রসুনের মধ্যস্থিত কেমিক্যাল ব্যবহার করে এবং দুই পর্যায়ের ডেলিভারি পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে ইঁদুরের ক্যান্সার ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ সংক্রান্ত গবেষণালব্ধ তথ্য ডিসেম্বর ২০০৩ সংখ্যা ‘মলিকিউলার ক্যান্সার থেরাপিউটিকস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। রসুনে অবস্থিত কেমিক্যাল এ্যালিসিনের জন্যই আমরা রসুনের বিশেষ স্বাদ ও গন্ধ পেয়ে থাকি। রসুনের অক্ষত কোয়ায় এ্যালিসিন পাওয়া যায় না। রসুনের কোয়ার মধ্যবর্তী কমপার্টমেন্টে জমা থাকা দুইটি পদার্থের বায়োকেমিক্যাল বিক্রিয়ার ফলে এ্যালিসিন তৈরি হয়। এই দুটি পদার্থের একটি হলো এনজাইম এ্যালিনেজ এবং অপরটি স্বাভাবিকভাবে নিস্কিয় কেমিক্যাল এ্যালিইন। যখন রসুনের কোয়া ভেঙে ফেলা হয় তখন যে পর্দা কমপার্টমেন্টগুলোকে আলাদা করে রাখে তা ছিঁড়ে যায় এবং দ্রুত রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এ্যালিসিন তৈরি হয়। অধিকাংশ ক্যান্সার কোষের উপরিভাগে বিশেষ ধরনের রিসেপ্টর থাকে। এই গবেষণায় বিজ্ঞানিগণ এক ধরনের এ্যান্টিবডি প্রোগ্রাম করেন, যা টিউমার বা ক্যান্সারের বিশেষ রিসেপ্টর শনাক্ত করতে সক্ষম। এই এ্যান্টিবডির সাথে এ্যালিইনেজ এনজাইম জুড়ে দেয়া হয়। রক্তে ইনজেশনের মাধ্যমে এটি প্রয়োগ করা হলে বিশেষ এই এ্যান্টিবডি (এনজাইম সহযোগে) ক্যান্সার কোষের উপরিভাগে অবস্থান নেয়। কিছুটা বিরতিতে দ্বিতীয় উপাদান এ্যালিইম প্রয়োগ করা হয়। স্বাভাবিকভাবে নিস্কিয় এ্যালিইন মলিকিউল ক্যান্সার কোষের উপরিভাগে অবস্থান নেয়া এ্যান্টিবডির এ্যালিইনেজের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে প্রাণঘাতী এ্যালিসিন মলিকিউল তৈরি করে, যা টিউমার কোষে ঢুকে কোষকে ধ্বংস করে দেয়। এ প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক কোষ অক্ষত থাকে। শল্য চিকিৎসার পর ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া রোধে এ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর বলে সংশিস্নষ্ট বিজ্ঞানীগণ জানিয়েছেন।

চিকিৎসকগণ যেসব ক্ষেত্রে জানতে পারছেন না ক্যান্সার কোষ কোথায় এবং কতদূর ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে নব আবিস্কৃত এ্যান্টিবডি-এ্যালিইমের সম্মিলিত উপাদন শরীরের যেকোন অবস্থান থেকে ক্যান্সার কোষকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করতে সক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন ওয়েইসম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স, (ইসরাইল) এর বায়োলজিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান এবং উল্লিখিত গবেষণা কর্মের সাথে সংশিস্নষ্ট গবেষকদের অন্যতম অধ্যাপক ডেভিড মিরেলম্যান।

***************************
ডাঃ শিব্বির আহমেদ
দৈনিক ইত্তেফাক, ২৫ এপ্রিল ২০০৯।