নেবুলাইজার হলো এক ধরনের মেশিন, যা কোনো তরল ওষুধকে বাতাস বা অক্সিজেনের সাহায্যে এক প্রকার বাষ্পে পরিবর্তন করে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম নেবুলাইজার মেশিন পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু প্রায় সব মেশিনে ৪টি অংশ আছে।

নেবুলাইজার ইউনিটঃ এটি একটি ছোট পাত্র, যা তরল ওষুধ দ্বারা ভর্তি করা হয়। বাতাস অথবা অক্সিজেন এ পাত্রের ভেতর প্রবাহিত হয় ও তরল ওষুধকে বাষ্পাকারে পরিবর্তন করে। পাত্রে রক্ষিত ওষুধ বাষ্পে পরিণত হতে কয়েক মিনিট সময় লাগে।
উচ্চ চাপযুক্ত বাতাস বা অক্সিজেনের উৎসঃ ইংল্যান্ডে হাসপাতাল বা স্বাস্হ্যকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের মতো কেন্দ্রীয় নেবুলাইজারের ব্যবস্হা আছে। কিন্তু আমাদের দেশে বাসায় বা হাসপাতালে ছোট ইলেকট্রিক মোটর পাম্প উচ্চ চাপযুক্ত বাতাসের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ মোটর পাম্প বিদ্যুৎ ছাড়াও গাড়ির ব্যাটারি, রিচার্জেবল ব্যাটারি ইত্যাদি দ্বারা চালানো যায়। কতগুলো নেবুলাইজার মেশিনে হাত অথবা পাচালিত পাম্পের ব্যবস্হা আছে। যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে বা ভ্রমণের সময় এ ধরনের নেবুলাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

মাউথপিস অথবা মাস্কঃ এটি নেবুলাইজার ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে ওষুদের বাষ্প শ্বাসে নেয়া যায়।

তরল ওষুধঃ এ ওষুধ নেবুলাইজার ইউনিটের ভেতরে দেয়া হয়। প্রয়োজনে এ ওষুধের সঙ্গে নরমাল স্যালাইন মিশিয়ে ঘনত্ব কমিয়ে ব্যবহার করা হয়।

কখন নেবুলাইজার ব্যবহার করা হয়ঃ সব সাধারণ চিকিৎসকের চেম্বারে, সব হাসপাতালে এবং কিছু কিছু অ্যাম্বুলেসে মারাত্মক জটিল হাঁপানির চিকিৎসার জন্য নেবুলাইজার মেশিন থাকা প্রয়োজন। সাববিউটামল জাতীয় উপশমকারী ইনহেলারের (যেমনঃ ভেনটোলিন ইনহেলার) চেয়ে নেবুলাইজারের মাধ্যমে উপশমকারী ওষুধ ব্যবহার করলে জরুরি ক্ষেত্রে অনেক বেশি ভালো ফল পাওয়া যায়। কারণ এ মেশিনের মাধ্যমে অধিকমাত্রায় এক সঙ্গে শ্বাসে ওষুধ নেয়া যায়। ডাক্তার কোনো সময় প্রয়োজন মনে করলে তার নিজস্ব নেবুলাইজার কোনো রোগীর ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত আক্রান্ত অবস্হা নিয়ন্ত্রণের জন্য সাময়িকভাবে ব্যবহারের ব্যবস্হা করে দিতে পারেন।

কঠিন অ্যাজমা আক্রমণের সময় ও জরুরি অবস্হায় নেবুলাইজারের বদলে স্পেসারের মাধ্যমে উপশমকারীর ইনহেলার ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষত, বাসায় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এ রকম ব্যবহার নেবুলাইজারের মতোই কার্যকরী।

