স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
রেকটাম ক্যান্সারের চিকিৎসা
http://health.amardesh.com/articles/1804/1/aaaaaa-aaaaaaaaaaa-aaaaaaa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 09/12/2009
 
পায়ুপথে বিভিন্ন রোগের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক রোগ হচ্ছে ক্যান্সার। এখানে ক্যান্সার হলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয় যেমন­ মল ত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, খুব সকালে পায়খানার বেগ হওয়া, মল ত্যাগের পর আরো মল রয়ে গেছে এরূপ অনুভূতি হওয়া, পায়খানার সাথে রক্ত ও মিউকাস বা আম যাওয়া, কিছুদিন পাতলা পায়খানা এবং এরপর কিছুদিন কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, মলদ্বারে বিভিন্ন রোগ হলেও এর অল্পবিস্তর পার্থক্যসহ উপসর্গগুলো প্রায় একরকম। শারীরিক পরীক্ষা না করে শুধু রোগীর কথা শুনে সিদ্ধান্ত নিলে রোগ নির্ণয়ে ভুল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। তাই যন্ত্র দিয়ে মলদ্বারের ভেতর পর্যবেক্ষণ করা যেমন, প্রকটস্কপি, সিগময়ডস্কপি, কোলনস্কপি, বেরিয়াম এনেমা পরীক্ষা ইত্যাদি অত্যন্ত জরুরি। পরীক্ষার মাধ্যমে এসব রোগ আগেভাগে ধরতে পারলে চিকিৎসা সহজ ও কার্যকর হয়।

রেকটাম ক্যান্সারের চিকিৎসা

পায়ুপথে বিভিন্ন রোগের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক রোগ হচ্ছে ক্যান্সার। এখানে ক্যান্সার হলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয় যেমন­ মল ত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, খুব সকালে পায়খানার বেগ হওয়া, মল ত্যাগের পর আরো মল রয়ে গেছে এরূপ অনুভূতি হওয়া, পায়খানার সাথে রক্ত ও মিউকাস বা আম যাওয়া, কিছুদিন পাতলা পায়খানা এবং এরপর কিছুদিন কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, মলদ্বারে বিভিন্ন রোগ হলেও এর অল্পবিস্তর পার্থক্যসহ উপসর্গগুলো প্রায় একরকম। শারীরিক পরীক্ষা না করে শুধু রোগীর কথা শুনে সিদ্ধান্ত নিলে রোগ নির্ণয়ে ভুল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। তাই যন্ত্র দিয়ে মলদ্বারের ভেতর পর্যবেক্ষণ করা যেমন, প্রকটস্কপি, সিগময়ডস্কপি, কোলনস্কপি, বেরিয়াম এনেমা পরীক্ষা ইত্যাদি অত্যন্ত জরুরি। পরীক্ষার মাধ্যমে এসব রোগ আগেভাগে ধরতে পারলে চিকিৎসা সহজ ও কার্যকর হয়।

রেকটাম ক্যান্সার হলে এর প্রধান চিকিৎসা হচ্ছে দ্রুত অপারেশন করে ফেলা। এমনকি যদি রোগী আর মাত্র কয়েক মাস বেঁচে থাকবেন বলে মনে হয় তবুও অপারেশন করা উচিত। এতে জীবন ধারণের গুণগত উন্নতি হয় এবং রোগীর ভোগান্তির অনেকটা লাঘব হয়। এই ক্যান্সার চিকিৎসার একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এ অপারেশনের পর পেটে কলোস্টমি করে ব্যাগ লাগাতে হবে কি না। রেকটামের খুব গভীরে ক্যান্সার হলে পেটে মল ত্যাগের ব্যাগ লাগানোর সাধারণত প্রয়োজন হয় না। কিন্তু রেকটামের নিচের দিকে অর্থাৎ মলদ্বারের খুব কাছাকাছি ক্যান্সার হলে পেটে কলোস্টমি করা বা ব্যাগ লাগানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং কখনো কখনো অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে কৌশলগত সমস্যাটি হচ্ছে ক্যান্সারে আক্রান্ত রেকটামের অংশটুকু কেটে ফেলার পর পরিপাকতন্ত্রের দু’টি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উপরে থাকে বৃহদান্ত্র এবং নিচে থাকে রেকটাম ও মলদ্বারের অবশিষ্টাংশ। পেলভিস বা তলপেটের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিপাকতন্ত্রের দু’টি অংশ হাত দিয়ে সেলাই করে জোড়া দেয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। এ জন্য বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাপলিং যন্ত্র বানিয়েছেন যেমন গোলাকার স্ট্যাপলার, লিনিয়ার স্ট্যাপলার, রোটিকুলেটর ইত্যাদি। এসব যন্ত্রের সাহায্যে হাত দিয়ে সেলাই সম্ভব নয় এমনসব ক্ষেত্রে রেকটাম ও বৃহদান্ত্র জোড়া দেয়া সম্ভব। ফলে পেটে স্থায়ীভাবে কলোস্টমি করে ব্যাগ লাগানো দরকার হয় না। উন্নত দেশে এ যন্ত্রের সাহায্যে রেকটাম ক্যান্সারের বেশির ভাগ অপারেশন করা হয়। কারণ আর্থিক খরচের ব্যাপারটি তাদের কাছে অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি মাত্র সাকুêলার স্ট্যাপলার ব্যবহার করা যথেষ্ট, কিন্তু মলদ্বারের খুব কাছাকাছি টিউমার হলে দু’টি স্ট্যাপলার ব্যবহার করা প্রয়োজন হয়। এ যন্ত্রগুলো বিভিন্ন আকৃতি ও সাইজের হয়ে থাকে। রোগীরা যদি খুব আগেভাগে আসেন তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কলোস্টমি না করে অপারেশন করা যায়। তবে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে সবকিছুকে পাইলস বা রক্ত আমাশয় মনে করে দীর্ঘদিন কাটিয়ে দেয়া। যার ফলে ক্যান্সার বিস্তৃতি লাভ করে এবং চিকিৎসা করে সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলার সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে যায়।

*************************
অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক
লেখকঃ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, কলোরেকটাল সার্জারি বিভাগ (অব.), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
চেম্বারঃ জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ৫৫, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা।
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২ আগস্ট ২০০৯