অধিক খাদ্যশক্তি সমৃদ্ধ খেজুর

রোজাদারদের ইফতারের খাদ্যের মধ্যে খেজুর অন্যতম। খেজুরের পুষ্টিগুণ অধিকাংশ খাদ্যের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে খাদ্যশক্তি খুব বেশি। সারাদিন রোজা থাকার পর শরীর খুব দুর্বল হয়। এতে প্রচুর খাদ্যশক্তি থাকায় দুর্বলতা দূর হয়। খেজুর স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি করে। রোজাদারের দেহে গস্নুকোজের প্রচুর দরকার। খেজুরে প্রচুর গস্নুকোজ থাকায় এ ঘাটতি পূরণ করে। মোট খনিজ পদার্থের সব ফলের চেয়ে বেশি। আমিষের পরিমাণ অধিকাংশ ফলের চেয়ে বেশি। শর্করা সব ফরের চেয়ে ৩০ গুণ থেকে ৩ গুণ বেশি। ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কাগজি লেবু ছাড়া সব ফলের চেয়ে বেশি। আয়রণের পরিমাণ নারকেল ছাড়া অন্য সব ফলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। খাদ্যশক্তি নারকেল ছাড়া অন্যসব ফলের চেয়ে অনেক বেশি। এক কথায় সমস্ত ফলের চেয়ে খেজুরের পুষ্টিগুণ অতুলনীয়। এ জন্য রোজাদারের সারা দিনের কিছু খাদ্য ঘাটতি পূরণের জন্য দৈনিক ১০০ গ্রাম খেজুর খাওয়া প্রয়োজন। নিম্নে প্রতি ১০০ গ্রাম আহরোপযোগী খেজুরের পুষ্টি পরিমাণ উল্লেখ করা হলো- পানির অংশ ১৮.০ গ্রাম, মোট খনিজ পদার্থ ১.৭ গ্রাম, আমিষ ২.২ গ্রাম, শর্করা ৭৭.৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৬৩.০ মিলিগ্রাম, আয়রন ৭.৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.১০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি অল্প, খাদ্যশক্তি ৩২৪ কিলো ক্যালরি। তবে এই পুষ্ঠিান খেজুরের জাত ও উৎপাদনের স্থানের পার্থক্যের জন্য কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।


ভিটামিন সি ও আয়রণের অভাব পূরণে জলপাই

জলপাই আমাদের দেশের একটি অবহেলিত ফল হলেও এটি যথেষ্ট পুষ্টিসমৃদ্ধ। এতে মোট খনিজ পদার্থ অধিকাংশ ফলের চেয়ে বেশি। ক্যালসিয়ামের পরিমাণ আম (পাকা), পেঁপে (পাকা), আনারস, পেয়ারা, লিচু, বরই, ডাবের পানি, তরমুজ ও কামরাঙ্গার চেয়ে বেশি। আয়রনের পরিমাণ আম (পাকা), কাঁঠাল (পাকা),কলা (পাকা) পেঁপে (পাঁকা), আনারস, পেয়ারা, লিচু বরই, কমলা, জাম্বুরা, লেবু, ডাবের পানি, বাংগি, বেল, আমলকী, কামরাঙ্গা, আপেল ও আঙ্গুরের চেয়ে বেশি আছে। জলপাইয়ের তেলে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ আছে। পাকা জলপাইয়ে ২৫-৪০% তেল হয়। ভিটামিন ‘সি’ অধিকাংশ ফলের চেয়ে বেশি। দৈনিক ১০০ গ্রাম জলপাই খেলে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিনের ভিটামিন ‘সি’-এর অভাব পূরণ হবে। খাদ্যশক্তিও বেশকিছু ফলের চেয়ে বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম আহারোপযোগী জলপাইয়ে নিম্নলিখিত পরিমাণ পুষ্টি উপাদান থাকে।

জলীয় অংশ ৮২.০ গ্রাম, মোট খনিজ পদার্থ ০.৭ গ্রাম, আমিষ ১.০ গ্রাম, শর্করা ১৬.২ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২২.০ মিলিগ্রাম, আয়রন ৩.১ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৩.১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.০৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.০১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৩৯ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৭০ কিলোক্যালরি।


**************************
ফরহাদ আহমেদ
দৈনিক ইত্তেফাক, ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯।