রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সোয়াইন ফ্লু ঋতু পরিবর্তনকালীন ফ্লু’র মতোই। ধরতে গেলে ঋতুকালীন ইনফ্লুয়েঞ্জাজাত নিউমোনিয়ায় শিশু মৃত্যুহার যথেষ্ট


সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণ নিয়ে মা-বাবারা বেশ উদ্বিগ্ন। এ ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় ভাইরাসটি মূলত শূকরে আক্রমণ শাণাতো। পরে তা পরিবর্তিত রূপে জীবজন্তু থেকে মানুষে এবং বর্তমানকালে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হচ্ছে বলে এ ভয়াবহ অবস্থা। ব‘তপক্ষে, রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সোয়াইন ফ্লু ঋতু পরিবর্তনকালীন ফ্লুর মতোই। ধরতে গেলে ঋতুকালীন ইনফ্লুয়েঞ্জাজাত নিউমোনিয়ায় শিশু মৃত্যুহার যথেষ্ট। তবুও সোয়াইন ফ্লু আতংক এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে মা-বাবার মনে অবস্থান নিয়েছে।

উপসর্গাদি
জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, কাঁপুনি ও ক্লান্তি। তবে যেসব লক্ষণ শিশুর জন্য বিপজ্জনক সংকেত বলে বিবেচনায় আনতে হবে যেসব হলঃ

১. দ্রুত শ্বাস, শ্বাসকষ্ট
২. ত্বকের বর্ণ নীলচে হয়ে উঠলে
৩. ঘুম ঘুম ভাব, সহজে জাগানো যাচ্ছে না
৪. ফ্লু থেকে সেরে উঠেছে- উন্নতির নমুনা দেখা যাওয়ার পর আবার জ্বর ও অতিরিক্ত কাশি দেখা গেলে
৫. জ্বরের সঙ্গে র‌্যাশ দেখা দিলে।

কীভাবে শিশুকে সোয়াইন ফ্লুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করবেন

সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। শিশু যদি ফ্লু দিয়ে অসুস্থ হয় তবে বাসাবাড়িতে অবস্থান করাবেন। শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে স্কুলে যাওয়া থেকে নিবৃত্ত রাখুন। ৩০ সেকেন্ড সময় ধরে সাবান দিয়ে পরিষ্কার পানিতে হাত ধোয়া, মুখ ধোয়া সকালে ও রাতে এবং প্রতিদিন গোসল।

যখনই শিশু হাঁচি-কাশি দিচ্ছে তখন টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করে মুখ ঢাকা হোক।

মা-বাবার জন্য মূল বক্তব্য

সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তরাও স্বাভাবিক নিয়মে সেরে ওঠে। অযথা আতংকিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ‘হাত ধোয়া হোক ধুয়ে নিন’ শিশুকে নিয়মিত স্নান করান- যদি দেখেন শিশু গলাব্যথা, মাথাব্যথা, জ্বর, শরীর ব্যথাসহ ফ্লু উপসর্গাদিতে ভুগছে, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।


*************************
ডাঃ প্রণব কুমার চৌধুরী
শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
দৈনিক যুগান্তর, ০৫ সেপ্টেম্বের ২০০৯।