১৯৬৫ সালে প্রথম আমেরিকাতে স্লিপ এপ্লিয়া রোগ নির্ণয় হয়। এ রোগীরা নিজেদের অত্যন্ত সুখী মানুষ মনে করেন। ভাবেন-যখন তখন, যেখানে সেখানে তারা ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। বিশেষ করে গাড়িতে, মিটিংয়ে, অফিসে এবং একঘেঁয়েমি যে কোনো কাজের মাঝে এরা অবলীলায় ঘুমিয়ে পড়েন। এ ক্ষেত্রে ঘুমের সময় রোগীর শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যায়। যা ১০ থেকে ২০ সেকেন্ডের বেশি স্হায়ী হতে পারে এবং ঘণ্টায় ২০-৩০ বার এ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘুমের সময় শ্বাসনালী বন্ধের ফলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ফুসফুসে যেতে পারে না এবং রক্ত ও বিভিন্ন কোষ-কলায় অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। প্রায় সব স্লিপ এপ্নিয়া রোগী ঘুমন্ত অবস্হায় নাক ডাকে। আবার ঘুমের সময় নাক ডাকলেই সবাই স্লিপ এপ্নিয়া রোগী হয় না। এ রোগের শুরুতেই রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা করা প্রয়োজন। নতুবা এর ফলে শরীরের গুরুত্বপুর্ণ অঙ্গ যেমনঃ হৃৎপিন্ড ও মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাবে ওই রক্তচাপ, হৃদরোগ, অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন এবং ষ্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
দিনের বেলায় কেউ ঘুমালে তাকে ঊউঝ (ঊীপবংংরাব উধুঃরসব ঝষববঢ়রহবংং) বলে। এতে নিম্নের ৩টি রোগের যে কোনো একটি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধরে নেয়া হয়।

রোগ তিনটি হচ্ছেঃ
১. স্লিপ এপ্নিয়া ২. নার্কোলে ৩. পিরিয়ডিক ল্যাগমুভমেন্ট

এ রোগ কাদের হয়ঃ বাচ্চা থেকে বুড়ো পর্যন্ত সবার এ রোগ হতে পারে। পুরুষরা সাধারণত ৪০ বছরের পর এ রোগে আক্রান্ত হয়। সারাবিশ্বে পুরুষদের মধ্যে শতকরা ৪ ভাগ এবং মহিলাদের মধ্যে ২ ভাগ ্লিপ এপ্নিয়া রোগী।

এ রোগের উপসর্গঃ
পুরুষ রোগীরা দিনের বেশিরভাগ সময় ঝিমায়
- রাতের চেয়ে দিনে বেশি ঘুমায়
- ঘুমের সময় নাক ডাকে
- মহিলারা দুর্বলতাবোধ করে

কী কারণে এ রোগ হয়

বাচ্চাদেরঃ
টনসিলাইটিস ও এডিনয়েডের কারণে

বড়দেরঃ
- মোটা হওয়ার কারণে
- কিছু মানুষের মুখাবয়বের গঠনগত কারণে
- মোটা জিহ্বা
- পুরুষদের গলার মাপ ১৭ ইঞ্চির বেশি হলে
- পুরুষদের গলার মাপ ১৭ ইঞ্চির বেশি হলে
- মহিলাদের গলার মাপ ১৫ ইঞ্চির বেশি হলে
- ছোট গলা হলে
- কোনো কারণে ঘুমের মধ্যে জিহ্বা পেছনে পড়ে গেলে
- ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে গেলে

রোগীর সমস্যাসমুহঃ
রাতে ঘুমানোর পরেও সতেজতা ফিরে আসে না হ হালকা ঘুম হয়, বার বার ঘুম ভেঙে যায়, দুর্বলতা অনুভুত হয় হ সকালে গলা শুকনো থাকে হ সকালবেলা মাথা ব্যথা হয় হ কর্মক্ষমতা কমে যায় হ মনোযোগ ও স্মরণশক্তি কমে যায় হ রাতে বার বার প্রস্রাব হয়

রোগী সম্পর্কে তার পরিবারের লোকদের অভিযোগঃ
উচ্চস্বরে নাক ডাকে
- ঘুমের মধ্যে পা ছুঁড়ে মারে
- ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসে
- ঘুমের মধ্যে ছটফট করে

রোগীর দীর্ঘমেয়াদি কী কী অসুবিধা হতে পারেঃ
হার্ট অ্যাটাক
- ষ্ট্রোক
- ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মৃত্যু
- অ্যারিদমিয়া (হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা)
- বুক ধড়ফড় করা
- রাতে ঘুম না হওয়া
- ৫০ ভাগ স্লিপ এপ্নিয়া রোগীর উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা
- কাজে অমনোযোগিতা

পরামর্শঃ
- ওজন কমানো
- শোবার সময় চিৎ হয়ে না শুয়ে কাৎ হয়ে শোবেন
- বিকেলের পর চা, কফি, ধুমপান ও এলকোহল পান করবেন না

চিকিৎসাঃ
- মেশিন ব্যবহার করা (ঈচঅচ, ইওচঅচ)
- ডেন্টাল এপ্লায়েস
- সার্জারি (নাক, কান, গলা)
- গলায় ছোট ছিদ্র করা।
 
 
**************************
আমার দেশ, ০৭ এপ্রিল ২০০৯।