বাংলাদেশে সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। মৃত্যুও হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্যানডেমিক অ্যালার্ট ৬ ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিকভাবে। বাংলাদেশেও এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সাধারণ কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চললে, স্বাস্থ্যবিধান খেয়াল রাখলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অভ্যাস বদলান, সুস্থ থাকুন
সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধের জন্যকিছু অভ্যাসের চর্চা করতে হবে, আর কিছু বদভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে।রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই সহজ এবং কম ব্যয়বহুল। সাধারণ কিছু স্বাস্থ্যবিধি জানুন। প্রতিদিন বদলেফেলুন অভ্যাস।বদলেফেলুন নিজেকে।
দিনে যতবার সম্ভব দুই হাত কবজি পর্যন্ত এপিঠ-ওপিঠ ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। হাঁচি, কাশির সময় রুমাল, টিস্যুপেপার অথবা কনুই কিংবা আস্তিনের কাপড় বা ওড়না দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখবেন। সর্দি, জ্বর বা সাধারণ ফ্লুর লক্ষণগুলো দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে আলাদা থাকার চেষ্টা করুন। ছোট বাচ্চাদের সর্দি-জ্বর বা ফ্লু হলে স্কুলে পাঠাবেন না। যত্রতত্র থু থু ফেলার অভ্যাস নিজে পরিবর্তন করুন, অন্যকেও পরিত্যাগ করতে বলুন।

হঠাৎ ফ্লুতে আক্রান্ত হলে
-- সাধারণ মৌসুমি ফ্লুতে আক্রান্ত হলে ভয়ের কোনো কারণ নেই।
-- সর্দি, কাশি হলে হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় নাক-মুখ ঢাকার ব্যবস্থা করুন, যাতে অন্য কেউ আপনার হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত না হয়।
-- যখনই হাতে হাঁচি-কাশি লাগবে, দুই হাত কবজি পর্যন্ত এপিঠ-ওপিঠ ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
-- কেউ হঠাৎ ফ্লুতে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আক্রান্ত হলেকরণীয়
-- কফ বা থুথু নিরাপদ স্থানে ফেলুন, যেখান থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে না।
-- ঘরে অবস্থান করুন। যতটুকু সম্ভব অন্যের সংস্পর্শ এড়িয়েচলুন।
-- বিশ্রাম নিন। যথেষ্ট পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণকরুন।
-- দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শনিন

যা করবেন
-- দিনে কয়েকবার দুই হাত ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধোবেন।
-- সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত এক হাত দূরে থাকুন।
- অত্যধিক জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলুন।
সূত্রঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 
 
**************************
ইকবাল কবীর
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রোগতত্ত্ববিদ
প্রথম আলো, ০২ সেপ্টেম্বর ২০০৯।