স্হায়ী পুরাতন হাঁপানি চিকিৎসার জন্যঃ কিছু কিছু স্হায়ী পুরাতন হাঁপানি রোগীর ক্ষেত্রে উপশমকারী ইনহেলার কোনো উপকারই করে না। এমনকি বাধাদানকারী ইনহেলারও তার শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। এসব রোগীর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অধিকমাত্রায় উপশমকারী ওষুধ ব্যবহার করা। আর তা সম্ভব শুধু নেবুলাইজার দ্বারা। অধিকমাত্রায় বাধাদানকারী ওষুধ শ্বাসে নেয়ার জন্য নেবুলাইজার অপরিহার্য।

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বাধাদানকারী ওষুধ ব্যবহারের জন্যঃ কখনো কখনো ৫ বছরের নিচের বাচ্চাকে নেবুলাইজারের মাধ্যমে বাধাদানকারী ওষুধ শ্বাসে দেয়া হয়ে থাকে। অবশ্যই ২ বছরের নিচের শিশুর জন্য মাস্কসহ স্পেসার নেবুলাইজারের চেয়ে ভালো। ২ বছরের ওপরের বাচ্চাও স্পেসার ব্যবহার করতে পারে। স্পেসারের মাধ্যমে ইনহেলার যখন-তখন ব্যবহার করা যায় এবং এটি সহজে বহনযোগ্য।
বেশির ভাগ তরল ওষুধ বাজারে একক মাত্রার নেবিউল হিসেবে পাওয়া যায়। কিছু ওষধু নরমাল স্যালাইন নামক লবণাক্ত পানির সঙ্গে মিশ্রিত করতে হয়। মনে রাখবেন, ট্যাপের পানি, ডিষ্টিলওয়াটার, বোতলের পানি বা কোনো সাধারণ পানির সঙ্গে এ ওষুধ কখনোই মিশাবেন না।
আদর্শ পরিমাণ হলো ওষুধ ও নরমাল স্যালাইন মিশিয়ে মোট তরলের পরিমাণ হবে ৪ সিসি।
ঘরে নেবুলাইজারের ব্যবহারের কিছু নিয়মাবলীঃ হ আপনার ডাক্তারকে, নার্সকে অথবা বিক্রেতা কোম্পানির কাছে জিজ্ঞাসা করুন-কীভাবে নেবুলাইজার ব্যবহার করতে হবে? কীভাবে নেবুলাইজারকে পরিষ্কার করতে হয়? কীভাবে মেরামত করা যায় এবং কীভাবে কাজ করে?
- আপনি ব্যবহৃত ওষুধ সম্পর্কে সবকিছু জানেন, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হোন। যেমনঃ কোন ওষুধ ব্যবহার করবেন? কী পরিমাণ ব্যবহার করবেন? কীভাবে নেবুলাইজার ইউনিটে ওষুধ দেবেন? এবং কখন এভাবে শ্বাসে ওষুধ নেবেন? আপনি নিশ্চিত হোন, আপনার ডাক্তার আপনাকে সবকিছু লিখে দিয়েছে।
- কখন মারাত্মক জটিল হাঁপানিতে আক্রান্ত হতে যাচ্ছে, তা বুঝতে শিখুন। আপনাকে যদি ডাক্তার উপদেশ দিয়ে থাকেন তবে নেবুলাইজার ব্যবহার শুরু করুন। এজন্য নিজের রোগ নিজে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন তার পরিকল্পনা ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন।
- আপনি আপনার ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুন, নেবুলাইজার একবার ব্যবহারের পর আপনার কী করণীয়-
আপনি আপনার ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন
অথবা নির্দিষ্ট সময় পরপর নেবুলাইজারের ওষুধ নিতে থাকবেন
অথবা ষ্টেরয়েড বড়ি শুরু করবেন।
এটি জানা খুবই জরুরি, নেবুলাইজারে উপশম না হলে বুঝতে হবে এ মুহুর্তে আপনাকে ডাক্তারের সাহায্য নিতে হবে। দেরি করা জীবনের জন্য হুমকি হতে পারে।

**************************
আমার দেশ, ২১ এপ্রিল ২০০৯।