অতীতের বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল বিচার করে সম্প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ বলেছেন, ধূমপায়ীগণ অধূমপায়ীর, চেয়ে দ্বিগুণ বিষণ্নতার শিকার হন। গবেষণাটি মূলত মহিলাদের উপর করা। একটি জরিপে দেখা গেছে ডাক্তারদের চেয়ে নার্সগণ বেশি ধূমপান করেন, পরিসংখ্যানটি লন্ডনের। এই জন্যই হয়ত গবেষণাটিতে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তিকরণ। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত সময়কালে ১৪৯৪ জন মহিলার উপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণা কাজের প্রধান ৮৩৫ জন মহিলার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন এবং এর মধ্য থেকে ২০০৫ থেকে ২০০৭ সময়কালে ২০৮ জন মহিলাকে ক্লিনিক্যাল কাঠামো মোতাবেক সাক্ষাৎকার নেন। এর মধ্যে ১৬৫ জন মহিলার অতিমাত্রায় বিষণ্নতা লক্ষ্য করা যায়, যা তাদের ২০ বছর বয়স থেকে শুরু হয়েছিল। গবেষণায় প্রতীয়মান হয় ধূমপান এবং বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বিষণ্নতা বেড়েছে। আরেকটি পর্যালোচনা থেকে পাওয়া যায়, ৬৭১ জন মহিলার প্রাথমিক অবস্থায় বিষণ্নতা ছিল না কিন্তু এদের ফলোআপ করে দেখা গেছে ৮৭ জন ধূমপায়ীর মধ্যে ১০ বছরে ১৩ জন এবং ৫৮৪ জন অধূমপায়ীর মধ্যে ৩৮ জন বিষণ্নতায় ভুগতে শুরু করে। শুরু থেকেই ধূমপায়ী ছিলেন এমন মহিলার সংখ্যা ছিল ৮৭ জন যাদের বিষণ্নতা হওয়ার প্রবণতা ছিল দ্বিগুণ। আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিচারে বিষণ্নতার পরিণতি ছিল বিভিন্ন রকম তবে মদ্যপান, শারীরিক শ্রম, শারীরিক দুর্বলতা এসব নিয়ামক বিষণ্নতা সংশিস্নষ্টতার প্রমাণ রাখেনি। অ্যাডহ্যাডোনিয়া বা আনন্দ প্রকাশের অভিব্যক্তির স্বল্পতাই ছিল বিষন্নতার মূল দু’টি উপসর্গের একটি।

বিষণ্নতার ক্ষেত্রে ডোপামিন এর নিয়ন্ত্রণ, কার্যকারিতা বা সংশেস্নষ কমে যায়। মেসোলিম্বিক সিস্টেমে ডোপামিন সংশেস্নষকারী নিউরন মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম (পারিতোষিক তন্ত্র) তৈরি করে। ধারণা করা হচ্ছে মেসোলিম্বিক সিস্টেমের এই প্রশান্তি ও আনন্দ অনুভূতি প্রকাশক তন্ত্রে নিকোটিনের ভূমিকা রয়েছে। এজন্যই ধূমপান ও বিষণ্নতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে বলে জোর দাবি করেন গবেষকগণ। ধূমপানে বিষণ্নতার জন্ম হয় আবার বিষণ্নতায় ধূমপান উৎসাহিত হয়, উষ্ণ গবেষণার ফলাফল ধরন ও বিষণ্নতার মাপকাঠি বৈচিত্র্যময়। ধূমপান আত্মহত্যার প্রবণতাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে আগ্রাসী মনোভাবের প্রবণতা ও নিউরোট্রান্সমিটার সেরোটনিন এর কার্যকারিতার অসাম্যতাই মুখ্য।

গবেষণার ফলাফলে এও বলা হয় যে, বিষণ্ন রোগী ধূমপান ছেড়ে দিলে বিষণ্নতা কেটে যাবে, তবে আমাদের জীবন-যাত্রার ধরন সুস্থ্য ও স্বাভাবিক হতে হবে। পরিবেশের বিষণ্নতা সৃষ্টিকারী জটিলতার ব্যাপারে মোটেও বেখবর হওয়া যাবে না।’

**************************
তথ্যসূত্রঃ www.pjonline.com
মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন,
ঠিকানাঃ প্রযত্মে মোঃ আব্দুল মোন্নাফ মিয়া,
পূর্ব পানধোয়া, (পানধোয়া বাজার সংলগ্ন),
পোঃ সেনওয়ালিয়া, সাভার, ঢাকা।
দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ মার্চ ২০০৯।