ক্যালরিঃ ৩৫ থেকে ৫০ ক্যালরি প্রতি কেজি বডি ওজন হিসেবে কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাট থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

প্রোটিনঃ ক্রনিক রেনাল ফেইলিউর রোগীদের ৪০ গ্রাম প্রোটিন প্রতিদিন দেয়া যেতে পারে। কিন্তু গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট প্রতি মিনিটে ১০ মিলিলিটারের কম হলে প্রোটিন একদম সীমাবদ্ধ করতে হবে। শরীরের জন্য কমপক্ষে ২০ গ্রাম প্রোটিনের প্রয়োজন।
ফ্যাটঃ শরীরের শক্তির জন্য ফ্যাট কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে বেশি পরিমাণে খেতে দিতে হবে, যদিও এসব রোগীর সিরাম টাইগ্লিসারাইডের মান বেশি থাকে বেশি পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার জন্য বা হেমোডায়ালাইসিস করার সময় প্রচুর পরিমাণ গ্লুকোজ দেয়ার ফলে।

কার্বোহাইড্রেটঃ ইউরেমিয়ার রোগীদের বেলায় কার্বোহাইড্রেট থেকে আরো বেশি পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হয়। কারণ শরীরের ভেতরে যেন প্রোটিন বেশি ভাঙাচুরা না হয়। এর সঙ্গে শাক-সবজি বা ফলমুল বিশেষভাবে প্রসেস করে (যাতে পটাশিয়ামের পরিমাণ কম থাকে) খেতে দেয়া হয়।

ফ্লুইডঃ ক্রনিক রেনাল ফেইলিউরের প্রাথমিক অবস্হায় টিবিউলসের কনসেনট্রেটিং পাওয়ার কমে যাওয়ার কারণে প্রস্রাবের পরিমাণ বেশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে রোগীকে ফ্লুইড দেয়া হয়। পরে বমি এবং না খাওয়ার কারণে রোগী ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়, যেখানে ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড দেয়ার প্রয়োজন পড়ে।

সোডিয়ামঃ যেহেতু ক্রনিক রেনাল ফেইলিউর রোগীদের কিডনির সোডিয়াম ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়, সেজন্য খুব সহজেই এদের সোডিয়াম কমে যায়। এর ওপর খাওয়ার অরুচি এবং স্বল্প খাওয়া এই অবস্হাকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যায়। ফলে শরীরের ব্লাড ভলিউম কমে যায়। গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট কমে যায়, ফলে কিডনি ফাংশন আরো খারাপ হয়। যদি সোডিয়াম ওভারলোডের ক্ষমতা না থাকে, তাহলে রোগীকে ইন্ট্রাভেনাস স্যালাইন, খাওয়ার সঙ্গে লবণ বা অন্যান্য ফ্লুইড খেতে দেয়া হয়।
পটাশিয়ামঃ হাইপারকেলিমিয়া হতে পারে খুব বেশি টিস্যু ভাঙাচুরা হলে, প্রস্রাব কম হওয়ার কারণে। যদি হাইপারকেলিমিয়া, হাইপোকেলসিমিয়া এবং হাইপারম্যাগনেশিমিয়া একসঙ্গে থাকে, তাহলে অ্যারিথমিয়া, মাইয়োকার্ডিয়াল চেঞ্জ বা অন্যান্য ইসিজি চেঞ্জ থাকতে পারে। এগুলোর ব্যবস্হা আগে বর্ণনা করা হয়েছে। খাওয়ার পটাশিয়াম সীমাবদ্ধ করতে হবে, যেমন-শাকসবজি এবং আলুতে প্রচুর পটাশিয়াম পাওয়া যায়। এদের পটাশিয়াম কনটেন্ট বহুল পরিমাণে কমানো সম্ভব, যদি এগুলোকে ্লাইস করে কাটা যায়, অনেকক্ষণ পানিতে ধোয়া হয় এবং ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে দু’ঘণ্টা রাখা যায়।  
 
**************************
আমার দেশ, ২৪ মার্চ ২০০৯।