হাসি হাঁচি-কাশির চেয়েও সংক্রামক। তবে ক্ষতি নয়, স্বাস্থ্য সুবিধা অনেক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য হচ্ছে সম্পূর্ণ শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা। হাসি এই সংজ্ঞার সবদিকই পূরণ করে দিতে পারে। এনে দিতে পারে শারীরিক সুস্থতা, মানসিক সুস্থতা এবং সামাজিক সুস্থতা। সুতরাং হাসি চাইই চাই।

হাসি দেয় শারীরিক সুস্থতাঃ হাসিতে ভাল ব্যায়াম হয়। মুখের পেশির, বুকের পেশির, পিঠের পেশির, পেটের পেশির। হাসতে হাসতে তো বুকে পিঠে খিল ধরেই যায়। এক দন্ডের আন্তরিক হাসিতে কয়েক মিনিটের ব্যায়ামের সমান ক্যালরি খরচ হয়। হাসি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শরীরে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, হাসি হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায়। কমায় হার্ট এ্যাটাকের সম্ভাবনাও। হাসি উচ্চ রক্তচাপ কমায়। স্ট্রোকের সম্ভাবনাও কমায়। যারা নিয়মিত হাসেন, তাদের রক্তচাপ কম থাকে। হাসি হজমে সাহায্য করে, হজম করা খাদ্যব‘ শোষণেও সহায়তা করে। হাসি স্ট্রেস হরমোন কমায়। শরীরকে রিলাক্স করে। বাতের ব্যথাও কমাতে পারে।

হাসি দেয় মানসিক সুস্থতাঃ হাসি শক্তিশালী মানসিক দাওয়াই। হাসিতে মুড বা মানসিক অবস্থা ভাল হয়, মন মরা ভাব দূর হয়। হাসিতে রাগ পানি হয়ে যায়, মগজ ঠান্ডা থাকে। রস রসিকতা মানুষের চিন্তাধারা বদলে দেয়। টেনশন দূর করে, দুশ্চিন্তা দূর করে। দূর করে একাকীত্ব। হাসলে মন ভালো লাগে, শরীর ভালো লাগে। হাসলেই দেখবেন, আপনার বেশ ভাল লাগছে। মানুষের আচরণও বদলে দিতে পারে এই হাসি। হাসি মস্তিষ্ককে উজ্জীবিত করে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, মস্তিষ্ককে অধিক তথ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে।

হাসি দেয় সামাজিক সুস্থতাঃ দৈনন্দিন জীবনে হাসি চাই-ই চাই। হাসি আমাদের কাজ করার স্পৃহা বাড়িয়ে দেয়। আমাদেরকে এক অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসে। দু’জনের মধ্যে স্বল্পতম দূরত্ব হচ্ছে এই হাসি। আমরা যখন এক সঙ্গে হাসি, তখন আমরা একাকার হয়ে যাই। অদেখা সামাজিক বন্ধনে বাঁধা পড়ে যাই। যথেষ্ট প্রয়োজন এই মিলনটা। আর হাসি উপভোগ্য হয় সবচে’ বেশি যখন এটা অন্যদের সাথে ভাগ করে নেয়া হয়।

সবশেষে একটা কৌতুক। সামান্য হাসি আপনার সাথে ভাগ করে নেয়ার চেষ্টা করি। অফিসের বস পিয়নকে একটা ম্যাচবাক্স কিনে আনতে বললেন। পিয়ন দোকান থেকে ম্যাচবাক্স কিনে এনে দিল বসকে। জ্বালাতে গিয়ে বস দেখলেন, একটা কাঠিও জ্বলছে না। বসের রাগত কণ্ঠঃ ‘কী এনেছিস রে বোকা? একটা কাঠিও তো জ্বলছে না!’ পিয়নের উত্তরঃ ‘কী যে বলেন স্যার? প্রত্যেকটা কাঠি আমি নিজে জ্বালিয়ে দেখেই ম্যাচটা এনেছি স্যার।’

**************************
ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ
সহযোগী অধ্যাপক, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ,
কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজ, ময়মনসিংহ।
দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ মার্চ ২০০৯।