জমতে না পারে।

০ ডেনচার (নকল দাঁত) ব্যবহার করলে তা পরিষ্কার রাখা।

০ বছরে কমপক্ষে দু’বার ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হওয়া।

০ যদি ধূমপায়ী হন তাহলে আপনার ডেন্টিস্টকে জানানো এবং তা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করা। কেননা, এটাও দাঁতের সমস্যার ও চিকিৎসার এক অন্যতম কারণ।

০ যদি দাঁতে অনেক সমস্যা থাকে তবে ডেন্টিস্ট এবং ফিজিশিয়ানের সাথে কথা বলা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা। দাঁতের কাজ করার পর কিছু সময় খাদ্য গ্রহণে বিরত থাকা।

০ যদি খাদ্য বিরতি হয় তবে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিয়মিত খাবার শুরু করা এবং কখন আবার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে হবে তা জেনে নেয়া এবং যে কোন সমস্যায় ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ রাখা।

**************************
অধ্যাপক অরূপরতন চৌধুরী,
বিভাগীয় প্রধান, ডেন্টেস্ট্রি বিভাগ, বারডেম,
১৫/এ, গ্রীনরোড, ঢাকা।
দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ মার্চ ২০০৯।