ভিটামিন ‘সি’ কমায় গেঁটে বাতের ঝুঁকি
ভিটামিন ‘সি’র অনেক উপকারী গুণের কথা আমরা জানি। গবেষকেরা সম্প্রতি এই ভিটামিনের আরেকটি উপকারিতার কথা বলেছেন, ভিটামিন ‘সি’ ‘গাউট’ বা গেঁটে বাতের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ৪৭ হাজার মানুষকে ২০ বছরব্যাপী পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, যাঁরা যত বেশি ভিটামিন ‘সি’-সমৃদ্ধ খাদ্য বা সম্পূরক ভিটামিন ‘সি’ বড়ি গ্রহণ করেন, তাঁদের গেঁটে বাত হওয়ার ঝুঁকি তত কম।
গড় গাণিতিক হিসাবে, প্রতি ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ বেশি গ্রহণে গেঁটে বাতের ঝুঁকি কমে ১৭ শতাংশ হারে। আর্কাইভস অব ইন্টারনাল মেডিসিন জার্নালে এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক হিউন কে চোই বলেন, ভিটামিন ‘সি’ দেহে ইউরিক এসিডের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এই ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা স্কটিকাকারে জমা হয়ে গেঁটে বাতের ব্যথা ও প্রদাহ তৈরি করে। এ ছাড়া ভিটামিন ‘সি’ কিডনির প্রদাহরোধী কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং কিডনিতে ইউরিক এসিডের বিশোষণ প্রভাবিত করতে পারে। সব মিলে গেঁটে বাত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। 
 
 
 
যানজটে হার্ট অ্যাটাক
তীব্র যানজটে আটকে আছেন রাস্তায়। সময় গড়িয়ে যাচ্ছে, কাঙ্ক্ষিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার আশঙ্কায় মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে। দেরির কারণে ক্ষতি হচ্ছে সামাজিক, পেশাগত বা শিক্ষাক্ষেত্রে। শুধু তা-ই নয়, এই যানজটের কারণে আপনার স্বাস্থ্যও কিন্তু ঝুঁকির মুখে। জার্মানির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যানজটের কারণে বাড়তে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের পর্যবেক্ষণ করে গবেষকেরা বলেছেন, যানজটে পড়ার এক ঘণ্টার মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ। তবে এই ঝুঁকির ব্যাপারটি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।
যারা ধূমপান, মদ্যপান প্রভৃতির কারণে অথবা জিনগত কারণে আগে থেকেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই যানজটকে অতিরিক্ত ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করছেন গবেষকেরা। গাড়িচালক, যাত্রী, এমনকি জটে আটকে পড়া সাইকেল আরোহীরাও সমভাবে ঝুঁকির শিকার। তবে রাস্তার ভিড়ের ঠিক কোন ব্যাপারটি হার্ট অ্যাটাক ত্বরান্বিত করে, তা বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করতে পারেননি। গবেষক জার্মানির ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজির গবেষণা শাখার প্রধান এনিট পিটার্স বলেছেন, যানজটের কারণে মানসিক চাপ, যানবাহন থেকে নির্গত গ্যাসের ফলে বায়ুদূষণ, উচ্চমাত্রার শব্দ-যেকোনোটিই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে ব্যাপারটি নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। 
 
 
 
তবু যায়নি সময়···

জীবনে কখনো শরীরচর্চায় মনোযোগী হননি, আজ এই মধ্যবয়সে এসে ভাবছেন, এখন আর ব্যায়ামট্যায়াম করে কী হবে। ভাবাভাবি বাদ দিয়ে শরীরচর্চা শুরু করে দিন। গবেষকেরা বলেছেন, জীবনের যেকোনো পর্যায়েই ব্যায়াম শুরু করুন না কেন, কিছু না কিছু সুফল আপনি পাবেনই। ৫০ বছর বয়সের পর শরীরচর্চা শুরু করলেও জীবনে আয়ু যোগ করতে পারবেন প্রায় আড়াই বছর। সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের অনলাইন সংস্করণে এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সুইডেনের একদল গবেষক দুই হাজার ২০৫ জনকে তাঁদের ৫০ বছর বয়স থেকে পরবর্তী বছরগুলোতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পান, যাঁরা এমনকি ৫০ বছর বয়স থেকে প্রথম শরীরচর্চা শুরু করেছেন, তাঁরা ব্যায়ামবিরাগীদের চেয়ে দীর্ঘায়ু হয়েছেন। প্রধান গবেষক উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ল মিচেলসন বলেছেন, মধ্যবয়সেও ধূমপান বন্ধ করলে আপনি আয়ু বৃদ্ধির যে সুফল পাবেন, একই ধরনের সুফল পাবেন শরীরচর্চা শুরু করলেও। তবে তরুণদের মতো একই ধরনের ব্যায়াম বয়সীদের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসক বা শরীরচর্চা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

**************************
‘হেলথ ডে নিউজ’ অবলম্বনে মুনতাসীর মারুফ
প্রথম আলো, ২২ এপ্রিল ২০০৯।