ওষুধ যে কোন উপায়ে শরীরে প্রবেশ করানো হোক না কেন তা রক্তে গিয়ে পৌঁছায়। তারপর রক্তের মাধ্যমে আক্রান্ত স্থানে যায়। আমাদের লক্ষ্য হল যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত স্থানে ওষুধকে পৌঁছে দেওয়া এবং সেজন্যই রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক উপায় চিহ্নিত করা হয়। অ্যাজমার রোগীর রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। অ্যাজমার ক্ষেত্রে ফুসফুসে শ্বাস-প্রশ্বাসে প্রতিবন্ধক মাংসপেশী প্রসারিত করার জন্য ইনহেলার দিয়ে সরাসরি ওষুধ ফুসফুসে প্রবেশ করানো হয়। অ্যাজমা ছাড়া অন্য কোন রোগের ক্ষেত্রে সরাসরি ওষুধ ফুসফুসে দেওয়া হয় না। চিকিৎসকেরা যদি ইনহেলার দিয়ে থাকেন তবে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য কিছু নিয়মকানুন পালন করা জরুরী তা না হলে ওষুধ সঠিকস্থানে পৌঁছাবে না অথবা অত্যাধিক ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দিবে। সঠিকভাবে ইনহেলার ব্যবহার করার জন্য প্রথমে ইনহেলার অ্যারোসলটি ভালভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। এরপর ঢাকনাটি খুলে ফেলুন। নিঃশ্বাস ভালভাবে ত্যাগ করে ইনহেলারটি মুখের কাছে রাখুন। আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস নেওয়া শুরু করুন এবং ইনহেলারটি নিচের দিকে চাপ দিন। আপনার ফুসফুস পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত শ্বাস নিন এবং চার থেকে পাঁচ সেকেন্ড শ্বাসকে ধরে রাখুন। ধীরে ধীরে শ্বাস বের করে দিন এবং পরবর্তী ডোজ নেওয়ার জন্য পাঁচ থেকে সাত মিনিট অপেক্ষা করে উপরোক্ত নিয়ম অনুসরণ করুন। মনে রাখবেন, আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইনহেলার তৈরি হচ্ছে।

**************************
আরিকুর রহমান ফাহিম
প্রভাষক, ফার্মেসী বিভাগ
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
ঢাকা।
দৈনিক ইত্তেফাক. ২৮ মার্চ ২০০৯।