হাট-বাজারের ভিড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আনাজ তরকারির দোকনের সামনে হয়ত। হঠাৎ করেই, আগাম নোটিশ ছাড়াই মাথা খুব হালকা মনে হলো।

কি করবেন চট্‌জলদি?

পা দুটো আড়াআড়ি চেপে ধরুন। পেশীগুলো চেপে ধরুন।

মূর্ছা যাওয়ার এভাবে এড়াতে পারবেন।

দেখা গেছে অর্ধেক মানুষ জীবনের কোনও না কোন সময় মূর্ছা যান।

আমেরিকার এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ৫ লক্ষ আমেরিকান, এদের বেশির ভাগ ২৫-৪০ বছর বয়সী মহিলা হঠাৎ করে বসা থেকে উঠে দাঁড়ানোর সাথে সাথে নিয়মিত মূর্ছা যান। এদেশে এমন কোন পরিসংখ্যান আছে বলে জানা নেই।

এরকম কেউ যদি থাকেন যার মূর্ছা যাবার প্রবণতা আছে তৎক্ষণাৎ ডাক্তার দেখানো উচিত। মাসে যদি একবার এমন পতন ঘটে তাহলে চিকিৎসক দর্শন অবশ্য। হতে পারে তা হচ্ছে রক্তশূন্যতার জন্য, হঠাৎ রক্তের শর্করা কমে গিয়েও হতে পারে হ্নদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে, হ্নদনিষ্ত্র্নিয়া হতে পারে, আবার রক্তনালীর অন্যকোনও সমস্যার জন্যও মূর্ছা হতে পারে।

তবে স্বাস্থ্যের এমন কোনও সমস্যা যদি না থাকে অথচ মূর্ছা হয় মাঝে মধ্যে তখন একে এড়াতে আছে পরামর্শ।

গবেষকরা দেখেছেন পা আড়াআড়ি চেপে ধরলে ও পেশী টেনস্‌ বা শক্ত করলে মূর্ছা এড়ানো যায়- তৎক্ষণাৎ।

নেদারল্যান্ডে আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক ডক্টর আউটার উইলিং বলেন, মূর্ছাবোধী ওষুধ যেগুলো প্রায়ই তেমন কার্যকর হয় না এদের একটি ভাল বিকল্প হলো এই সহজ কৌশলটি। পার্টিতে গেলে অনেক সময় আমরা পা আড়াআড়ি চেপে দাঁড়াই, পশ্চিমা দেশে ককটেল পার্টিতে তা দেখা যা প্রায়শ, এজন্য ডাঃ উইলিং এব নামকরণ করেছেন ‘ককটেল পার্টি পসচার’। এমন দেহভঙ্গী করে ফেলাও সহজ, করাও যায় লোকচক্ষুর আগোচরে।’ বলেন ডাঃ উইলিং।

কৌশলটা এবার বর্ণনা করা ভাল। বিশদভাবে।

১। দাঁড়ানো অবস্থায় এক পায়ের উপর অন্য পা আড়াআড়ি করে রাখুন। দেখবেন যেন দুটো পায়ের পাতাই মেঝেতে থাকে।

২। পায়ের পেশী শক্ত করুনঃ দুটো পা’ই একত্রে শক্ত করে চেপে ধরুন। এমন শক্ত করে চেপে ধরুন যে ঝড়ের প্রচন্ড বাতাসে পাঁচ’শ টাকার নোট দু’পায়ে চেপে ধরেছেন জোরে যেন উড়ে না যায়।

৩। নিতম্ব ও পেটের পেশী শক্ত করুনঃ এ সময় স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস করুন যতক্ষণ পর্যন্ত উপসর্গ চলে যায়। একে ধরে রাখুন ৩০ সেকেন্ড।

এই কৌশল প্রয়োগ করার পরও যদি মূর্ছার উপসর্গ থাকে, বসে পড় ন তা না হলে চিৎকরে শুয়ে পড়ে পা, নিতম্ব ও পেটের পেশী শক্ত করুন। ফল হবে।

**************************
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
ডাইরেক্টর, ল্যাব সার্ভিস, বারডেম, ঢাকা
দৈনিক ইত্তেফাক, ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯।