দাঁত আমাদের শরীরের একটি অপরিহার্য অংশ। তাই দাঁত থাকাটা খুবই জরুরি। দাঁত শুধু থাকলেই হবে না, থাকতে হবে সুস্হতা। কিন্তু কোনো কোনো সময় দাঁত অসুস্হ হয়ে পড়লে তখন দাঁতটি ফেলে দেয়া ছাড়া আর কোনো পথ আমাদের থাকে না। সুতরাং দাঁত ফেলে দেয়াটা দাঁতের একটি চিকিৎসা পদ্ধতি মাত্র। বিভিন্ন কারণে দাঁত ফেলা যায়। সাধারণত দাঁত ভেঙে গেলে অথবা দাঁতে ক্ষয় অর্থাৎ টুথ ডিকে হলে দাঁত ফেলে দিতে হয়। আমাদের মুখে ৩২টির বেশিও দাঁত থাক 
 
তে পারে। সাধারণত যদি সঠিক সময়ে অস্হায়ী দাঁত অর্থাৎ দুধ দাঁত না পড়ে থেকে যায়, সেক্ষেত্রে স্হায়ী দাঁত টিকমতো উঠতে পারে না অথবা উঠলেও বিশ্রী দেখায়। সেজন্য থেকে যাওয়া এই অতিরিক্ত অস্হায়ী দাঁতকে ফেলে দিতে হয়। আবার গাম ডিজিজ অর্থাৎ মাড়িতে কোনো ইনফেকশন হলেও দাঁত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দাঁতের টিসু ও অস্হিকে এতটাই আক্রান্ত করে ফেলে যে দাঁত ফেলে দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ই থাকে না। অনেক সময় আমাদের দাঁতগুলো এতটাই উঁচু-নিচু, আঁকাবাঁকা থাকে যে ভীষণ বিশ্রী লাগে। এ ধরনের সমস্যায় ডেন্টাল সার্জনরা রোগীকে ব্রেসেস নামক এক বিশেষ ধরনের অ্যাপলায়েস পরিয়ে দেন। যার ফলে আঁকাবাঁকা, উঁচু-নিচু দাঁতগুলো একদম সোজা ও মানানসই হয়ে যায়। এই ব্রেসেস পরানোর সময় ডেন্টাল সার্জনরা প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা একাধিক দাঁত ফেলে দিতে পারেন, এটি একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ ছাড়া দাঁতে কোনো ফাটল অর্থাৎ ফ্র্যাকচার দেখা দিলে দাঁত ফেলে দিতে হতে পারে। আবার কোনো কোনো সময় আক্কেল দাঁত বা উইজডোম টিথ এমনভাবে মাড়িতে থাকে যে দাঁত ফেলে দেয়া লাগে। দাঁত ফেলে দেয়া আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এটি সব সময় সহজ প্রক্রিয়ায় হয় না। দাঁত ফেলে দেয়াকে ডেন্টাল সার্জনরা দুভাগে ভাগ করে থাকেন। যেমন-সিম্পল ও সার্জিক্যাল এক্সট্রাকশন। দাঁত ফেলার জন্য ডেন্টাল সার্জনরা বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে থাকেন। ১৪ শতকে গাই ডি চলিজকি ডেন্টাল পেলিকান আবিষ্কার করেন, যা ১৮ শতকে দাঁত ফেলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে পেলিকান পরিবর্তিত হয় ডেন্টাল কি নামক যন্ত্রে যা ২০ শতকে আধুনিক ফরসেপে রুপ নেয়। সিম্পল এক্সট্রাকশনে সেই দাঁতটিকে ফেলে দেয়া সম্ভব হয়, যা মাড়ির ওপর থেকেই দেখা যায়। এক্ষেত্রে লোকাল এনেসথেশিয়া, ফরসেপ ও এলিভেটর ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে সার্জিক্যাল এক্সট্রাকশন খুবই জটিল একটি প্রক্রিয়া। এজন্য লোকাল এনেসথেশিয়া, ফরসেপ ও এলিভেটরের সঙ্গে প্রয়োজন হয় ইনসিজন ও ড্রিল বা অষ্ট্রিওটোম। এক্ষেত্রে দাঁত ভেঙে তুলতে হয়। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

দাঁত ফেলে দেয়া কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। প্রয়োজনে দাঁত ফেলতেই হতে পারে, তবে একে খুব সহজ ভেবে নেবেন না। এজন্য ডেন্টাল সার্জনকে অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হয়। তাই দাঁত ফেলার সময় অযথা ভয় কিংবা বিরক্ত না হয়ে আপনার ডেন্টিষ্টকে সহযোগিতা করুন।

**************************
ডাঃ আওরঙ্গজেব আরু      
লেখকঃ কনসালটেন্ট, ইলাহী ডেন্টাল কেয়ার
এফ ১২/৪, মেরুল বাড্ডা প্রধান সড়ক, ঢাকা
আমার দেশ, ২১ এপ্রিল ২০০৯।