স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
বেঁটেদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি
http://health.amardesh.com/articles/1533/1/aaaaaaaa-aaaaaaaaa-aaaaa-aaaa--/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 04/25/2009
 
বেঁটে মানুষের মানসিক যন্ত্রণার শেষ নেই। ছেলেমেয়ে উভয়েই এ যন্ত্রণার শিকার। বিশেষ সময়ে বন্ধু-বান্ধব যখন সবাই লম্বা হয়ে যায়, তখনই বেঁটে মানুষের যন্ত্রণাটা শুরু হয়। ঠাট্টা করে বন্ধুরাও বেঁটেদের নানা নামে ডাকে। আবার বিয়ের বয়স হলে পাত্রী দেখা নিয়ে বেঁটে পুরুষদের যন্ত্রণার তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। অথচ বেঁটে হওয়ার এমন কিছু কারণ আছে যেগুলো সময়মত চিকিৎসা করালে বেঁটে হওয়ার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়া যেত। সেক্ষেত্রে মা-বাবারই করণীয় থাকে। অবশ্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বংশগত কারণে এমনটি হয়ে থাকে।

বেঁটেদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি

বেঁটে মানুষের মানসিক যন্ত্রণার শেষ নেই। ছেলেমেয়ে উভয়েই এ যন্ত্রণার শিকার। বিশেষ সময়ে বন্ধু-বান্ধব যখন সবাই লম্বা হয়ে যায়, তখনই বেঁটে মানুষের যন্ত্রণাটা শুরু হয়। ঠাট্টা করে বন্ধুরাও বেঁটেদের নানা নামে ডাকে। আবার বিয়ের বয়স হলে পাত্রী দেখা নিয়ে বেঁটে পুরুষদের যন্ত্রণার তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। অথচ বেঁটে হওয়ার এমন কিছু কারণ আছে যেগুলো সময়মত চিকিৎসা করালে বেঁটে হওয়ার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়া যেত। সেক্ষেত্রে মা-বাবারই করণীয় থাকে। অবশ্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বংশগত কারণে এমনটি হয়ে থাকে।তবে বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। কেননা পুরুষরা ২১ বছর পর্যন্ত এবং মহিলারা ১৯ বছর পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। উচ্চতা বৃদ্ধি নয়-দশ থেকে আঠারো বছরের মধ্যেই বেশি হয়ে থাকে। আজকাল বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ‘২-৩ ইঞ্চি লম্বা হোন’-ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। সত্যিকার অর্থে ‘বৈজ্ঞানিক উপায়ে’ বললেও এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কোনো কোনো ব্যবসায়ী ডাকযোগে অর্থ নিয়ে ডাকযোগে লম্বা হওয়ার কলাকৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দেন। আসলে বেঁটে মানুষের যন্ত্রণা ও দুর্বলতাকে পুঁজি করে এসব অসাধু ব্যবসায়ী টু-পাইস কামিয়ে নিচ্ছেন।

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন, ‘কেউ বেঁটে, কেউ বা লম্বা কেন? ক িকী কারণে মানুষ বেঁটে হয়?’ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে নিম্নলিখিত কারণে মানুষ বেঁটে হয়ে থাকে-

- বংশগত কারণ
- ক্রোমোসমাল অ্যাবনরমালিটি
- অপুষ্টি-বিশেষ করে শিশু মাতৃগর্ভে অবস্হানকালে
- বিভিন্ন দীর্ঘস্হায়ী অসুস্হতা, যেমন হৃদরোগ, যকৃতের রোগ, কিডনি রোগ, পেটের অসুস্হতা, শরীরের দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতা, স্নায়বিক দুর্বলতা ইত্যাদি।

হরমোনজনিত কারণ
ক. গ্রোথ হরমোনের অভাব,
খ. থাইরয়েড হরমোনের অভাব,
গ. প্যারাথাইরয়েড হরমোনের অভাব,
ঘ. গ্লুকোকরটিকয়েড হরমোনের আধিক্য
- শৈশবের অপুষ্টি
- ভিটামিন ডি’র অভাবজনিত কারণ
- জুভেনাইল ডায়াবেটিস এবং
- মনোসামাজিক কারণ, অর্থাৎ সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার মানসিকতা বেঁটে হওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

বেঁটে হওয়ার উপরোক্ত কারণগুলোর মধ্যে কিছু কিছু কারণ আছে যেগুলোর চিকিৎসা করালেও খুব ভালো ফল পাওয়া যায় না। যেমন, যদি হাড়ের বয়স ২১ বছরের বেশি হয়, বংশগত কারণে এবং কিছু কিছু ক্রোমোসমাল অ্যাবনরমালিটি ইত্যাদি। তবে এমন কিছু কারণ আছে যেগুলো সময়মত চিকিৎসা করালে বেঁটে হওয়ার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

যেমন-ডায়াবেটিস (জুভেনাইল)।
- গ্রোথ হরমোনের অভাবজনিত কারণ
- থাইরয়েড হরমোনের অভাবজনিত কারণ হগ্লকোকরটিকয়েডের আধিক্যজনিত কারণ
- অপুষ্টিজনিত কারণ এবং
- সম্ভব হলে সিষ্টেমিক রোগের শুরুতে চিকিৎসা।

বেঁটেদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি
বেঁটে মানুষদের জন্য একটি দুঃসংবাদ জানিয়েছেন দুই কানাডীয় গবেষক। তাদের মতে, লম্বাদের তুলনায় বেঁটে মানুষদের করোনারি হার্ট ডিজিজ (পড়ৎড়হবৎু যবধৎঃ ফরংবধংব) হওয়ার আশঙ্কা ৫০ শতাংশ বেশি থাকে। যে রক্তনালীর মাধ্যমে হৃৎপিন্ড পুষ্টি নেয় সেখানে চর্বির আধিক্যে হৃৎপিন্ডে অপেক্ষাকৃত কম রক্ত প্রবাহিত হয়। কানাডিয়ান একজন যার উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি তার হৃদরোগের আশঙ্কা একজন ৬ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট লোকের চেয়ে বেশি।

আরো বলা হয়েছে, উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির প্রতি এক ইঞ্চি কম হলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৫ শতাংশ বেড়ে যায়। বেঁটে মানুষদের হৃদরোগজনিত মৃত্যুর হার শতকরা ২১ ভাগ বেশি তাদের লম্বা বন্ধুদের তুলনায়। ইসিজিসহ অন্যান্য পরীক্ষা এবং তিন থেকে পাঁচ বছর ফলোআপ নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে তারা জানিয়েছেন, বেঁটে মানুষ (মহিলাসহ) রক্তনালী স্বাভাবিকভাবেই সরু থাকে। তাই খুব সহজেই চর্বি জাতীয় উপাদানে রক্তনালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গবেষকরা ব্যাখ্যা করেন, কেন করোনারি বাইপাস সার্জারির সময় মহিলাদের মৃত্যুহার বেশি এবং কেনইবা বেঁটে মানুষের ঐবধৎঃ অঃঃধপশ বেশি হয়।

**************************
ডাঃ এস এম মোস্তফা জামান    
লেখকঃ হৃদরোগ ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, চেম্বারঃ ল্যাবএইড লিমিটেড, বাড়ি-১, রোড-৪, ধানমন্ডি, ঢাকা। ফোনঃ ৮৬১০৭৯৩-৮, ৯৬৭০২১০-৩
আমার দেশ, ০৭ এপ্রিল ২০০৯।