করোনারি হৃদরোগ বেশ কয়েকটি কারণে হতে পারে। সুতরাং এসব কারণের ভেতর থেকে মাত্র একটি কারণের চিকিৎসা করলে সফলতা লাভ করা সম্ভব নয়। যদি একটা কারণকে শেষ করে ভাল পরিণাম পেতে হয়, তাহলে সেই কারণের পেছনের লুকিয়ে থাকা সমস্যাকে পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সিএডিপিআর প্রোগ্রাম এখন বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে আর মানুষ এটাকে গ্রহণও করছেন। সিএডিপিআর হৃদরোগের চিকিৎসায় পাঁচটি প্রমুখ পর্যায়ের প্রয়োগ করে। এই প্রোগ্রাম হচ্ছে নন-ইনভেসিভ অর্থাৎ বিনা সার্জারির প্রোগ্রাম। সিএডিপিআর-এ এই পর্যায়ের পূর্ণরূপে এবং অত্যন্ত সঠিক পদ্ধতিতে পালন করা হয়। বাস্তবে এই প্রোগ্রামের রূপরেখা এতটা ব্যবহারিক যে, প্রতিটি ব্যক্তি এটাকে সহজেই পালন করতে পারেন। এই পাঁচটি পর্যায়ের মধ্যে প্রতিটি পর্যায়ের বিভিন্ন অবয়ব রয়েছে আর হৃদয় রোগকে কম করার কাজে এই সব বিভিন্ন অবয়ব আলাদা-আলাদা ভূমিকা পালন করে। এই প্রোগ্রামের সব দিক থেকে সম্পূর্ণতাই এই প্রোগ্রামকে এতটা প্রভাবশালী করে তুলেছে। আসুন, আবার একবার ভাল করে বোঝার চেষ্টা করা যাক যে, যদি আমরা লোহার পাঁচটি আলাদা-আলাদা ছড়ি নিই, তাহলে যেকোন একটি ছড়িকে সহজেই মুড়ে ফেলা যেতে পারেঃ কিন্তু আমরা যদি পাঁচটি ছড়িকে এক সাথে রাখি, তাহলে সেগুলো শক্তি এক বিশাল রূপ ধারণ করে নেয় আর তখন সেগুলোকে মোড়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। এবার নিজেদের হাতকেই উদাহরণ হিসেবে নিতে পারেন। আপনার হাতে যদি একটা আঙুল থাকে, তাহলে আপনি সেটার সহায়তায় দশটা কাজ করতে পারবেন। এবার যদি সেই আঙুলটার সঙ্গে আর একটা আঙুল-বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠকে জুড়ে দেওয়া যায়, তাহলে আপনি সেই দুটো আঙুলের সহায়তায় একশোটা কাজ করে নিতে পারবেন। পাঁচটি আঙুল এক সাথে হওয়ামাত্রা আপনি হাজার কাজ করতে পারবেন। হাত পূর্ণ হতেই হাতের কার্যকুশলতাও বেড়ে ওঠে।

পাঁচ পর্যায় আর সেগুলোর অবয়বগুলোর পালনের দ্বারা প্রোগ্রামের শক্তি অত্যন্ত বেড়ে ওঠে আর এর দ্বারা শীঘ্রই ভাল পরিমাণ পাওয়া সম্ভবপর হয়ে ওঠে। এই পাঁচটি পর্যায় হচ্ছে- শিক্ষা, মানসিক চাপ কমানো, ভোজনে পরিবর্তন, যোগ-ধ্যান এবং ব্যায়াম।

শিক্ষা এবং ব্যাখ্যা অত্যন্ত সরল ভাষায় হওয়াটা, যেটাকে সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিও বুঝতে পারেন, হৃদয় রোগীদের পক্ষে হৃদয় রোগের বিস্তৃত জ্ঞান আর রোগ কমানোর সিদ্ধান্তকে ভালভাবে বোঝাকে সুবিধাজনক করে তোলে। রক্তচাপ, বস্নাড সুগারের কোলেস্টেরল, ট্রাইগিস্নসরাইডস আর হৃদয় রোগের ওপরে এসবের প্রভাব রোগীদের ভালভাবে জানা উচিত। হৃদয় ধমনীগুলোয় অবরোধ, তার জ্ঞান, হৃদয় রোগের পরিচিতি এবং পরীক্ষণ, মানসিক চাপের প্রভাব, তার প্রকারভেদ রোগীদের এগুলোও শেখা উচিত। এই সব জিনিসের শিক্ষা এই প্রোগ্রামে দেওয়া হয়ে থাকে। এই প্রোগ্রাম ভিন্ন ভিন্ন রোগীদের, যাদের হৃদয় রোগের অবস্থা আলাদা, তাদের সবাইকে মানসিক চাপ কমানো, ব্যবহারে পরিবর্তন নিয়ে আসা, ভোজনের পূর্ণ জ্ঞান, যোগাভ্যাস, ধ্যান ইত্যাদি বিস্তৃতভাবে শেখায়। একটা কথা সর্বদা মাথায় রাখবেন- সব নির্দেশগুলো পূর্ণরূপে পালন করতে হবে।


***************************
ডাঃ গোবিন্দ চন্দ্র দাস
লেখকঃ সিনিয়র কনসালটেন্ট
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, ঢাকা
করোনারী আর্টারী ডিজিস প্রিভেনশান
এন্ড রিগ্রেশান সিএডিপিআর সেন্টার
৫৭/১৫ পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা
দৈনিক ইত্তেফাক, ২৫ এপ্রিল ২০০৯।