মাখন না মারজেরিন
আপনার ভাবনা
মাখন খেলেই সর্বনাশ। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতরাং এবার মাখন নয়। মারজেরিন (কৃত্রিম মাখন)।

চিকিৎসকের উপদেশ
বনস্পতি তেল থেকে মারজেরিন তৈরির বিশেষ প্রক্রিয়াটিকেও চিকিৎসকরা অনুমোদন করেন না। এই শক্ত মারজেরিনও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এ ক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের কাজ হলো মাখনের বিকল্প ‘বেনিকলের’ অনুসন্ধান করা, যা কি না সম্পূর্ণ চর্বিমুক্ত।
সঠিক কাজটি হলো­
দুগ্ধজাত পণ্যের স্বাস্থ্যকর মানটি জেনে নেয়া (ঊর্ধ্বক্রমানুসারে)
ননীতোলা দুধ বা স্কিম মিল্ক
কম চর্বিযুক্ত দুধ
হিমায়িত ঘোল
হোল মিল্ক বা গরু/ছাগলের দুধ
আইসক্রিম
খাদ্যে লবণ এড়িয়ে চলা
আপনার ভাবনা
লবণ খাওয়া মানেই হৃদরোগ আর রক্তচাপ বৃদ্ধির ঝুঁকিতে বাড়িয়ে দেয়া। সুতরাং সবসময় কম লবণযুক্ত খাবারের দিকে নজর বাড়িয়ে দেয়া।

চিকিৎসকের উপদেশ
ঊর্ধ্ব রক্তচাপ বা প্রেসারের রোগী না হলে এ ধরনের চিন্তাভাবনা মাথায় না আনাই ভালো।

সঠিক কাজটি হলো­
একবারেই লবণ না ছোঁয়া বোকামির লক্ষণ। শরীরে সোডিয়াম পটাসিয়ামের কমতি দেখা দিলে, অবসন্নতা দেখা দেয়। উল্টো হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে।

নিষিদ্ধ তালিকা আর ডিম
আপনার ভাবনা
ডিম খেলেই মারা পড়বেন, কেননা ডিম মানেই কোলেস্টেরল।

চিকিৎসকের উপদেশ
কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার মানেই স্বাস্থ্যহানি নয়।
আপনি যদি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, রক্তনালীর রোগ ইত্যাদি ব্যাধিতে আক্রান্ত হন, তবেই কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার বর্জন করতে পারেন।

সঠিক কাজটি হলো­
হাইপার কোলেস্টেরোলোমিয়া বা অন্যান্য রোগ হলে ডিমকে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে একই ক্যালরিযুক্ত ভিন্ন খাবার সংযুক্ত করা।

যত সবুজ ততই মধুর
আপনার ভাবনা
লেটুস, রমেইন (এক ধরনের কপি)। বাঁধাকপি মানেই সজীবতা­ নিটোল স্বাস্থ্যের প্রতিশ্রুতি।

চিকিৎসকের উপদেশ
লেটুস ক্ষতিকারক কিছুই নয় কিন্তু এর খাদ্যমান পানির চেয়ে বেশি কিছু নয়। রমেইন যতই সবুজ হোক­ তার খাদ্যমান এমন আহামরি গোছের কিছু নয়। তবে ওই সবজিটিতে আছে ফ্লেভোনয়েড জাতীয় এক ধরনের স্বাস্থ্যপ্রদ প্রোটিন। আর বাঁধাকপির দোষটি হলো, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এ সবজিটিকে সংযুক্ত করা হলে কিডনিতে পাথরের সম্ভাবনাটি বহু গুণ বেড়ে যায়।

সঠিক কাজটি হলো­
সবজির চেয়ে শাককে প্রাধান্য দেয়া। আর সবুজ অর্থই স্বাস্থ্যপ্রদ এমন কিছু চিন্তাভাবনা বাদ দেয়া।

চা ভালো, কফি নয়
আপনার ভাবনা
চা তেমন কাজে না আসলেই কফি শরীরের জন্য মোটেও উপাদেয় নয়।

চিকিৎসকদের উপদেশ
কফি খেলে মেদ বৃদ্ধি পাওয়া, হৃদরোগ বৃদ্ধি পাবে­ এসব ধারণা ভুল। তবে কফিকে খুব পুষ্টিকর পানীয় এ চিন্তা করাও ঠিক নয়। একমাত্র ব্ল্যাক, গ্রিন এবং উলঙ্গ জাতীয় চা পানে আপনি পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সুবিধা পেতে পারেন। কেননা ওই ধরনের চায়ে রয়েছে ফ্লাভোনয়েডস বা হৃদযন্ত্রকে করোনারি রোগের হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে।

সঠিক কাজটি হলো­
সম্ভব হলে চায়ের আয়োজন করা। তবে খাবারের পরপরই নয়, একটু পরে।

পেঁয়াজ আর রসুনের রহস্য
আপনার ভাবনা
রসুন না হয় ভালো জিনিস। কিন্তু পেঁয়াজ ঘ্রাণ আর স্বাদ বাড়ানো ছাড়া আর বোধ হয় কোনো কাজ করে না।

চিকিৎসকের উপদেশ
পেঁয়াজে রয়েছে হৃদযন্ত্রের আর রক্তনালীর জন্য উপাদেয় ফ্লেভোনয়েডস আর রসুনে রয়েছে পলিফেনল জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ­ এ রাসায়নিক পদার্থটিও হৃদরোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

সঠিক কাজটি হলো
প্রতিদিন কাঁচা পেঁয়াজ আর রসুন খাবার সহযোগে আহার করুন।

**************************
ডাঃ আবদুল্লাহ শাহরিয়ার
চেম্বারঃ কল্যাণী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এলিফ্যান্ট রোড (ইস্টার্ন মল্লিকার বিপরীতে), ঢাকা।  
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৯ এপ্রিল ২০০৯।