বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ বর্তমানে চুল পড়ার সমস্যায় আক্রান্ত। টিনএজার থেকে মধ্যবয়সী অনেকেরই চুল ঝরে যাচ্ছে। ছেলেদের মাথার সামনের দিকে চুল ফাঁকা হয়ে টাক দেখা দিচ্ছে। মেয়েদের বেণী চিকন হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু বর্তমানে অনেকেরই চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে, তাই নানা রকম বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে মিডিয়াগুলোতে। এসব পণ্য বিজ্ঞানসম্মত নয় এবং কেউ উপকৃত হয়েছেন বলে জানা যায়নি। ঠিক একই অভিযোগ রয়েছে রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের প্রচারের ব্যাপারে। চুল পড়তে থাকলে এর কারণ নির্ণয় ও প্রতিকার করা প্রয়োজন। বর্তমানে চুল পড়ার চিকিৎসা অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে প্রথমে চুল পড়ার কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন। চুল পড়ার নানা কারণের মধ্যে রয়েছে খুশকি ও মাথায় ত্বকের নানা সংক্রমণ ও প্রদাহ, অতিরিক্ত ধূলা-ময়লার কাজ করা, চুল সঠিকভাবে পরিষ্কার না রাখা, হরমোনের তারতম্য, সঠিকভাবে চুলের পরিচর্যা না করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ না করা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, সময় মতো ও পর্যাপ্ত না ঘুমানো এবং নানা কেমিক্যালের ব্যবহার। যেমন জেল, স্প্রে, চুল সোজা বা কোঁকড়ানোর জন্য হিট দেয়া, রঙ করা ও বংশগত।

চুল পড়ার কারণ নির্ণয়ের রোগীর ইতিহাস পর্যালোচনা করে নানা রকম পরীক্ষা ও হেয়ার অ্যানালাইসিস করা হয়। কারণ অনুযায়ী রোগীকে চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চুল পড়ার কারণ প্রতিকার করতে পারলেই চুল পড়া বন্ধ হয়। এখানে সঠিক তেল ও শ্যাম্পুর ভূমিকাও অনেক। চুলপড়া বন্ধ হওয়ার পরে নতুন চুল গড়ানোর জন্য চিকিৎসা দেয়া দরকার। এক্ষেত্রে মিনক্সিডিল বা প্রয়োজন মতো ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে।

ছেলেদের চুল পড়া বা টাকের ব্যাপারে বলতে গেলে একটা কথা না বললেই নয়, বর্তমানে অল্প বয়সী যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে তাদের সঠিক চিকিৎসার অবশ্যই প্রয়োজন। কারণ তাতে টাক পড়া রোধ করা সম্ভব হবে। মানসিক চাপ কমালে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব ও নতুন চুল গজাতে সহায়তা করা যায়। তাই অল্প বয়সীরা সতর্ক হোন ও চিকিৎসা নিন।

**************************
ডাঃ ওয়ানাইজা
চেম্বারঃ জেনারেল মেডিক্যাল
হাসপাতাল (প্রাঃ) লিঃ,
১০৩, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ এপ্রিল ২০০৯।