কলোস্টমি রোগীরা সাধারণ কলোস্টমি ব্যাগ পেটের ওয়ালের সাথে লাগিয়ে রাখেন যার মধ্যে মাঝে মধ্যে পায়খানা ও গ্যাস জমা হয়। এ পদ্ধতির অসুবিধা হলো দিনে তিন-চারবার এটি পরিষ্কার করতে হয়। আমাদের খাদ্যনালীর মল জমা থাকে এবং প্রাকৃতিক নিয়মে খাদ্যনালী সয়ংক্রিয়ভাবে এগুলো বের করে দেয়। ইরিগেশন পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর নির্ভর করা হয় না। বিশেষ ধরনের একটি ব্যাগের ভেতর দুই লিটার সিদ্ধ পানি ভরে একটি পাইপের সাহায্যে কলোস্টমির মুখ দিয়ে খাদ্যনালীর ভেতরে ঢুকাতে হয়। এতে পায়খানা নরম হয় এবং খাদ্যনালীর বিশেষ ধরনের Peristaltic Movement-এর মাধ্যমে ভেতরের পায়খানা বেরিয়ে আসে। এই কাজটি টয়লেটের ভেতর করতে হবে। পাইপের একটি অংশ ‘ড্রেইনেজ পাইপ’ হিসেবে কাজ করে। যার মাধ্যমে পায়খানা পেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে এবং টয়লেটে চলে যাবে। এ কাজের জন্য একটি ব্যাগ ও একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্র দরকার যাতে একটি ব্যাগ ও একটি পাইপ থাকে যার নাম ইরিগেশন সেট। এ কাজটি সমাধান করতে রোগীর ৩০-৪৫ মিনিট সময় লাগে। এরপর তিনি গোসল সেরে সকালে কাজে বের হবেন। এতে রোগীর ২৪ ঘণ্টায় আর কোনো পায়খানা বা বায়ু এ পথে আর বের হবে না। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার জন্য রোগী টেনশনমুক্ত থাকতে পারে। এরপর কোনো কলোস্টমি ব্যাগ না লাগালেও রোগীর কোনোরূপ অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে কলোস্টমির মুখটি একটি প্লাগ দিয়ে বন্ধ করা যায়। যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কিছু বেরিয়ে আসতে না পারে। এ পদ্ধতি যে রোগীরা ব্যবহার করছেন তারা খুবই উপকৃত হয়েছেন।

*************************
অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম ফজলুল হক 
লেখকঃ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, কলোরেকটাল সার্জারি বিভাগ (অব.), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
চেম্বারঃ জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ৫৫, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা।
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯।