স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
মেছতার আধুনিক চিকিৎসা
http://health.amardesh.com/articles/1497/1/aaaaaa-aaaaaa-aaaaaaa--/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 05/8/2009
 
অনেক ক্ষেত্রেই মেছতার সুস্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না, তবে হরমোনের ব্যাপার একটি অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কিংবা ইষ্ট্রোজেন হরমোন গ্রহণ, গর্ভাবস্হা, সুর্যের অতি বেগুনি রশ্মি মেছতার অন্যতম কারণ।

মেছতার আধুনিক চিকিৎসা

অনেক ক্ষেত্রেই মেছতার সুস্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না, তবে হরমোনের ব্যাপার একটি অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কিংবা ইষ্ট্রোজেন হরমোন গ্রহণ, গর্ভাবস্হা, সুর্যের অতি বেগুনি রশ্মি মেছতার অন্যতম কারণ।

জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি যদিও মেছতার একটি অন্যতম কারণ, তবে এ বড়ি খেলেই মেছতা হবে এমন কোনো কথা নেই। আবার জীবনে একদিনও এ বড়ি খাননি অথচ তাদের মুখেও মেছতার দাগ হতে দেখা গেছে। তবে একথা সত্যি, মেছতার দাগ আছে এমন কেউ যদি 
চিকিৎসা করাচ্ছেন অথচ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়া বন্ধ করেননি, তার ক্ষেত্রে এর থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম।

মেছতার গতানুগতিক চিকিৎসাঃ এতদিন ধরে প্রায় সব চর্মরোগ বিশেষজ্ঞই হাইড্রোকুইননকেই মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে মনে করত এবং যে কেউই মেছতার ক্ষেত্রে এটিকেই লিখে থাকত। এর সঙ্গে ট্রেটিনয়েন এবং মৃদু ষ্টেরয়েডের সংযুক্ত ব্যবহারে আরো ভালো ফল পাওয়া যায়।

তবে আমাদের দেশের একশ্রেণীর সাধারণ চিকিৎসক এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা নিজেরাই মেছতার জন্য বেটনোভেট মলম মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর ব্যবহার করেন-এমন রোগীর সংখ্যাও অনেক। এটি একটি দারুণ অযৌক্তিক ও ক্ষতিকর কাজ। মুখে বেটনোভেট দীর্ঘদিন মাখলে মুখের ত্বকের জন্য যে সেটা কতটা ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু একটি কথাই বলা যায়, দয়া করে এ কাজটি কেউ করবেন না।

বর্তমান ও আধুনিক চিকিৎসাঃ হাইড্রোকুইনন বর্তমানেও ব্যবহার করা হয় এবং এর সঙ্গে ষ্টেরয়েড মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরো ভালো ফল পাওয়া যায়। ক্ষেত্রবিশেষে ট্রেটিনয়েনও খুবই উপকারী। তবে বর্তমানে কড়লরপ ধপরফ ও অুবষরপ অপরফ-এর ব্যবহারও শুরু হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এতে বেশ সুফলও পাওয়া যাচ্ছে।

তবে একটি ব্যাপার খুব স্পষ্ট করে বলা দরকার। এসব ওষুধ ত্বকের ঢ়রমসবহঃ বা রঞ্জক পদার্থ ধ্বংস করে। কিন্তু ত্বকের কালো দাগ যদি সুর্যের আলোকরশ্মির সংস্পর্শে আসে তবে সেক্ষেত্রে চিকিৎসা করেও তেমন সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি অর্থাৎ চিকিৎসা চলাকালীন অবশ্যই দিনের বেলায় বাইরে চলাচলের সময় সানব্লক ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, বাইরে যাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে এই সানব্লক মুখে মেখে নিতে হবে। মেছতার চিকিৎসায় সর্বশেষ ও কার্যকর সংযোজন হচ্ছে মাইক্রোডার্মোঅ্যাব্রেশন (গরপৎড়ফবৎসড়ধভৎধংরড়হ)। একটি যন্ত্রের সাহায্যে ত্বকের সুক্ষ্ম ও সর্বোপরি স্তরটি তুলে ফেলা হয়। এটি একটি যন্ত্রের সাহায্যে করা হয় এবং এতে কোনোরকম ব্যথা পাওয়া যায় না। এ অবস্হায় মেছতার ওষুধ প্রয়োগ করলে ওষুধের কার্যকারিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায় এবং মেছতার ক্ষেত্রে আরো দ্রুত ভালো ফল পাওয়া যায়। কেমিক্যাল পিলিং অর্থাৎ কিছু কেমিক্যাল প্রয়োগ করেও মেছতার চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে দাগ হতে পারে বিধায় যারা এ বিষয়ে সিদ্ধহস্ত নয়, তাদের দিয়ে এটি না করানোই ভালো।

মেছতার চিকিৎসায় লেজারের ব্যবহার নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও সফলতার দিক দিয়ে তা আশার আলো জাগাতে ব্যর্থ হয়েছে বললেও হয়তো ভুল বলা হবে না। এক কথায়, মেছতার ক্ষেত্রে লেজারের ব্যবহার এখনো সীমিতই রয়ে গেছে।

**************************
ডাঃ দিদারুল আহসান 
লেখকঃ চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞ
চেম্বারঃ আল-রাজী হাসপাতাল, ১২, ফার্মগেট, ঢাকা। ফোনঃ ৯১৩৩৫৬৪
সাক্ষাতের সময়ঃ বিকাল ৬টা-রাত ১০টা 
আমার দেশ, ২৪ মার্চ ২০০৯।