আমাদের দেশে রোগীরা দাঁতের ব্যথায় মুখস্ত ওষুধ কিনে খান একথা যেমন সত্য, তেমনি ওষুধ বিক্রেতারাও হরহামেশা রোগীকে ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে থাকেন। দাঁতের প্রচন্ড ব্যথায় এনএসএ আইডি গোত্রের ওষুধ সাধারণত দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যথানাশক সব ওষুধ বর্তমানে রোগীর জন্য নিরাপদ নয়। প্রথমত ব্যথানাশক সব ওষুধই ভরা পেটে খেতে হবে। যাদের হাইপার এসিডিটি বা আলসার রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের বা খাবার গ্রহণের আধা ঘণ্টা আগে বা পরে ও মিপ্রাজল গোত্রের ওষুধ সেবন অবশ্যই করতে হবে।

২০০৪ সালে বহুল বিক্রীত রফিকক্সিব গেত্রের ব্যথানাশক ওষুধ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ২০০৫ সালে ভ্যালডিকক্সিব গোত্রের ব্যথানাশক ওষুধ নিষিদ্ধ করা হয়। ইটোরিকক্সিব এবং পেরিকক্সিব গোত্রের ব্যথানাশক ওষুধ যা এখনো বাজারে বর্তমান তাও নিষিদ্ধ হতে পারে যে কোনো মুহুর্তে। কারণ এ দুটো ওষুধ নিষিদ্ধ ঘোষিত রফিকক্সিব এবং ভ্যালডিকক্সিব গোত্রের উপাদানভুক্ত। রফিকক্সিব জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের জন্য ১৮৮৮ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সাতাশ হাজারের বেশি রোগী হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছে। ভ্যালডিকক্সিব গোত্রের ওষুধ সেবন করলে হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং চর্মে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।

সবদিক থেকে বিবেচনা করলে ব্যথানাশক ওষুধ হিসেবে এসিক্লোফেনাক গোত্রের ওষুধ ভরা পেটে নিয়ম অনুযায়ী খেতে পারেন। কারণ এসিক্লোফেনাক গোত্রের ওষুধ সেবনের কারণে পাকস্হলিতে এসিড নিঃসরণের পরিমাণ অন্যান্য ওষুধের তুলনায় অনেক কম। তাছাড়া এই ওষুধ হার্টঅ্যাটাক বা ষ্ট্রোক ঘটায় না। চর্মে কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় না। তবে সব কথার শেষ কথা, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা থেকে সবাইকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগ রয়েছে, তাদের কোনো অবস্হাতেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধই খাওয়া উচিত নয়।

**************************
লেখকঃ  ডা. মোঃ ফারুক হোসেন
উৎসঃ  দৈনিক আমারদেশ, ১০ ডিসেম্বর ২০০৭