প্রোস্টেট পুং জননতন্ত্রের একটি অংশ। এটি একটি বহিঃক্ষরণ প্রকৃতির গ্রন্থি যা মূত্রথলির বহির্গমন অংশের নিচে অবস্থিত। প্রোস্টেট গ্রন্থির নিঃসরিত তরল পদার্থ বীর্যস্খলনের সময় বীর্যের সাথে মিশ্রিত হয় এবং শুক্রাণুকে উজ্জীবিত করে। বয়োপ্রাপ্তির সাথে সাথে প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি ঘটে। টেস্টোস্টেরন নামক হরমোনই হচ্ছে প্রোস্টেটের প্রবৃদ্ধি ও উদ্দীপনার চাবিকাঠি। স্বাভাবিকভাবে প্রোস্টেটের আকার খোসাসহ একটি বড় আকারের বাদামের সমান। কিন্তু পঞ্চাশোর্ধ্ব অনেক পুরুষের বেলায় প্রোস্টেটের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বড় হয় এবং বেশ কিছু উপসার্গ দেখা দেয়। তবে এই প্রবৃদ্ধি কোষ বিভাজনের একটি ব্যতিক্রর্মী পরিবর্তন যা টিউমার বিভাজন থেকে আলাদা এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ক্যান্সার কোষের উপস্থিতি থাকে না। এই অবস্থাকেই প্রোস্টেট গ্রন্থির নির্দোষ প্রবৃদ্ধি বা ইংরেজিতে সংক্ষেপে বিইপি বলা হয়।

এই সমস্যা কোন বয়সে, কাদের হয়?
আগেই বলা হয়েছে, প্রোস্টেট গ্রন্থির নির্দোষ বৃদ্ধি পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের পুরুষদের হয়ে থাকে। ৬০ বছর বয়সের পুরুষদের মধ্যে উপসর্গ প্রদানকারী প্রোস্টেটের প্রবৃদ্ধি ঘটে প্রায় শতকরা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এই হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ৮৮ বছর বয়সে শতকরা ৮০ জন পুরুষ উপসর্গ সৃষ্টিকারী প্রোস্টেট প্রবৃদ্ধির শিকার হন।

ইঊচ (বিইপি) এর কারণ কী? কী হতে পারে?
প্রোস্টেট গ্রন্থির প্রবৃদ্ধির মূল উত্তেজক পুং হরমোন টেস্টোস্টেরন। তবে পুরুষদের শরীরেও যৎকিঞ্চিৎ স্ত্রী হরমোন বিদ্যমান যা এডরেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসরিত হয়।
এই স্ত্রী হরমোন ও পুং হরমোনের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় থাকে এবং পুং হরমোনের নিয়ন্ত্রিত কার্যকারিতার ওপরই এই ভারসাম্য নির্ভরশীল। বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে এই ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটে এবং পুং হরমোনের কার্যকারিতা অনেকটা বাধাহীন ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। এই বাধাহীন ও অনিয়ন্ত্রিত প্রভাব প্রোস্টেটকে অতিমাত্রায় উদ্দীপিত করে অতিরিক্ত কোষ বিভাজন ঘটায়। যা বিভিন্ন উপসর্গ সৃষ্টি করে প্রোস্টেট গ্রন্থির নির্দোষ বৃদ্ধির প্রমাণ দেয়। (চলবে)

**************************
ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
লেখকঃ জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন এবং মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ
চেম্বারঃ কমপ্যাথ লিমিটেড, ১৩৬ এলিফ্যান্ট রোড (বাটা সিগনাল ও হাতিরপুল বাজারের সংযোগ সড়কের মাঝামাঝি), ঢাকা।
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২৩ আগস্ট ২০০৯